Home » বাছাইকৃত » কী দেখবেন কক্সবাজারে

কী দেখবেন কক্সবাজারে

সুজাউদ্দিন রুবেল
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের শানিত রূপ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার। একদিকে ১২০ কিলোমিটারের সমুদ্র সৈকত ঘিরে প্রচীন ঐতিহ্য এবং দর্শনীয় স্থানের কারণে প্রতিবছর কক্সবাজারে ছুটে আসেন বিপুল সংখ্যক পর্যটক। এখানে সমুদ্র সৈকতে ভ্রমণের পাশাপাশি পর্যটকের ভ্রমণের জন্য রয়েছে বিনোদনের আকর্ষণীয় মাধ্যম।

Cox's Bazarকক্সবাজার জেলার তথ্য

কক্সবাজারের আদি নাম পালংকী। ক্যাপ্টেন হিরাম কক্স নামের এক কর্মকর্তা ১৭৯৯ সালে এখানে এসে একটি বাজার স্থাপন করেন আর তার নাম অনুসারে কক্স সাহেবের বাজার হতে কক্সবাজার এর নাম করণ করা হয়।

কক্সবাজারের উত্তরে চট্টগ্রাম, পূর্বে-বান্দরবান পার্বত্য জেলা ও মিয়ানমার, পশ্চিম ও দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত।

২৪৯১.৮৬ বর্গ কিলোমিটার আয়তনে এ জেলার রয়েছে ৫টি নদী। এগুলো হল, মাতামুহুরী, বাঁকখালী, রেজু, কোহালিয়া ও নাফনদী ।

দ্বীপ রয়েছে ৫টি। এ গুলো হলো- মহেশখালী, কুতুবদিয়া, সোনাদিয়া, শাহ্পরীর দ্বীপ ও সেন্টমার্টিন।

প্রাচীন ঐতিহ্য

কক্সবাজার ভ্রমণে আসা পর্যটকরা কক্সবাজারের প্রচীন ঐতিহ্য সমুহ ঘুরে দেখেন। এর মধ্যে আলোচিত হচ্ছে আজগবি মসজিদ। এটি ১৬০০-১৭০০ খৃষ্টাব্দে শাহ সুজার আমলে তৈরি হয়েছিল। এটি চৌধুরী পাড়া মসজিদ হিসেবেও পরিচিত। কক্সবাজার পৌরসভার বিজিবি ক্যাম্পের উত্তর দিকে এটি অবস্থিত। রিকশা টমটম যোগে ওখানে যাওয়া যায়। কক্সবাজার পৌরসভার গেট থেকে ভাড়া পড়বে ৩০ টাকা।

প্যাগোড়া (জাদী)

১৭৯০ ইংরেজি সালের দিকে বার্মিজরা আরাকান বিজয়ের পর কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় রাখাইন সম্প্রদায় এটি নির্মাণ করে। তারা এটিকে স্মৃতিচিহ্ন বলে। কক্সবাজার সদর, রামু ও টেকনাফের পাহাড় বা উচুঁ টিলায় এ ধরনের অনেক প্যাগোড়া রয়েছে।

অগ্গ মেধা বৌদ্ধ ক্যাং

কক্সবাজার সদরে ছোট বড় মিলিয়ে ৭টিরও বেশি বৌদ্ধ ক্যাং রয়েছে। আগ্গা মেধা ক্যাং ও মাহাসিংদোগীক্যাং সবচেয়ে বড়। এ সবে স্থাপিত বৌদ্ধ মূর্তিগুলো দেখবার মতো। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদেরধর্মীয় উৎসব বৌদ্ধ পূর্ণিমা, প্রবারণা পূর্ণিমা ও বিষু উৎসব ক্যাং এ উদযাপন হয়।

