Home » বাছাইকৃত » পবিত্র হজের প্রয়োজনীয় মাসায়েল

পবিত্র হজের প্রয়োজনীয় মাসায়েল

মুফতি শাহেদ রহমানি

হজ ইসলামের অন্যতম রুকন বা স্তম্ভ। এটি আর্থিক ও দৈহিক ইবাদত। ইসলামী শরিয়তে বর্ণিত বিশেষ পদ্ধতিতেই তা পালন করতে হয়। পবিত্র হজের রয়েছে কয়েকটি প্রকার। নিম্নে প্রতিটির বিধিবিধান সবিস্তারে আলোচনা করা হলো।

Hajj2

হজে তামাত্তু করার পদ্ধতি

হজের মাসসমূহে (শাওয়াল, জিলকদ, জিলহজ) ওমরাহর নিয়তে ইহরাম করে, ওমরাহ পালন করে হালাল হওয়ার পর হজের নিয়ত করে নতুন ইহরামে হজ পালন করাকে হজে তামাত্তু বলে।

* ওমরাহর ইহরাম বাঁধা ফরজ। প্রথমেই জেনে নিন আপনার গন্তব্য ঢাকা থেকে মক্কা শরিফ, নাকি মদিনা শরিফ। যদি মদিনা শরিফ হয়, তাহলে এখন ইহরাম বাঁধা নয়; যখন মদিনা শরিফ থেকে মক্কা শরিফ যাবেন, তখন ইহরাম বাঁধতে হবে। বেশির ভাগ হজযাত্রী আগে মক্কায় যান। এ ক্ষেত্রে ঢাকা থেকে বিমানে ওঠার আগে ইহরাম বাঁধা ভালো। কারণ জেদ্দা পেঁৗছার আগেই ‘ইয়ালামলাম’ মিকাত বা ইহরাম বাঁধার নির্দিষ্ট স্থানটি পড়ে। বিমানে যদিও ইহরাম বাঁধার কথা বলা হয়, কিন্তু ওই সময় অনেকে ঘুমিয়ে থাকেন; আর বিমানে পোশাক পরিবর্তন করাটাও দৃষ্টিকটু। মনে রাখবেন, ইহরামের কাপড় পরিধান করলেই ইহরাম বাঁধা হয়ে যায় না; যতক্ষণ পর্যন্ত নিয়ত করে ‘তালবিয়া’ তথা ‘লাব্বাইক…’ পড়া না হয়। তাই ইহরামের কাপড় পরিধানের পর সতর্কতামূলক বিমান ছাড়ার পর নিয়ত করে তালবিয়া শুরু করা ভালো। বিনা ইহরামে মিকাত পার হলে এ জন্য দম দিতে হবে। তদুপরি গুনাহ হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সেরে গোসল বা অজু করে নিন। মিকাত অতিক্রমের আগেই সেলাইবিহীন একটি সাদা কাপড় পরিধান করুন, আরেকটি গায়ে জড়িয়ে নিয়ে ইহরামের নিয়তে দুই রাকাত নামাজ পড়ে নিন। শুধু ওমরাহর নিয়ত করে এক বা তিনবার তালবিয়া পড়ে নিন। ইহরামের নিয়তের সময় বলুন : ‘আল্লাহুম্মা ইনি্ন উরিদুল উমরাতা ফা-ইয়াসসিরহা লি ওয়া তাকাব্বাল মিনি্ন।’ এরপর তালবিয়া পাঠ করুন।

