Home » বাছাইকৃত » পেদা টিং টিং’য়ে খাওয়া

পেদা টিং টিং’য়ে খাওয়া

মিথুন বিশ্বাস
ঢাকা শহরে বসে চাকমা খাবারের স্বাদ নিতে চাইলে পকেট রাখতে হবে ভরা।

পেদা টিং টিং নামটা শুনলে অনেকেরই মনে হতে পারে রাঙামাটির কথা। তবে খোদ রাজধানীতেই এবার যাত্রা শুরু করেছে এই রেস্তোরাঁ।

peda+ting+ting+(1)গুলশান একের ২৭ নম্বর রোডের ৬৯ নম্বর বাড়িকে বেশ খোলামেলা ভাবেই সাজিয়ে চাকমা খাবারের পসরা বসিয়েছে তারা।

পুরো নাম ‘পেদা টিং টিং গ্যালারি ক্যাফে’। ভরা কলসিতে টোকা দিলে যেমন টিং টিং শব্দ হয় তেমনি ভরা পেটকে ভরা কলসির সঙ্গে রূপক অর্থে মিলিয়ে এই রেস্তোরাঁর নামকরণ করা হয়েছে। কারণ চাকমা ভাষায় পেদা মানে পেট। জানালেন অন্যতম কর্ণধার গৌরব দেওয়ান।

এই গৌরব দেওয়ানের ‍পিতা গৌতম দেওয়ান আবার রাঙামাটির পেদা টিং টিং রেস্তোরাঁর মালিকদের অন্যতম।
দেওয়ান জানান এখানকার মেনুতে পাহাড়ি যে খাবারগুলো থাকছে তা একান্তই চাকমাদের, অন্যকোনো জাতিগোষ্ঠির নয়।

দোতলা জুড়ে রেস্তোরাঁয় রয়েছে একটি আর্ট গ্যালারি ও চাকমা সংস্কৃতির কাপড় বুননের প্রদর্শণী।

রেস্তোরাঁর আরেক কর্ণধার নাজমুল নাঈম অন্দর ও বাহির সজ্জার কাজ করেছেন। তিনি জানান, এখানে প্রধানত ব্যবহার করা হয়েছে প্রাকৃতিক ঘর তৈরির কাঁচামাল, যেমন বাঁশ। আবার রিসাইকেলড বস্তুও ব্যবহার করা হয়েছে। কিছু ল্যাম্পশেইড কেনা হয়েছে ফেলে দেওয়া ওয়াশিং মেশিনের অংশ থেকে যা সংগ্রহ করা হয়েছে ‘ভাঙারি’র দোকান থেকে। নিচতলা থেকে দোতলায় ওঠার সিঁড়ি স্টিলের আর সিড়ির এক কোণা এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে করে বড় গাছটি কাটা না পড়ে।

প্রধন ফটক দিয়ে ঢুকতেই চোখে পড়বে আধা গরুর গাড়ির চাকা। আর চাকা লাগোয়া দেয়ালটি বেশ উঁচু। তবে পুরোটাই মাটি দিয়ে তৈরি। দোতলায় বসার ব্যবস্থা ছড়িয়ে ছিটিয়ে। মাথার উপরে ছাদ নেই। একপাশে আবার কাঁঠাল গাছের পাতার নিচে খাবার ব্যবস্থা!

খাবারের কথায় আসা যাক, প্রধানত খাবারে থাকবে চাকমা স্বাদের ছোঁয়া। তবে পরে অবশ্য অন্যকিছু পদও যোগ করা হবে।
মুরগির পদ (কুড়া গুতাইয়া) আসলে ভর্তা! শহুরে জীবনে জিভে নতুন স্বাদের হবে এটা বলাই যায়। আদার ঝাঁঝ বেশ ভালোই টের পাওয়া যাবে। তেল বেশ কম আর মুখোরোচক এটাও বলা যায় চোখ বুঁজে। ৭৬০ টাকা দাম।

ব্যাম্বু চিকেনের (চুমাত কুড়াহেরা) স্বাদ কিছুটা ভিন্ন। শেফের কাছে জানা গেল রাঙামাটিতে সহজলভ্য কিছু স্থানীয় গাছ-গাছড়ার বিশেষ মিশ্রণ দিয়ে মেরিনেইট করে তবেই তৈরি হয় এই পদ। ভাতের সঙ্গে পড়বে ৯৯০ টাকা। উপকরণ সহজলভ্য হলেও দাম অতটা সস্তা নয় বোঝাই যায়।

peda+ting+tingমাছের পদ ফিশ কেবাং (মাছ কেবাং)। যাদের পেঁয়াজ পছন্দ নয় তাদের এই খাবার ভালো নাও লাগতে পারে। কারণ পেঁয়াজের আধিক্য রয়েছে। পাশাপাশি আদা, কাঁচামরিচ, হলুদের গুঁড়া আর তেলও ব্যবহৃত হয় এই পদে। চার জনের জন্য পড়বে ১ হাজার ৮৭০ টাকা। সঙ্গে থাকবে ভাত। সাদা প্লেটে কলাপাতার উপরে সাজিয়ে দেওয়া হয় বিভিন্ন পদ।

দাম একটু বেশি হয়ে যাচ্ছে কিনা? জানতে চাইলে নাজমুল নাঈম বলেন, “বাঁশ আনা হয় রাঙামাটি থেকে এছাড়া কলাপাতা যোগাড় করাও যথেষ্ট কষ্টসাধ্য ও খরচের বিষয়। সবচে বড় কথা গুলশানের মতো জায়গায় ভাড়া ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বেশ।”

তবে গুলশান বনানীর অনেক রেস্তোরাঁর তুলনায় দাম হিসেবে খাবারের পরিমাণ কমই দেয় তারা বলে মনে হয়।

এখানকার আর্টগ্যালারিতে স্থান পাওয়া ‍চিত্রকর্মগুলো এঁকেছেন রাঙামাটিতে শেকড় রয়েছে এমনসব শিল্পিদের। তবে অন্যতম কর্ণধার নাজমুল নাঈম জানান তরুণ চিত্রশিল্পিদের পাশাপাশি আলোকচিত্রিদেরও তোলা স্থিরচিত্র প্রদর্শনীও হবে ভবিষ্যতে।
আর চাকমা বুননশিল্পের বেশ কিছু পণ্য এখানে প্রদর্শন ও বিক্রি ব্যবস্থা রয়েছে। গৌরব দেওয়ান জানান রাঙামাটির স্থানীয় কিছু ফ্যাশন ডিজাইনারের সহযোগিতায় করা হয়েছে এই আয়োজন। ছবি: হাসান বিপুল। সূত্র : বিডিনিউজ