Home » পপুলার ডেস্টিনেশন » কলকাতার পথে পথে
সল্টলেক

কলকাতার পথে পথে

সল্টলেক

সল্টলেক

রকিবুল হক রকি
জিপ থেকে নেমেই টের পাচ্ছিলাম ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা কাকে বলে। বাংলাদেশে ফাগুন মাস, গরম পড়তে শুরু করে দিয়েছে, কিন্তু দার্জিলিংয়ে কনকনে ঠাণ্ডা। শীতে কাঁপতে কাঁপতে দুটো দিন পার করলাম। চারপাশের সুবিস্তৃত পাহাড়-পর্বত কিছুই ভালো করে দেখতে পারলাম না মেঘ-কুয়াশার কারণে। তাই ভাবলাম, এবার ভারতের অন্য জায়গায় যাব। সময়-সুবিধা মিলিয়ে ঠিক করলাম পরের গন্তব্য—কলকাতা।

দার্জিলিং থেকে কলকাতা কয়েকভাবে যাওয়া যায়। যেভাবেই যাই না কেন, প্রথমে আসতে হবে শিলিগুড়ি। সেখান থেকে প্লেন, বাস বা ট্রেন। ইচ্ছে ছিল ট্রেনে যাওয়ার, কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানলাম সামনের এক সপ্তাহ ট্রেনের সব সিট বুকিং হয়ে আছে। তাই বাস ছাড়া আর উপায় নেই। শিলিগুড়ি জংশন থেকে ভলভোর রয়েল ক্রুজার বাসের টিকিট কেটে ফেললাম। ভাড়া এক হাজার রুপি করে। সন্ধ্যা ৭টায় বাস ছাড়ল, বেশ আরামদায়ক। বাসের টিভিতে হিন্দি মুভি ছাড়ল, হিন্দি ভালো বুঝি না, তাই টিভির পর্দা থেকে চোখ সরিয়ে নিয়ে দিলাম এক ঘুম।
মাঝে দু’বার যাত্রাবিরতি দেয়া হলো। প্রায় সকাল ৮টার দিকে চোখ মেলে বাইরে তাকালাম। এসে গেছি কলকাতা—ওপারের বাংলা। ভবনের গঠন কাঠামোতে আমাদের পুরনো ঢাকার সঙ্গে অনেক মিল, পার্থক্য শুধু রাস্তাতে। প্রধান সড়কগুলো বেশ চওড়া আর পরিষ্কার।

এই ব্যাটা আবার সিংহের ঠিক উল্টো, ক্যামেরার দিকে তাকালোই না

এই ব্যাটা আবার সিংহের ঠিক উল্টো, ক্যামেরার দিকে তাকালোই না

প্রায় ১৪ ঘণ্টার লম্বা সফর সেরে নামলাম ধর্মতলার এসপ্লানেডে। শরীর চাইছে একটা বিছানায় লম্বা হয়ে শুয়ে পড়তে। একটা ট্যাক্সিতে উঠে পড়ে বললাম কাছাকাছি কোনো ভালো হোটেলে নিয়ে যেতে। কথায় কথায় ড্রাইভারকে জানালাম আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি, মুসলিম। সে নিয়ে গেল নিউমার্কেটের পেছনে তালতলার নিউ সিটি হোটেলে। এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা বলে রাখি—কলকাতায় ট্যাক্সির মিটারের নিয়মটা সম্পূর্ণ আলাদা। মিটারে যত টাকা উঠবে, ভাড়া দিতে হবে তার দ্বিগুণ, সঙ্গে আরও বাড়তি চার রুপি।
হোটেলে সিঙ্গেল রুম নিলাম। ভাড়া প্রতিদিন ৯০০ রুপি করে ঠিক হলো। টাকার সঙ্গে রুপির অর্থনৈতিক পার্থক্য হচ্ছে ১০০ টাকায় ৫৭ রুপি, সেই হিসাবে হোটেল রুমের ভাড়া কিছুটা বেশিই মনে হলো। আরও কয়েকটা হোটেল ঘুরে আরেকটু সস্তা পেতে পারতাম, কিন্তু ছোটাছুটিতে মন সায় দিচ্ছিল না। এই হোটেলেই আস্তানা গাড়লাম।
গোসল করে হালকা একটা ঘুম দিলাম। দেশের বাইরে সম্পূর্ণ নতুন জায়গা—একা একাই এসেছি। ইন্টারনেট ঘেঁটে কোথায় কোথায় ঘুরব, সেটা আগে থেকেই ঠিক করে রাখা। তাও খুব কাছের একজন বড় ভাই কলকাতার স্থানীয় একজনের মোবাইল নাম্বার দিয়েছিলেন, যাতে হঠাত্ কোনো বিপদ বা দরকারে পড়লে তাকে জানাই। ভদ্রলোকের নাম মোঃ ফজলুর রহমান, ডাকনাম খোকন। ফোন দিলাম। বেশ অমায়িক মানুষ। ফোনেই জানলাম তিনি দেহাটি এফপি স্কুলের শিক্ষক, আজকে জনা চল্লিশেক স্কুলের শিক্ষার্থী নিয়ে তিনি বেরিয়েছেন শিক্ষা সফরে। আমাকে আমন্ত্রণ জানালেন ওনার সঙ্গে যোগ দিতে। আমার জন্য বেশ ভালো হলো, ক্যামেরাটা ঘাড়ে ঝুলিয়ে বেরিয়ে পড়লাম হোটেল থেকে—গন্তব্য আলীপুর চিড়িয়াখানা।