* ওমরাহর তাওয়াফ (ফরজ)। অজুর সঙ্গে ‘ইজতিবা’সহ তাওয়াফ করুন। ইহরামের চাদরকে ডান বগলের নিচের দিক থেকে পেঁচিয়ে এনে বাঁ কাঁধের ওপর রাখাকে ইজতিবা বলে। হাজরে আসওয়াদ সামনে রেখে তার বরাবর ডান পাশে দাঁড়ান (২০০৬ সাল থেকে মেঝেতে সাদা মার্বেল পাথর আর ডান পাশে সবুজ বাতি)। তারপর দাঁড়িয়ে তাওয়াফের নিয়ত করুন। তারপর ডানে গিয়ে এমনভাবে দাঁড়াবেন, যেন হাজরে আসওয়াদ পুরোপুরি আপনার সামনে থাকে। এরপর দুই হাত কাঁধ পর্যন্ত তুলে এই দোয়া পড়বেন : ‘বিসমিল্লাহি ওয়া আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আল্লাহু আকবার, আল্লাহুম্মা তাসদিকান বি-কিতাবিকা ওয়া সুন্নাতি নাবিয়্যিকা।’ পরে হাত ছেড়ে দিন এবং হাজরে আসওয়াদের দিকে হাত দিয়ে ইশারা করে হাতের তালুতে চুমু খেয়ে ডান দিকে চলতে থাকুন, যাতে পবিত্র কাবাঘর পূর্ণ বাঁয়ে থাকে। পুরুষের জন্য প্রথম তিন চক্করে ‘রমল’ করা সুন্নাত। রমল অর্থ বীরের মতো বুক ফুলিয়ে কাঁধ দুলিয়ে ঘন ঘন কদম ফেলে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলা। রুকনে ইয়ামানিকে সম্ভব হলে শুধু হাতে স্পর্শ করুন। রুকনে ইয়ামানিতে এলে এই দোয়া পাঠ করুন : ‘রব্বানা আতিনা ফিদ্দুনইয়া হাসানা…’। তবে চুমু খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। অতঃপর হাজরে আসওয়াদ পর্যন্ত এসে চক্কর পুরো করুন। পুনরায় হাজরে আসওয়াদ বরাবর দাঁড়িয়ে হাত দিয়ে ইশারা করে হাতের তালুতে চুমু খেয়ে দ্বিতীয় চক্কর শুরু করুন। এভাবে সাত চক্করে তাওয়াফ শেষ করুন। হাতে সাত দানার তসবি অথবা গণনাযন্ত্র রাখতে পারেন। তাহলে সাত চক্কর ভুল হবে না।

* হজে তামাত্তু আদায়কারীর জন্য তাওয়াফের দুই রাকাত নামাজ (ওয়াজিব)। মাকামে ইব্রাহিমের পেছনে বা হারামের যেকোনো স্থানে তাওয়াফের নিয়তে (মাকরুহ সময় ছাড়া) দুই রাকাত নামাজ পড়ে বিশেষ দোয়া করুন। মনে রাখবেন, এটা দোয়া কবুলের সময়।

* ওমরাহর সাঈ (ওয়াজিব)। সাফা পাহাড়ের কিছুটা ওপরে উঠে (এখন আর পাহাড় নেই, মেঝেতে মার্বেল পাথর, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত) কাবা শরিফের দিকে মুখ করে সাঈর নিয়ত করে দোয়ার মতো করে হাত তুলে তিনবার তাকবির বলে দোয়া করুন। তারপর মারওয়ার দিকে রওনা হয়ে দুই সবুজ দাগের মধ্যে (এটা সেই জায়গা, যেখানে হজরত হাজেরা (রা.) পানির জন্য দৌড়েছিলেন) একটু দ্রুত পথ চলে মারওয়ায় পেঁৗছলে এক চক্কর পূর্ণ হলো। মারওয়া পাহাড়ে উঠে কাবা শরিফের দিকে মুখ করে দোয়ার মতো করে হাত তুলে তাকবির পড়ুন এবং আগের মতো চলে সেখান থেকে সাফায় পৌঁছলে দ্বিতীয় চক্কর পূর্ণ হলো। এভাবে সপ্তম চক্করে মারওয়ায় গিয়ে সাঈ শেষ করে দোয়া করুন।

সাঈ শেষে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়া মুস্তাহাব।

* হলক করা ওয়াজিব। পুরুষ হলে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শের অনুসরণে সম্পূর্ণ মাথা মুণ্ডন করবেন। তবে মাথার চুল ছাঁটতেও পারেন। মহিলা হলে মাথার চুল এক ইঞ্চি পরিমাণ কাটবেন। এ পর্যন্ত ওমরাহর কাজ শেষ। হজের ইহরাম না বাঁধা পর্যন্ত ইহরামের আগের মতো সব কাজ করতে পারবেন। অতঃপর হজের কার্যক্রম শুরু।

* হজের ইহরাম বাঁধা ফরজ। হারাম শরিফ বা বাসা থেকে আগের নিয়মে শুধু হজের নিয়তে ইহরাম বেঁধে যদি সম্ভব হয় ৮ জিলহজ জোহরের আগেই মিনায় পেঁৗছে যাবেন। হজের আরবি নিয়ত হলো : ‘আল্লাহুম্মা ইনি্ন উরিদুল হাজ্জা ফা-ইয়াসসিরহু লি ওয়া তাকাব্বাল মিনি্ন।’

* মিনায় অবস্থান করা সুন্নাত। ৮ জিলহজ জোহর থেকে ৯ জিলহজ ফজরসহ মোট পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মিনায় আদায় করুন এবং এ সময় মিনায় অবস্থান করুন।