রামকোট তীর্থধাম

এটি রামকোট বনাশ্রমের পার্শ্বের পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত। ৯০১ বাংলা সনে স্থাপিত। কথিত আছে রাম-সীতা বনবাসকালে এই রামকোটে অবস্থান করেছিল। তীর্থধামে মন্দিরের পাশাপাশি আলাদা একটিবৌদ্ধ বিহারে ধ্যানমগ্ন ছোট একটি বৌদ্ধমূর্তিও রয়েছে। জনশ্রুতি আছে, দু’টিধর্ম পাশাপাশি শান্তিতেসহাবস্থানের প্রমাণ স্বরূপ সম্রাট অশোকের সময়ে এইমূর্তি স্থাপিত হয়।

ছেংখাইব ক্যাং

রামুর শ্রীকুলস্থ বাঁকখালী নদীর তীরেছেংখাইব ক্যাং (বৌদ্ধ বিহার) অবস্থিত। এ বৌদ্ধ বিহারে নানা রকম নকশা খঁচিত আসন ও কাঁচের পাত্রে সংরক্ষিত ১০টিরও বেশি পিতল এবং আরো অনেক শ্বেতপাথরের মূর্তি শোভা পাচ্ছে। সব মিলে রামু থানায় ২৩টি বৌদ্ধ বিহারে শতাধিকমূল্যবান বৌদ্ধ মূর্তি রয়েছে।

কানা রাজার সুড়ঙ্গ

উখিয়া থানার জালিয়া পালং ইউনিয়নেপাটুয়ার টেক সৈকতের কাছে নিদানিয়া পাহাড়ের মধ্যে এ সুড়ংগ বা গর্ত। সুড়ংগেরব্যাস ১২ও ১২ একটা বড় ট্রাক অনায়াসে সুড়ংগ পথে প্রবেশকরতে পারবে। কথিত আছে, জনৈক মগ সম্প্রদায়ের কানা রাজার (এক চোখ অন্ধ) শাসন আমলে আত্মরক্ষার জন্যেএই সুড়ংগ নির্মাণ করেছিল।

হিমছড়ি

হিমছড়ি

মাথিনের কূপ

উপন্যাসিক ধীরাজ ভট্টাচার্য উনবিংশশতাব্দীর প্রথমদিকে এস.আই. হিসাবে টেকনাফ থানায় বদলী হয়ে এসেছিলেন। তখনটেকনাফের নাম করা রাখাইন জমিদার ওয়াংথিনের একমাত্র আদুরে কন্য মাথিন থানারসামনের কুয়া থেকে নিয়মিত পানি নিতে আসতো। সকাল বিকাল পানি নিতে আসা ছিলমাথিনের সখ। পুলিশ কর্মকর্তা প্রতিদিন থানার বারান্দায় বসে বসে অপূর্বসুন্দরী মাথিনের পানি নিতে আসা যাওয়া দেখতেন। আস্তেআস্তে ধীরাজভট্টাচার্যের সংগে মাথিনের চোখা চোখি এবং পরে তা’ প্রেমে পরিণত হয়। বিয়েকরতে ব্যর্থ হলে, মাথিন বিচ্ছেদের জ্বালায় তিলে তিলে দগ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করে। মাথিনের অতৃপ্ত প্রেমের ইতিহাসের নীরব সাক্ষী মাথিনের কূপ। টেকনাফথানা প্রাঙ্গণে এ কূপের অবস্থান।

বিশিষ্ট সাংবাদিক আবদুল কুদ্দুস রানা ১৯৯৪সালে বাঁশের তৈরি কূপটি সংস্কারের উদ্যোগ নেন। পরবর্তীতে জেলা পরিষদ থেকেএদিকে সংস্কার করা হয়। এখন কূপটি দেখতে খুবই আকর্ষনীয়। সেখানে প্রেমেরসংক্ষিপ্ত ইতিহাসও লেখা রয়েছে। ইদানীং উল্লিখিত কাহিনী অবলম্বনে স্থানীয়শিল্পীদের নিয়ে একটি স্বল্প দৈর্ঘ্য চলচিত্রও নির্মিত হয়েছে।