নাম ভুলে গেছি)

নাম ভুলে গেছি)

বিশ রুপি দিয়ে টিকিট কেটে ভেতরে ঢুকলাম। গেটের সামনেই খোকন ভাই অপেক্ষা করছিলেন। কণ্ঠস্বরের সঙ্গে তার আচার-আচরণেরও মিল পেলাম—খুব আন্তরিক। তিনি এখন তার স্কুলের খুদে ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে পুরো চিড়িয়াখানাটা ঘুরে বেড়াবেন। তারপর যাবেন কলকাতা ন্যাশনাল মিউজিয়ামে। আমিও তার ছাত্র বনে গেলাম। পেছন পেছন ঘুরতে লাগলাম আর শুনলাম কোন পাখির কোন নাম, কোন পশুর কোন অজানা বৈশিষ্ট্য।
৪৫ একর জায়গা নিয়ে অবস্থিত এই চিড়িয়াখানাটি ১৮৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত। পুরোটা একপাক ঘুরে দেখে এবার একটু বিশ্রাম, দুপুরের খাবার খেয়ে নেয়া।
এবার যেতে হবে ইন্ডিয়ান জাদুঘরে। জাদুঘরের বিষয়ে পরে বলব, তবে সেখানে যাওয়ার পথে আরও কয়েকটা দর্শনীয় জায়গায় চট করে চোখ বোলানো হয়ে গেল। সেগুলো হচ্ছে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, ক্রিকেটের অনেক রেকর্ডের জন্মস্থান ইডেন গার্ডেন স্টেডিয়াম ও হাওড়া সেতু। মহারানী ভিক্টোরিয়ার স্মরণে প্রতিষ্ঠিত ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল ভারতের অনন্য স্থাপনার মধ্যে একটি। আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্ট সিটি হলের আদলে গড়ে তোলা এই স্থাপত্যশৈলীর নির্মাণকাজ ১৯০৬ সালে শুরু হয় আর উদ্বোধন করা হয় ১৯২৬ সালে। বর্তমানে এটি একটি মিউজিয়াম এবং পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণকেন্দ্র।
এবার পালা কলকাতার চৌরঙ্গীতে অবস্থিত ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামের। জানিয়ে রাখা ভালো, এটি ভারতের সব থেকে বড় মিউজিয়াম, ২০০৪ সালের হিসাব অনুযায়ী এখানে এক লক্ষাধিক পুরাকীর্তি, ফসিল, কঙ্কাল, গহনা, পেইন্টিংয়ের নিদর্শন আছে। গেটের কাছে গিয়ে থমকে দাঁড়ালাম—সর্বসাধারণের জন্য টিকিটের মূল্য ১০ রুপি ও বিদেশিদের জন্য ১৫০ রুপি। এখানে সাহায্য করলেন খোকন ভাই। তিনি আমার জন্য ১০ রুপি দিয়ে একটা টিকিট কেটে আনলেন।
মিউজিয়ামে ঢুকেই এর বিশালতা আর নিদর্শনের নমুনা দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলাম। সঙ্গে সঙ্গে ক্যামেরা বের করে ছবি তোলা শুরু করলাম। আর কান খোলা রেখে শুনতে লাগলাম খোকন ভাই ওনার শিক্ষার্থীদের খুব দক্ষতার সঙ্গে একটার পর একটা ইতিহাস বোঝাচ্ছেন। ওনার বলার ধরন বেশ, মন দিয়ে শুনলাম। আর মিলিয়ে মিলিয়ে মিউজিয়ামে ঘুরতে লাগলাম।