* আরাফার ময়দানে অবস্থান করা হজের অন্যতম ফরজ। ৯ জিলহজ দুপুরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফার ময়দানে অবস্থান করুন। এদিন নিজ তাঁবুতে জোহর ও আসরের নামাজ স্ব স্ব সময়ে আলাদাভাবে আদায় করুন। মুকিম হলে চার রাকাত পূর্ণ পড়ুন। মসজিদে নামিরায় উভয় নামাজ জামাতে পড়লে একসঙ্গে আদায় করতে পারেন, যদি ইমাম মুসাফির হন। আর মসজিদে নামিরা যদি আপনার তাঁবু থেকে দূরে থাকে, তাহলে নিজ স্থানে অবস্থান করবেন। মাগরিবের নামাজ না পড়ে মুজদালিফার দিকে রওনা হন।

* মুজদালিফায় অবস্থান করা ওয়াজিব আর সেখানে রাত যাপন করা সুন্নাত। আরাফায় সূর্যাস্তের পর মুজদালিফায় গিয়ে এশার সময়ে মাগরিব ও এশা এক আজান ও এক ইকামতে একসঙ্গে আদায় করা ওয়াজিব। এখানেই রাত যাপন করুন, এটি সুন্নাত এবং ১০ জিলহজ ফজরের পর সূর্যোদয়ের আগে কিছু সময় মুজদালিফায় অবশ্যই অবস্থান করুন, এটি ওয়াজিব। তবে দুর্বল (অপারগ) ও নারীদের বেলায় এটা অপরিহার্য নয়। রাতে ছোট ছোট ছোলার দানার মতো ৭০টি কঙ্কর সংগ্রহ করুন। মুজদালিফায় কঙ্কর খুব সহজেই পেয়ে যাবেন।

* প্রথম দিন কঙ্কর মারা ওয়াজিব। ১০ জিলহজ সুবহে সাদিক থেকে ১১ জিলহজ সুবহে সাদিকের আগ পর্যন্ত শুধু বড় জামারাকে (বড় শয়তান) সাতটি কঙ্কর নিক্ষেপ করা ওয়াজিব। যদি এই সময়ের মধ্যে কঙ্কর মারা না হয় তাহলে দম দিতে হবে।

* কোরবানি করা ওয়াজিব। ১০ জিলহজ কঙ্কর মারার পরই কেবল দমে শোকর বা দমে তামাত্তু, যাকে হজের কোরবানি বলা হয়, নিশ্চিত পন্থায় আদায় করুন। কোরবানির পরেই কেবল রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শের অনুসরণে মাথা হলক করুন, এটিও ওয়াজিব। তবে চুল ছোটও করতে পারেন। খেয়াল রাখবেন, কঙ্কর মারা, কোরবানি করা ও চুল কাটার মধ্যে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি।

* তাওয়াফে জিয়ারত ফরজ। ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের আগেই তাওয়াফে জিয়ারত করে নিতে হবে। তা না হলে ১২ জিলহজের পরে তাওয়াফটি করে দম দিতে হবে। তবে নারীরা প্রাকৃতিক কারণে করতে না পারলে পবিত্র হওয়ার পরে করবেন। এতে দম দিতে হবে না। উল্লেখ্য, তাওয়াফে জিয়ারতের সঙ্গে সাঈ করাও ওয়াজিব। তবে আরাফার আগে কোনো নফল তাওয়াফের সঙ্গে সাঈ করে থাকলে তাওয়াফে জিয়ারতের পরে সাঈ করতে হবে না।

* কঙ্কর মারা ওয়াজিব। ১১ ও ১২ তারিখে সূর্য হেলার পর থেকে পরদিন সুবহে সাদিকের আগ পর্যন্ত প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় জামরায় সাতটি করে ২১টি কঙ্কর প্রতিদিন নিক্ষেপ করা ওয়াজিব। সূর্য হেলার আগে নিক্ষেপ করলে আদায় হবে না, বরং সূর্য হেলার পর পুনরায় নিক্ষেপ করতে হবে। অন্যথায় দম দিতে হবে। ১৩ তারিখ সূর্য হেলার পর কঙ্কর নিক্ষেপকরত মিনা ত্যাগ করা সুন্নাত। তবে কেউ যদি ১২ তারিখে চলে আসতে চায়, তাহলে ওই দিন সূর্য হেলার পর থেকে পরদিন সুবহে সাদিকের আগ পর্যন্ত যেকোনো সময় পাথর মেরে চলে আসতে পারবে। যদি কেউ ১৩ জিলহজ সুবহে সাদিকের পর মিনায় অবস্থান করে, তাহলে তার জন্য ১৩ তারিখও রমি করা ওয়াজিব। অন্যথায় দম দিতে হবে।

* মিনা ত্যাগ। ১৩ জিলহজ মিনায় থাকতে না চাইলে ১২ জিলহজ সন্ধ্যার আগে অথবা সন্ধ্যার পর ভোর হওয়ার আগে মিনা ত্যাগ করুন। সূর্যাস্তের আগে মিনা ত্যাগ করতেই হবে-এটা ঠিক নয়। তবে সূর্যাস্তের আগে মিনা ত্যাগ করা উত্তম।

