Home » পপুলার ডেস্টিনেশন » নাটোরের কক্সবাজার হালতি বিল

নাটোরের কক্সবাজার হালতি বিল

তাপস কুমার
নাটোরে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত! শুনতে অবাক লাগলেও ভ্রমণপিয়াসীরা নাটোরের একটি বিলকে দিয়েছেন ‘মিনি কক্সবাজারের’ মর্যাদা।

বর্ষা মৌসুমে যখন চারদিক পানিতে টলমল হয়ে ওঠে তখন সেই সৌন্দর্য দেখতে আসেন নানা বয়সী মানুষ। নাটোরের হালতি বিলের পরিচিত এখন এমনই।

নবগঠিত নলডাঙ্গা উপজেলার একপ্রান্তে প্রায় ৪০ হাজার একরের বিস্তির্ণ এলাকা জুড়ে এর অবস্থান। ব্রিটিশ সরকারের সময়ে এই বিলে ঝাঁকে ঝাঁকে বিরল প্রজাতির ‘হালতি’ পাখী বসতো বলেই এর নামকরণ করা হয়েছিল হালতি বিল। তখন ব্রিটিশ সরকারের লোকজন এই বিলে আসতেন সেই হালতি পাখী শিকারে। আর দীর্ঘদিন পরে আবার এখন সবাই আসেন এই বিলের দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য উপভোগ করতে।

Natore

বর্ষা মৌসুমের প্রতিদিন বিভিন্ন বয়সের শত শত নারী-পুরুষ হালতি বিলে আসেন এই বিশাল জলরাশীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে।

বর্ষাকালে হালতি বিলটি অথৈ সমুদ্রের মতো মনে হয়। এসময় বিলের মাঝে মাঝে ছোট গ্রামগুলো প্রায় ডুবুডুবু একটি দ্বীপ মনে হয়। বিলের বড় বড় ঢেউ সেখানে আছড়ে পড়ে। আর রাস্তা নিমার্ণের ফলে এখন যেন পুরোপুরি বদলে গেছে দৃশ্যপট। পানি বাড়তে থাকলে প্রথমদিকে নৌকা ভ্রমনের জন্য শহর থেকে দর্শনার্থীরা ওই বিলে বেড়াতে আসতে শুরু করেন।

নাটোর শহর থেকে হালতি বিলের দূরত্ব মাত্র আট কিলোমিটার। শহর থেকে নিজস্ব গাড়ি ছাড়াও সিএনজি আর অটোরিক্সায় করে বিল দেখতে আসেন। ভ্রমন পিপাসু অনেক মানুষ দূর-দূরান্ত থেকেও আসেন।

তাদের জন্য বিলে নামানো হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য নৌকা। এমনকি গত কয়েক বছর ধরে এই বিলে নেমেছে বেশ কয়েকটি স্পীড বোটও। প্রতিবছর বর্ষায় সড়কটি পানিতে ডুবতে শুরু করলেই ভ্রমন পিপাসুদের আসা-যাওয়া বেড়ে যায়। এখন প্রতিদিন শত শত নারী-পুরুষ বিলের দক্ষিণ প্রান্ত পাটুলের বটতলায় আসেন হালতি বিল ভ্রমনে। সপ্তাহের বন্ধের দিগুলোতে এখানে সবচেয়ে বেশি ভিড় হয়।

ঈদুল ফিতরের পর থেকে এখানে মানুষের ঢল নেমেছে। দুপুরের পর শহর থেকে দলে দলে মানুষ পাটুল আসতে থাকেন। তাদের অনেকেই পাটুল ঘাট থেকে নৌকা বা স্পীড বোট ভাড়া করে অথৈ জলরাশির হালতি বিলে বেড়িয়ে নির্মল আনন্দ খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করেন। আবার অনেকে পানিতে তলিয়ে যাওয়া পাকা রাস্তায় দলবেঁধে হেঁটে বেড়ান। পানিতে আনন্দ ভ্রমণের এমন নির্মল আনন্দের সুযোগ এর আগে এ অঞ্চলের মানুষের আর মেলেনি।

ভ্রমনকারিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, শহর জীবনের রুটিন বাঁধা এক ঘেঁয়েমির ক্লান্তি দুর করতে তারা বর্ষা মৌসুমে সুযোগ পেলেই হালতি বিলে চলে আসেন। সেখানে এলে তাদের মনটা অনেকটাই আনন্দে ভরে যায়। হালতি বিলকে কেন্দ্র করে অনেকের আয় বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। আগে একজন মাঝির দিনে ৭০ থেকে ৮০ টাকা আয় হতো আর এখন হচ্ছে ৫শ থেকে ৬শ টাকা।
স্থানীয় এক নৌকার মাঝি জানান, এতো মানুষের আগমনে হালতি বিল এখন ‘মিনি কক্সবাজার’ হিসেবে মুখরিত। এখন প্রতিদিন সে আয় করছে গড়ে ৮শ টাকারও বেশি। জনসমাগম দেখে পাটুল বটতলায় স্থানীয়ভাবে ব্যক্তিগত উদ্যোগে বসানো হয়েছে বেশ কিছু দোকান-পাট ও মটর সাইকেল গ্যারেজ। শত শত মানুষের ঢল নামায় সেখানে হকারদেরও ভিড় বেড়েছে। মুড়ি, বাদাম, চানাচুর, ফল-মুল, চা-বিস্কুট, লজেন্স, চকলেট, পান-সিগারেট এমনকি চুড়ি-মালা আর কসমেটিক্সের পসরা সাজিয়ে বসেছে অনেকে। বিক্রিও হচ্ছে বেশ।

এত কিছুর পরও এখানে কোন গণসৌচাগারের সুবিধা নেই। নেই কোন ভালো মানের রেস্টুরেন্ট। ঘাটে বসে থাকারও তেমন কোন ব্যবস্থা নেই। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন থেকে পাটুল ঘাট এবং হালতির বিল এলাকায় আইন শৃংখলা রক্ষায় পুলিশ নিয়োজিত রয়েছে। সূত্র : প্রিয়.কম