ভিক্টোরিয়া ম্যামোরিয়াল

ভিক্টোরিয়া ম্যামোরিয়াল

বিপত্তি হলো প্রাণী জাদুঘরে ঢুকে। ক্যামেরা দেখেই একজন সিকিউরিটি ধমকে উঠলেন—‘ক্যামেরা নিয়ে এসছেন কেন? যান কাউন্টারে রেখে আসুন। ব্যাগও রেখে আসুন। নইলে ফাইন হয়ে যাবে কিন্তু।’ কী আর করা, কাউন্টারে আমার ব্যাগসহ ক্যামেরা রেখে এলাম।
ফিরে এসে দেখি আরেক ঝামেলা। খোকন ভাই এবং তার সঙ্গের ৩৫ জন ছেলেমেয়েকে খুঁজেই পাচ্ছি না। এত বড় মিউজিয়ামে কোথায় হারিয়ে গেলেন তারা? বলা ভালো আমিই হারিয়ে গেছি। থাক, একা একাই ঘুরি। একটার পর একটা বিশাল বিশাল রুম, এতে ঠাসা ইতিহাসের চমত্কার সব নিদর্শন। সময়টা বেশ কাটল।
মিউজিয়াম থেকে বের হয়ে গরমে প্রাণ আইঢাই করছিল। তখন বসন্তকাল হলেও কলকাতায় খুব গরম পড়েছিল। ফুটপাতে বিক্রি হচ্ছিল মোসাম্বি, আনার, আঙুরের রস। বেশ পরিষ্কার এবং কোনো ভেজাল নেই। অর্ডার দিলে সামনাসামনিই ফল চিপে রস বের করে, চাইলে সঙ্গে দেয় বিট লবণ আর বরফ। দুই গ্লাস খেয়ে বেশ আরাম লাগছিল। খোকন ভাইকে ফোন দিয়ে জানলাম তিনি আরও আধ ঘণ্টা পরে বের হবেন তার কচি-কাঁচাদের নিয়ে। মিউজিয়ামের পাশেই দেখলাম নিউ মার্কেট, মেট্রো রেলস্টেশন। বাকি আধা ঘণ্টা হাঁটাহাঁটি করেই কাটালাম। খোকন ভাই মিউজিয়াম থেকে বেরুলে তার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেলাম হোটেলে। বিকাল হয়ে গিয়েছিল। হোটেলে একটা ঘুম দিলাম। উঠে গেলাম খাবার খেতে নাজ হোটেলে। মুসলিম মালিকানার বলে আইটেমে গরুর মাংস বেশি। ভরপেট গরুর চাপ, লুচি খেয়ে ক্যামেরা নিয়ে বের হলাম রাতের কলকাতার ছবি তুলতে।

ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামের মূলভবন

ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামের মূলভবন

পরের দিন গেলাম সল্টলেকের বিগবাজারে, থ্রিডি মুভি দেখতে। আমাদের দেশে এখনও কোনো থ্রিডি মুভি দেখার হল নেই, তাই এবারের অভিজ্ঞতাই প্রথম। মুভির ক্যারেক্টারগুলো যেন একেবারে চোখের সামনেই চলে আসে। মন্দ লাগেনি, টিকিটের ১১০ রুপি উসুল।
কলকাতায় একা একা বেড়াতে যে সমস্যাটা সবচেয়ে বড় বলে মনে হয়েছে, সেটা হচ্ছে যাতায়াত। রাস্তায় প্রচুর বাস চলছে, ট্রামও আছে। কিন্তু গন্তব্যের সঙ্গে মিল রেখে বাসে উঠতে বেশ ঝামেলা হচ্ছিল। কলকাতার রাস্তা অধিকাংশই একমুখী, তাই রাস্তাও গুলিয়ে ফেলছিলাম। একবার তো তালতলার বাসের বদলে উঠে বসলাম ত্যাড়াতলার বাসে। কন্ডাক্টরকে বলাতে সে বলল, আমার বাচনভঙ্গির কারণে সে নাকি ত্যাড়াতলাই শুনেছে। পরে সিদ্ধান্ত নিলাম ট্যাক্সিই ভরসা। অনেক টাকা গচ্চা যাবে, কিন্তু ঝামেলায় পড়তে হবে না।
বেলা ১১টায় মুভি দেখে এবার ঠিক করলাম যাব সায়েন্স সিটিতে। কিন্তু সেদিন রোববার, সায়েন্স সিটি বন্ধ থাকতে পারে। দোটানায় পড়ে আর সেখানে গেলাম না, তার বদলে সল্টলেকের পাশেই নিক্কোপার্কে গেলাম। এটা আমাদের দেশের নন্দন পার্ক কিংবা ফ্যান্টাসি কিংডমের মতোই, কিন্তু রাইড অনেক বেশি। কিছুক্ষণ ঘুরে, রাইডে চড়ে ফিরে এলাম ধর্মতলায়। এখান থেকে মুর্শিদাবাদ যাওয়ার টিকিট কাটতে হবে। কারণ একটাই, বাংলার শেষ নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার স্মৃতিবিজড়িত এই মুর্শিদাবাদ দেখার আগ্রহ আমার অনেক দিনের। কিন্তু টিকিট কাটতে গিয়ে মনটাই খারাপ হয়ে গেল। কারণ সামনের মঙ্গলবার পুরো পশ্চিমবঙ্গে ধর্মঘট, সেদিন কোনো বাস চলবে না।
আমি ঠিক করেছিলাম সোমবার সকালে মুর্শিদাবাদে পৌঁছাব। পরেরদিন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শিলিগুড়ির বাসে উঠে বুধবার সকালে সেখানে পৌঁছাব। আমার ঢাকায় ফেরার রিটার্ন টিকিট বুধবারেই কাটা, সেদিন যেভাবেই হোক আমাকে বাসে উঠতে হবে। সঙ্গের টাকাও প্রায় ফুরিয়ে আসছে, এই বিদেশ-বিভুঁইয়ে কার কাছ থেকেই বা টাকার ধার চাইব? তাই সবদিক চিন্তা করে মুর্শিদাবাদ যাওয়া বাদ দিলাম। সোমবার সন্ধ্যায় বাসে উঠে শিলিগুড়ি পৌঁছাব মঙ্গলবার ভোরে। ধর্মঘট হওয়ার কারণে সেদিন আর কোথাও যেতে পারব না, পরদিন বুধবার ঢাকার বাসে উঠতে হবে। ধর্মঘট সব মিলিয়ে আমার দুটো দিন নষ্ট করে দিল। সব সময় তো আর এখানে আসা হবে না, তাই পুরো এলাকা ঘুরতে না পেরে মনটাই বেজার হয়ে গেল।