* বিদায়ী তাওয়াফ করা ওয়াজিব। বাংলাদেশ থেকে আগত হজযাত্রীদের হজ শেষে বিদায়ী তাওয়াফ করতে হয়, এটি ওয়াজিব। তবে হজ শেষে যেকোনো নফল তাওয়াফই বিদায়ী তাওয়াফে পরিণত হয়ে যায়। নারীদের মাসিকের কারণে বিদায়ী তাওয়াফ করতে না পারলে কোনো ক্ষতি নেই; দম দিতে হয় না।

* মিনায় অবস্থানরত দিনগুলোতে (১০, ১১ জিলহজ) মিনাতেই রাত যাপন করুন। যদি ১৩ তারিখ রমি (কঙ্কর মারা) শেষ করে ফিরতে চান, তাহলে ১২ তারিখ রাত যাপন করুন, এটি সুন্নাত।

হজে কিরান আদায় করার পদ্ধতি

হজের দ্বিতীয় প্রকার হচ্ছে হজে কিরান। কিরান শব্দের আভিধানিক অর্থ দুই বস্তুকে একত্র করা।

শরিয়তের পরিভাষায় হজে কিরান বলা হয় মিকাত থেকে হজ ও ওমরাহ উভয়টার একসঙ্গে ইহরাম বাঁধা। উত্তম হজ হলো হজে কিরান, তারপর তামাত্তু, তারপর ইফরাদ। (বুখারি : ১৪৫৪, সুরা বাকারাহ : ১৯৬)

হজে কিরানের নিয়তকারী এরূপ বলবে : ‘আল্লাহুম্মা ইনি্ন উরিদুল উমরাতা ওয়াল হাজ্জা ফা-ইয়াসসিরহুমা লি ওয়া তাকাব্বালহুমা মিনি্ন।’ অর্থ : হে আল্লাহ! আমি হজ ও ওমরাহর নিয়ত করেছি, উভয়টিকে আমার জন্য সহজ করে দাও এবং উভয়টি কবুল করো। (মুসলিম : ২১৯৫)

* হজে কিরান আদায়ের জন্য ইহরাম বাঁধা ফরজ। মিকাত অতিক্রমের আগে একই নিয়মে ইহরাম করার কাজ সমাপ্ত করুন। তবে হজ ও ওমরাহ উভয়ের নিয়ত একসঙ্গে করে তালবিয়া পড়ুন।

* ওমরাহর তাওয়াফ পূর্বে বর্ণিত নিয়মে আদায় করুন, এটি ওয়াজিব।

* ওমরাহর সাঈ করুন, তবে এরপর মাথা মুণ্ডাবেন না বা চুল ছাঁটবেন না; বরং ইহরামের সব বিধিবিধান মেনে চলুন, এটিও ওয়াজিব।

* তাওয়াফে কুদুম করা সুন্নাত।

* ৮ জিলহজ জোহর থেকে ৯ জিলহজ ফজর পর্যন্ত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মিনাতে পড়ুন। এ সময় মিনাতে অবস্থান করা সুন্নাত।

* আরাফার ময়দানে অবস্থান করা ফরজ।

* ৯ জিলহজ সূর্যাস্তের পর থেকে মুজদালিফায় অবস্থান এবং মাগরিব ও এশা একসঙ্গে এশার সময় আদায় করা ওয়াজিব। তবে ১০ জিলহজ ফজরের পর কিছু সময় অবস্থান করা ওয়াজিব।

* ওপরে বর্ণিত নিয়ম ও সময় অনুসারে ১০ জিলহজ কঙ্কর নিক্ষেপ করা ওয়াজিব।

* দমে কিরান তথা হজের কোরবানি করা ওয়াজিব।

* মাথার চুল মুণ্ডন করে নিন, এটি ওয়াজিব। তবে চুল ছেঁটেও নিতে পারেন।

* তাওয়াফে জিয়ারত করা ফরজ এবং সাঈ করে নিন, যদি তাওয়াফে কুদুমের পরে না করে থাকেন।

* ১১ ও ১২ জিলহজ কঙ্কর নিক্ষেপ করা ওয়াজিব। ১৩ জিলহজ কঙ্কর মারা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ।

* মিনায় থাকাকালীন মিনাতেই রাত যাপন করা সুন্নাত।

* মিকাতের বাইরে থেকে আগত হাজিদের বিদায়ী তাওয়াফ করা ওয়াজিব।

হজে ইফরাদ আদায় করার পদ্ধতি

হজের তৃতীয় প্রকার হচ্ছে হজে ইফরাদ। শুধু হজ পালনের উদ্দেশ্যে ইহরাম বেঁধে হজ সম্পাদনকে হজে ইফরাদ বলে।

