Home » ফিচার » চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতির মিনার

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতির মিনার

cu-monumentচারদিকে সবুজে ঘেরা কাঁটা পাহাড়ের পিচঢালা রাস্তা। সুন্দর করে যতটা সোজা পারে চলে গেছে পাহাড়ের বুকচিড়ে, মনে হয় এ পথ শেষ হবার নয়…। এ পথ বিস্তৃত হলো এবং দুটি ভাগ হয়ে চলে গেছে দুদিকে। আর সেই বাঁকে রেখে গেলো এক অপরূপ সৌন্দর্যমণ্ডিত এক মিনার। যেনো স্মৃতির মিনার আকাশ ছুঁতে চায়। মিনারটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি)। অন্যতম আকর্ষনীয় ও অপূর্ব আকাশচুম্বি শহীদ মিনার যেনো এটি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ।

বর্তমান এ শহীদ মিনারের স্থপতি খ্যাতিমান শিল্পী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের প্রফেসর সৈয়দ আবদুল্লাহ খালেদ। যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার স্থপতিও।

ভোর বেলা পাখপাখালির কলরবে এ মিনারে প্রাণের সঞ্চার ঘটে। আর কিছুক্ষণ পর সূর্য উঁকি দেয় গাছের আড়াল থেকে। সকালে হাঁটতে বের হওয়া ছাত্রছাত্রীদের পদচারণায় এই স্মৃতির মিনার দোলে ওঠে প্রভাত ফেরির গানে। কেঁপে ওঠে বায়ান্ন-এর স্মৃতিচারণায়। জ্বলে ওঠে ভাষা আন্দোলনের চেতনায়। আর নুয়ে পড়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধায়। ধীরে ধীরে বেলা গড়াতে থাকে আর এই ত্রিকোণ মিনার ঘেঁষে থাকা তিনটি রাস্তায় শিক্ষার্থীদের পদচারণা বাড়তে থাকে।

দুপুরে তপ্ত রোদে মিনারটির সু-উচ্চে থাকা স্টিলের আনারসটি ঝকমক করতে থাকে। আর কংক্রিকেটের কাঠামো যেনো ভাষা শহীদদের রক্তের তেজস্বী আগুনে জ্বলে ওঠে প্রতিবাদ মুখর হয়ে । মিনারটির মাঝে থাকা কুয়াটি দেখে মনে হয় সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারের মতো ভালবাসি বাংলাভাষা ও ভাষার মর্যাদা রক্ষার্থে দিতে পারি আরো এক সাগর রক্ত।

শহীদ মিনারটি চতুর্দিকে লোহার গ্রিল দ্বারা বেষ্টিত। ভেতরে প্রবেশের জন্যে রয়েছে তিনটি পথ। আর গ্রিলের বেষ্টনীর বাইরের দিকে ধাপে ধাপে সিঁড়ি রয়েছে। যেখানে বসে চলে বিকালের আড্ডা। এখানে না বসলে যেনো বিকাল বেলার আড্ডা জমে ওঠে না। ভাষার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা রেখে এখানে চলে রাত পর্যন্ত আড্ডা আর গানের আসর, কখনো বা আলোচনার ঝড়।

প্রতি বছর একুশে ফেব্রুয়ারিতে এই মিনারটি বর্ণিল সাজে সজ্জিত হয়। ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড, পট, চিত্র, আল্পনা আর ফুল দিয়ে সাজানো হয় এটিকে। এসবই করেন শিক্ষার্থীরা। এটি এমন একটি জায়গা যেখানে একটিবার না এলে চবি ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য উপভোগই অপূর্ণ থেকে যায়।

চবির প্রথম শহীদ মিনারটি ১৯৯১ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ হলে একই স্থানে শহীদ মিনারটি নির্মাণ করা হয়। সূত্র : প্রিয়.কম