নিক্কোপার্কের গেইট

নিক্কোপার্কের গেইট

পরের দিন সোমবার। ভাবলাম আজকে কলকাতা শহরের রাস্তায় রাস্তায় হাঁটব। সুনীল, সমরেশ, শীর্ষেন্দুর উপন্যাসের কলকাতার সঙ্গে বাস্তবের কলকাতাকে মিলিয়ে দেখব।
ক্যামেরা আর বের করলাম না, করে লাভও নেই। কারণ আগের দিন সন্ধ্যায় এক সাইবার ক্যাফেতে ঢুকেছিলাম ক্যামেরার মেমোরি কার্ড থেকে ছবিগুলো পেনড্রাইভে ট্রান্সফার করতে। সেই দোকানের কম্পিউটারে কী জানি কী ভাইরাস ছিল—মেমোরি কার্ড পুরো ক্রাশ। কম্পিউটার বা ক্যামেরা, কোনোটাতেই আর ছবি দেখা যায় না। পরে অবশ্য দেশে ফিরে ছবি উদ্ধার করতে পেরেছিলাম।
হাঁটতে হাঁটতে ঘুরে দেখলাম মহাত্মা গান্ধী রোড, মারকুইস স্ট্রিট, পার্ক স্ট্রিট, চৌরঙ্গী, কলেজ স্ট্রিটসহ আরও অনেক রাস্তা। প্রতিটা রাস্তায় প্রাচীন কলকাতা শহরের নিদর্শন হিসেবে রয়েছে ব্রিটিশ আমলের সব সুরম্য ভবন। ব্রিটিশদের এককালীন রাজধানী ছিল বলেই তারা বেশ প্ল্যান করে শহরটাকে সাজিয়ে ছিল। হাঁটাহাঁটিতে ভালোই লাগছিল।
এরই মধ্যে আমি যে বাস থেকে টিকিট কেটেছিলাম, তারা ফোন করে জানালো পরের দিন ধর্মঘটের কারণে বাস সন্ধ্যা ৭টার বদলে ছাড়বে বিকাল ৫টায়। ঘড়িতে দেখলাম ৪টা বেজে গেছে। তাড়াহুড়ো করে হোটেলে ফিরলাম ব্যাগ গোছাতে।
মন কেমন জানি ফাঁকা ফাঁকা লাগছিল, আরও বেশি সময় ঘুরতে না পারার কারণে নাকি কলকাতাকে হুট করে ছেড়ে দেয়ার কারণে, বুঝলাম না। বাসে উঠলাম, একটু পরেই হিন্দি মুভি ছাড়ল। টিভির পর্দা থেকে চোখ সরিয়ে জানালা দিয়ে সন্ধ্যার কলকাতা দেখতে দেখতে এই প্রাচীন শহরটাকে বিদায় জানালাম।