ইফরাদ হজ আদায়ের পদ্ধতি হলো :

* শুধু হজের নিয়তে ইহরাম বাঁধা ফরজ। এরূপ বলুন : ‘আল্লাহুম্মা ইনি্ন উরিদুল হাজ্জা ফা-ইয়াসসিরহু লি ওয়া তাকাব্বাল মিনি্ন।’

* মক্কা শরিফে পৌঁছে তাওয়াফে কুদুম করা সুন্নাত। উল্লেখ্য, তাওয়াফে কুদুমের পর সাঈ করলে তাওয়াফে জিয়ারতের পর সাঈ করার প্রয়োজন নেই।

* মিনায় পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও রাত যাপন করা সুন্নাত।

* আরাফার ময়দানে অবস্থান করা ফরজ।

* মুজদালিফায় রাত যাপন করা সুন্নাত। তবে ১০ জিলহজ ফজরের পর কিছু সময় অবস্থান করা ওয়াজিব।

* ১০ জিলহজে জামরায় সাতটি কঙ্কর নিক্ষেপ করা ওয়াজিব।

* যেহেতু এই হজে দমে শোকর ওয়াজিব নয়, তাই কঙ্কর নিক্ষেপের পর মাথা হলক করে নিন; তবে চুল ছেঁটেও নিতে পারেন, এটি ওয়াজিব।

* তারপর তাওয়াফে জিয়ারত করুন, এটি ফরজ। যদি তাওয়াফে কুদুমের পর সাঈ করে থাকেন, তাহলে সাঈ করার প্রয়োজন নেই। ১০. ১১ ও ১২ জিলহজ আগে বর্ণিত নিয়ম ও সময়ে কঙ্কর নিক্ষেপ করুন, এটি ওয়াজিব।

* বদলি হজকারী ইফরাদ হজ করবেন।

হজ বিশুদ্ধ হওয়ার শর্তসমূহ

হজের আভিধানিক অর্থ হলো মক্কা শরিফের ইচ্ছা করা। শরিয়তে এর অর্থ নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট স্থানের জিয়ারত করা। (আততা’রিফাত : ১/২৬)

হজ ফরজ হওয়ার ব্যাপারে পুরো উম্মত একমত। এ ব্যাপারে কারো দ্বিমত নেই। এর ফজিলত বিষয়ে

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন : ‘আর এ ঘরের হজ করা হলো মানুষের ওপর আল্লাহর প্রাপ্য, যে লোকের সামর্থ্য রয়েছে এ পর্যন্ত পেঁৗছার। আর যে লোক তা মানে না, আল্লাহ সারা বিশ্বের কোনো কিছুরই পরোয়া করেন না।’ (আলে ইমরান : ৯৭)

রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন : ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য হজ আদায় করে এবং সেখানে যাবতীয় মন্দ কাজ ও কথা থেকে বিরত থাকে, সে সদ্য ভূমিষ্ঠ সন্তানের মতো গুনাহমুক্ত হয়ে ফিরবে।’ (বুখারি : ১৪২৪)

হজের শর্ত : নিম্নোলি্লখিত শর্তগুলো পাওয়া গেলে প্রত্যেক নর-নারীর ওপর জীবনে একবার হজ করা ফরজ।

* মুসলমান হওয়া। অমুসলিমের ওপর হজ ফরজ নয়। (বুখারি : ৩৫৬)

* বালেগ হওয়া। নাবালেগের ওপর হজ ফরজ নয়। (বুখারি : ১৬/৩১৫, বায়হাকি : ১০১৩৩)

* বোধসম্পন্ন হওয়া। নির্বোধ পাগলের ওপর হজ ফরজ নয়। (বুখারি : ১৬/৩১৫)

* আজাদ বা স্বাধীন হওয়া। গোলামের ওপর হজ ফরজ নয়। (আলে ইমরান : ৯৭, বায়হাকি : ১০১৩৩)

* সামর্থ্যবান হওয়া। সামর্থ্যবান হওয়ার অর্থ হলো, নিজের অনুপস্থিতিতে পরিবারের যাবতীয় ব্যয় নির্বাহের ব্যবস্থা এবং যাতায়াত ও পাথেয়র মালিক হওয়া। (তিরমিজি : ৭৪১) যদি নিজ খরচে যাওয়ার মতো মাহরাম না থাকে তাহলে নারীদের ক্ষেত্রে নিজের এবং একজন মাহরামের হজে যাওয়া-আসা ও থাকা-খাওয়ার যাবতীয় খরচ বহনে সামর্থ্যবান হতে হবে।

