Home » বাছাইকৃত » কার্পাসডাঙ্গায় ছিলেন কবি

কার্পাসডাঙ্গায় ছিলেন কবি

Karpasdanga

২৭ আগস্ট ছিল নজরুলের মৃত্যু বার্ষিকী
মানিক আকবর
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা থেকে যে পথটি কার্পাসডাঙ্গার ওপর দিয়ে মুজিবনগর চলে গেছে, তার পাশ দিয়ে একটু ঢালুপথ পেরোলেই আটচালা একটি ঘর। খড়ের চালের ঘরটি বেশ পুরনো। মাঝেমধ্যে খড় পাল্টে নতুন করে ছাওয়া হয়। এই ঘরটি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতি বহন করছে। এখানে এসে কবি থেকেছেন, লিখেছেন বেশ কিছু কালজয়ী লেখা।

Karpasdanga2

চুয়াডাঙ্গায় কার্পাসডাঙ্গার ভৈরব নদ

নজরুল গবেষকদের মতে, ১৯২৬ ও ১৯২৭ সালে কবি কার্পাসডাঙ্গায় দীর্ঘসময় অবস্থান করেন কবি। ওই সময় কার্পাসডাঙ্গার ভৈরব নদের তীরে বসেই সাহিত্যের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ রচনা করেছেন। টানা দুই মাস তিনি ঘরটিতে ছিলেন। চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরের ভৈরব নদের তীরে কবির স্মৃতিঘেরা কার্পাসডাঙ্গা। নজরুল গবেষক এম ইব্রাহিম তাঁর বইয়ে লিখেছেন, তিনি থাকতেন হর্ষপ্রিয় বিশ্বাসের আটচালা ঘরে। হর্ষপ্রিয় ছিলেন তৎকালীন নদীয়া কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক। এখন তাঁর উত্তরসূরিরা নিজ অর্থ ব্যয় করে নজরুলের স্মৃতিঘেরা বাড়িটি টিকিয়ে রেখেছেন। ১৯২৬ সালে বিপ্লবী হেমন্ত কুমার ও মহিম সরকারের আমন্ত্রণে কবি কাজী নজরুল ইসলাম কলকাতার আমহার্স্ট স্ট্রিট থেকে সপরিবারে কার্পাসডাঙ্গায় আসেন। নজরুল গবেষক এম ইব্রাহিম তাঁর গ্রন্থে আরো লিখেছেন, সে সময় ভারতবর্ষে চলছিল ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন। আন্দোলনের হাওয়া বয়ছিল কার্পাসডাঙ্গায়ও। কবি নজরুল গঠন করেছিলেন ‘শ্রমিক প্রজা কৃষক পাটি’। মূলত স্বদেশি আন্দোলনের নেতাদের উৎসাহ দিতেই পার্টির পক্ষে কবি কার্পাসডাঙ্গায় আসেন। এখানকার জীবনযাত্রা ও পরিবেশ তাঁকে সাহিত্যকর্ম মৃত্যুক্ষুধা ও পদ্মগোখরো এবং লিচুচোর কবিতাসহ অনেক গান লিখতে সহায়ক হয়েছিল।

Karpasdanga3

চুয়াডাঙ্গার কার্পাসডাঙ্গায় এখানেই ছিল লিচুবাগান, পাশে তালপুকুর

স্মৃতিঘেরা সে বাড়িতে এখন থাকছেন হর্ষপ্রিয় বিশ্বাসের পরিবারের সদস্যরা। আট বছর আগে মারা গেছেন হর্ষপ্রিয় বিশ্বাসের ছেলে প্রদ্যুত বিশ্বাস। তাঁর দুই ছেলে-প্রকৃতি বিশ্বাস ওরফে বকুল বিশ্বাস ও প্রণতি বিশ্বাস ওরফে মধু বিশ্বাস এখন ওই বাড়িতে থাকেন। যে ঘরে কবি থাকতেন সেই ঘরে সস্ত্রীক থাকেন বকুল বিশ্বাস (স্ত্রী মণি বিশ্বাস ও তাঁদের দুই সন্তান দ্বীপ বিশ্বাস ও পাপিয়া বিশ্বাস)। বকুল বিশ্বাস জানান, ছনের এই ঘরটির পেছনে প্রতিবছরই কিছু টাকা খরচ হয়। তিনি বলেন, ‘এই ঘরটি ভেঙে একই স্থানে একই আদলে একটি কংক্রিটের ঘর তৈরি করে পর্যটকদের জন্য উম্মুক্ত করে দেওয়াই আমার ইচ্ছা। কিন্তু সামর্থ্যে কুলাচ্ছে না।’ সরকারিভাবে কোনো উদ্যোগ নিলে জমি দেওয়াসহ সার্বিক সহযোগিতা করার ইচ্ছা আছে পরিবারের সদস্যদের।

Karpasdanga4

চুয়াডাঙ্গার কার্পাসডাঙ্গায় সেই সময় এই পুকুরটি ছিল তালগাছে ঘেরা

কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতি ধরে রাখতে ১৯৯০ সালে কবির জন্মজয়ন্তী উৎসব পালন এবং নজরুল মেলাও বসেছিল এই কার্পাসডাঙ্গায়। পরবর্তী সময়ে প্রতিবছরই কার্পাসডাঙ্গা নজরুল মঞ্চে স্থানীয় উদ্যোগে বিভিন্ন অনুষ্ঠান হয়েছে। তবে এ বছরই প্রথমবারের মতো কবি কাজী নজরুলের জন্মজয়ন্তি পালিত হয়েছে সরকারি উদ্যোগে। চুয়াডাঙ্গার নজরুল স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জানান, ‘যে আটচালা ঘরে কবি থাকতেন, তার পাশেই একটি পুকুর। পুকুরটির চারপাশে তালগাছ ছিল, পাশে লিচু বাগান। ওখানে বসে কবি লিখেছেন লিচুচোরসহ আরো অনেক লেখা। বিভিন্ন বই থেকে জানা গেছে, কবি এখানে অবস্থানকালে মহিম সরকারের মেয়ে আভারানী সরকার কবির কাছে গান শিখতেন। তাঁদের কেউ এখানে এখন আর নেই।’ গত ২৭ আগস্ট কবির মৃত্যু দিবস পালিত হয়েছে, এখানকার ইউনিয়ন পরিষদ অ্যাসোসিয়েশন হলে। কবির স্মৃতি রক্ষার্থে এখানে কবির নামে কমপ্লেক্স তৈরি করার দাবি জানানো হয়েছে। সূত্র : কালের কণ্ঠ

Advertisement