‘মা’ অষ্টভূজা

মহেশখালী আদিনাথশিব মন্দিরের পার্শ্বে ‘অষ্টভূজা’ নামে অপর একটি বিগ্রের মূর্তি রয়েছে। কক্সবাজারকস্তুরাঘাট হতে নৌযানে ৪৫-৫৫ মিনিট আর স্পিডবোটে ১৫-১৮ মিনিট সময় লাগে। মহেশখালীর গোরকঘাটা জেটি হতে রিকশা যোগে আদিনাথ মন্দির যাওয়া যায়।

দর্শনীয় স্থানসমূহ

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত, কক্সবাজার শহরের মাহাসিংদোগ্রী বৌদ্ধ, বার্মিজ মার্কেট, অজ্ঞমেধা ক্যং, রাডার স্টেশন, হিলটপ সার্কিট হাউজ, হিমছড়ি ঝর্ণা ও সমুদ্র সৈকত, রামুর বৌদ্ধ বিহার, রাবার বাগান, চকরিয়াস্থ ডুলাহাজরা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক, টেকনাফের সমুদ্র সৈকত, মথিনের কূপ, সেন্টমাটিন প্রবালদ্বীপ, ছেঁড়াদ্বীপ, মহেশখালী জেটি, আদিনাথ মন্দির, সোনাদিয়া দ্বীপ, কুতুবদিয়া বাতিঘর, উখিয়ার ইনানী সমুদ্র সৈকত, কানা রাজার সুড়ঙ্গ।

কোথায় থাকবেন

কক্সবাজারে রয়েছে পর্যটকের জন্য সাড়ে ৪ শতাধিক আবাসিক হোটেল মোটেল, রিসোর্ট এবং কটেজ। এর মধ্যে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন কর্তৃক পরিচালিত মোটেল শৈবাল (ফোন -০৩৪১-৬৩২৭৪),

তারকা মানের সীগাল হোটেল (ফোন নং-০৩৪১-৬২৪৮০-৯১)

হোটেল সি- প্যালেস (ফান নং-০৩৪১-৬৩৬৯২,৬৩৭৯২,৬৩৭৯৪,৬৩৮২৬)

হোটেল সি- ক্রাউন (০৩৪১-৬৪৭৯৫, ০৩৪১-৬৪৪৭৪, ০১৮১৭ ০৮৯৪২০)

হোটেল মিডিয়া ইন্টার ন্যাশনাল (০৩৪১-৬২৮৮১-৮৫, ৬২৮৮১-৮৫)

হোটেল ওসেন প্যরাডাইস লি. (০১৯৩৮৮৪৬৭৫৩) উল্লেখ্যযোগ্য।

এখানে এক রাত্রী যাপনের জন্য রয়েছে ১ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৬০ হাজার টাকা দামের কক্ষ।

কক্সবাজারে সড়ক পথে আসা-যাওয়া সম্পর্কিত তথ্য

বাসযোগে ঢাকা গাবতলী বাস টার্মিনাল হতে কক্সবাজার ৪৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ পূর্বে অবস্থিত। ঢাকা থেকে সৌদিয়া-এস আলম মার্সিডিজ বেন্জ, গ্রিন লাইন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী পরিবহন, সোহাগ পরিবহন, এস.আলম পরিবহন, মডার্ণ লাইন, শাহ্ বাহাদুর, সেন্টমার্টিন, সোদিয়া পরিবহনসহ বিভিন্ন বাসে সব সময় আসা যায়। এতে এসি, নন এসি বাস রয়েছে। ভাড়া পড়বে ৭০০ টাকা থেকে ২০০০ টাকার মধ্যে।

আকাশ পথে কক্সবাজার আসা – যাওয়াসম্পর্কিত তথ্য : নিয়মিত রিজেন্ট এয়ারলাইনস, নভোএয়ার, ইউনাইটেড এয়ার ওয়েজসহ অন্যান্য বিমান আসা যাওয়া করে। ঢাকা কক্সবাজার-ভাড়া ৭ হাজার টাকা থেকে ৯ হাজার টাকা। সূত্র : সময়টিভি