* হজের সময়ের আগমন।

হজ আদায় ওয়াজিব হওয়ার শর্ত : কোনো ব্যক্তির ওপর হজ ফরজ হওয়ার পর নিজে হজ আদায় করা ওয়াজিব হওয়ার জন্য যেসব শর্ত রয়েছে তা পাওয়া না গেলে নিজে হজ করা ওয়াজিব হবে না। বরং অন্য কোনো ব্যক্তি দ্বারা তৎক্ষণাৎ বদলি হজ করাতে হবে অথবা বদলি হজ করানোর জন্য অসিয়ত করতে হবে। আর নিজে হজ আদায় করা ওয়াজিব হওয়ার জন্য শর্ত হলো :

* শারীরিকভাবে হজ করতে সক্ষম হওয়া। (বায়হাকি : ৮৯২২)

* হজে গমনে প্রতিবন্ধকতা না থাকা। যেমন-কয়েদি বা পরাধীন ব্যক্তি। (বায়হাকি : ৮৯২২)

* রাস্তার নিরাপত্তা থাকা। (সুনানে কুবরা : ৮৯২২)

* নারী যুবতী হোক বা বৃদ্ধা, তার সঙ্গে স্বামী বা অন্য কোনো মাহরাম থাকা। (বুখারি : ১০২৪, দারা কুতনি : ২৪৬৭)

* মহিলা তালাক বা স্বামীর মৃত্যুর কারণে ইদ্দত অবস্থায় না হওয়া। (সুরা তালাক : ১)

হজ বিশুদ্ধ হওয়ার শর্ত : নিম্নোলি্লখিত শর্তগুলো পাওয়া না গেলে হজ আদায় শুদ্ধ হবে না।

* ইহরাম তথা হজের নিয়ত করা। সুতরাং ইহরাম বাঁধা ছাড়া হজ আদায় সহিহ হবে না। (বুখারি : ১)

ইহরামের নিয়ম হলো, মিকাত থেকে তালবিয়া পড়ার মাধ্যমে হজের নিয়ত করা। পুরুষরা ইহরামের সময় সেলাই করা কাপড় খুলে সেলাইবিহীন কাপড় পরিধান করবে। (বুখারি : ১৭০৭)

নারীরা স্বাভাবিক কাপড় পরবে। তবে নেকাব বা অন্য কোনো কাপড় চেহারার সঙ্গে লেগে থাকতে পারবে না।

তালবিয়া এভাবে পড়বে : ‘লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক,

ইন্নাল হামদা, ওয়ানি্ন’মাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারিকা লাক।’ (বুখারি : ১৪৪৮)

* সময়। সুতরাং হজের নির্দিষ্ট সময়ের আগে বা পরে হজ আদায় সহিহ হবে না। (বাকারাহ : ১৯৭)

* নির্দিষ্ট স্থান। অর্থাৎ আরাফার ময়দানে অবস্থান করা, তাওয়াফে জিয়ারত বায়তুল্লাহ শরিফে করা, রমি মিনাতে করা এবং পশু কোরবানি হারাম শরিফে করা। যদি সময়মতো আরাফায় অবস্থান করা না হয় তাহলে হজ সহিহ হবে না। (নাসাঈ : ২৯৬৬, সুরা হজ : ২৯)

যেভাবে হজ পালন করবেন

হজে তামাত্তু আদায়ের পদ্ধতি

* ওমরাহ ও হজ উভয়টির নিয়তে ইহরাম বাঁধা ফরজ।

* ওমরাহর তাওয়াফ করা ফরজ।

* ওমরাহর সাঈ করা ওয়াজিব।

* মাথা মুড়িয়ে বা ছেঁটে হালাল হওয়া ওয়াজিব।

* ৮ জিলহজ মক্কায় হজের ইহরাম বাঁধা ফরজ।

* ৮ জিলহজ মিনায় অবস্থান করা সুন্নাত।

* ৯ জিলহজ আরাফার ময়দানে অবস্থান করা ফরজ।

* ৯ জিলহজ সূর্যাস্তের পর থেকে মুজদালিফায় অবস্থান ও রাত্রিযাপন। তবে ১০ জিলহজ ফজরের পর কিছু সময় অবস্থান করা ওয়াজিব।

* ১০ জিলহজ বড় জামরায় কঙ্কর নিক্ষেপ করা ওয়াজিব।

* দমে শোকর তথা হজের কোরবানি করা ওয়াজিব।

* মাথার চুল মুণ্ডন করা ওয়াজিব। তবে চুল ছেঁটেও নেওয়া যায়।

* তাওয়াফে জিয়ারত ফরজ এবং সাঈ করা।

* ১১ ও ১২ জিলহজ প্রতিদিন তিন জামরায় কঙ্কর নিক্ষেপ করা ওয়াজিব।

* মিনার দিনসমূহে মিনাতেই রাত যাপন করা সুন্নাত।

* বিদায়ী তাওয়াফ করা ওয়াজিব।

হজে কিরান আদায়ের পদ্ধতি

* ওমরাহ ও হজ উভয়টির নিয়তে ইহরাম বাঁধা ফরজ।

* ওমরাহর তাওয়াফ করা ওয়াজিব।

* ওমরাহর সাঈ করা ওয়াজিব।

* তাওয়াফে কুদুম করা সুন্নাত।

* ৮ জিলহজ মিনাতে অবস্থান করা সুন্নাত।

* ৯ জিলহজ আরাফার ময়দানে অবস্থান করা ফরজ।

* ৯ জিলহজ সূর্যাস্তের পর থেকে মুজদালিফায় অবস্থান ও রাত্রিযাপন। তবে ১০ জিলহজ ফজরের পর কিছু সময় অবস্থান করা ওয়াজিব।

* ১০ জিলহজ বড় জামরায় কঙ্কর নিক্ষেপ করা ওয়াজিব।

* দমে কিরান তথা হজের কোরবানি করা ওয়াজিব।

* মাথার চুল মুণ্ডন করা ওয়াজিব। তবে চুল ছেঁটেও নেওয়া যায়।

* তাওয়াফে জিয়ারত ফরজ এবং সাঈ করা।

* ১১ ও ১২ জিলহজ প্রতিদিন তিন জামরায় কঙ্কর নিক্ষেপ করা ওয়াজিব।

* মিনার দিনসমূহে মিনাতেই রাত যাপন করা সুন্নাত।

* বিদায়ী তাওয়াফ করা ওয়াজিব।

হজে ইফরাদ

* শুধু হজের নিয়তে ইহরাম বাঁধা ফরজ।

* মক্কা শরিফ পেঁৗছে তাওয়াফে কুদুম করা সুন্নাত।

* মিনায় পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় ও রাত যাপন করা সুন্নাত।

* আরাফার ময়দানে অবস্থান করা ফরজ।

* মুজদালিফায় রাত যাপন করা সুন্নাত। তবে ১০ জিলহজ ফজরের পর কিছু সময় অবস্থান করা ওয়াজিব।

* ১০ জিলহজ বড় জামরায় সাতটি কঙ্কর নিক্ষেপ করা ওয়াজিব।

* যেহেতু এই হজে দমে শোকর ওয়াজিব নয়, তাই কঙ্কর নিক্ষেপের পর মাথা হলক করে নিন; তবে চুল ছেঁটেও নিতে পারেন, এটি ওয়াজিব।

* তাওয়াফে জিয়ারত করা ফরজ। যদি তাওয়াফে কুদুমের পর সাঈ করে থাকেন, তাহলে সাঈ করার প্রয়োজন নেই।

* ১১ ও ১২ জিলহজ প্রতিদিন তিন জামরায় কঙ্কর নিক্ষেপ করা ওয়াজিব।

* মিনার দিনসমূহে মিনাতেই রাত যাপন করা সুন্নাত।

* বিদায়ী তাওয়াফ করা ওয়াজিব।

হজের ফরজ ওয়াজিব সুন্নাত

হজের ফরজসমূহ : হজের ফরজ তিনটি।

এক. ইহরাম বাঁধা। (সুনানে কুবরা : ৯১৯০)

দুই. জিলহজ মাসের ৯ তারিখ সূর্য হেলে পড়ার পর থেকে ঈদুল আজহার দিন সুবহে সাদিক পর্যন্ত যেকোনো সময় আরাফার ময়দানে অবস্থান করা। এ সময়ের মধ্যে অতি অল্প সময়ও আরাফার ময়দানে অবস্থান করলে হজের ফরজ আদায় হয়ে যাবে। (তিরমিজি : ৮১৪)

তিন. আরাফায় অবস্থানের পর কাবা শরিফে সাত চক্কর লাগানো, যাকে তাওয়াফে জিয়ারত বা তাওয়াফে এফাজা বলা হয়।

হজের ওয়াজিবসমূহ : * সামান্য সময়ের জন্য হলেও মুজদালিফায় অবস্থান করা। এর সময় হলো জিলহজের ১০ তারিখ সুবহে সাদিক থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত। (সুরা বাকারাহ : ১৯৮, তিরমিজি : ৮১৫)

* সাফা-মারওয়ায় সাত চক্কর লাগানো, যাকে সাঈ বলা হয়। চক্কর লাগানো শুরু হবে সাফা থেকে আর শেষ হবে মারওয়ায়। (দারা কুতনি : ২৬১৫, মুসলিম : ২১৩৭)

* যথা সময়ে রমি করা। (শয়তানকে পাথর মারা) (মুসলিম : ২২৮৬)

* তামাত্তু ও কিরান হজকারীদের দমে শোকর তথা হজের কোরবানি করা।

* হারামে কোরবানির দিনসমূহে মাথা মুণ্ডানো বা চুল ছোট করা। (মুসলিম : ২২৯৮, বুখারি : ১৬১৩)

* মক্কাবাসী ব্যতীত অন্যরা তাওয়াফে সদর তথা তাওয়াফে ‘বিদা’ করা। (মুসলিম : ২৩৫০)

হজের সুন্নাতসমূহ : * ইহরাম বাঁধার সময় গোসল বা অজু করা এবং শরীরে সুগন্ধি ব্যবহার করা।

* নতুন বা পরিষ্কার চাদর পরা। সাদা হওয়া উত্তম।

* ইহরাম বাঁধার আগে দুই রাকাত নামাজ আদায় করা। (মুসলিম : ২০৩১)

* বেশি বেশি তালবিয়া পড়া। (মুসলিম : ২২৪৬)

* মক্কাবাসী ব্যতীত অন্যরা হজে ইফরাদ বা কিরান করাকালীন তাওয়াফে কুদুম করা। (মুসলিম : ২১৩৯)

* মক্কায় থাকাকালীন বেশি বেশি তাওয়াফ করা। (তিরমিজি : ৭৯৪)

* ‘ইজতিবা’ করা। অর্থাৎ তাওয়াফ শুরু করার আগে চাদরের এক দিককে নিজের ডান বাহুর নিচে রাখা এবং অন্য দিককে বাঁ কাঁধের ওপর পেঁচিয়ে দেওয়া। (তিরমিজি : ৭৮৭)

* তাওয়াফের সময় ‘রমল’ করা। রমলের পদ্ধতি হলো তাওয়াফের প্রথম তিন চক্করের সময় ঘন ঘন কদম ফেলা এবং উভয় কাঁধ হেলাতে হেলাতে চলা। (বুখারি : ১৫০১)। (উল্লেখ্য, ‘রমল’ ও ‘ইজতিবা’ ওই তাওয়াফে সুন্নাত, যে তাওয়াফের পর সাঈ করা হয়)।

* তাওয়াফের প্রতি চক্করে হাজরে আসওয়াদে চুমু দেওয়া। (চুমু দেওয়া সম্ভব না হলে হাজরে আসওয়াদের দিকে হাত উঁচিয়ে ইশারা করে হাতে চুমু দেওয়া)। (বুখারি : ১৫০৬, ১৫০৭)

* কোরবানির দিনসমূহে মিনায় রাত যাপন করা। (আবু দাউদ : ১৬৮৩)

ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ : হ ইহরাম অবস্থায় স্ত্রী সহবাস বা এরূপ কাজে আকৃষ্টকারী কোনো কাজ না করা। (সুরা বাকারাহ : ১৯৮, রূহুল মাআনী : ২/১৬৪)

* কোনো প্রকার হারাম কাজ না করা। (প্রাগুক্ত) হ গালমন্দ ও ঝগড়া থেকে বিরত থাকা। (প্রাগুক্ত)

* সুগন্ধি ব্যবহার না করা। যেমন-আতর, গোলাপ, জাফরান ইত্যাদি।

* পুরুষরা সেলাইকৃত বস্ত্র না পরা। যেমন-কোর্তা, পায়জামা, পাঞ্জাবি, জুব্বা, মোজা ইত্যাদি। সেরূপ মাথা বা মুখ ঢেকে রাখার কাপড়চোপড়। (প্রাগুক্ত)

* নখ, মাথার চুল, দাড়ি এবং নাভির নিচের কেশ ইত্যাদি কর্তন না করা। (সুরা বাকারাহ : ১৯৬, আলফিকহুল ইসলামী ৩/৬০৩)

* চুল বা (কেশ) শরীরের কোনো অঙ্গে ঘ্রাণযুক্ত তেল না লাগানো। (বুখারি : ৪৯১৮, বাদায়ে ৫/১৩০)

* হুদুদে হারামে গাছ বা ঘাস ইত্যাদি কর্তন না করা। হুদুদে হারামে এই কাজ সর্বাবস্থায় হারাম। (বুখারি : ১৪৮৪)

* স্থলের কোনো বন্য প্রাণী শিকার না করা। উক্ত প্রাণী খাওয়া জায়েজ হোক বা নাজায়েজ। (বাকারাহ : ১৯৭, মায়েদা : ৯৬)

সূত্র : কালের কণ্ঠ