Home » পপুলার ডেস্টিনেশন » ভালোবাসার নিদর্শন : দেশে দেশে তাজমহল
ঐতিহাসিক তাজমহলের রেপ্লিকা গড়েছে চীন। আছে বাংলাদেশেও (ইনসেটে)। ছবি : ইন্ডিয়া ডটকম

ভালোবাসার নিদর্শন : দেশে দেশে তাজমহল

শামসুন নাহার
মোগল সম্রাট শাহজাহান তাঁর প্রেমকে অমর করে রাখতে যে কীর্তি স্থাপন করেছেন তা যে সত্যিই কালোত্তীর্ণ, সে কথাই প্রমাণিত হচ্ছে বারবার। সপ্তদশ শতকের সেই অদ্বিতীয় কীর্তিকে পৃথিবীর কোনো না কোনো প্রান্তে কেউ না কেউ অনুকরণ করে চলেছে। খোদ ভারতের ভেতরেই বর্তমানে চলছে আরেক তাজমহলের নির্মাণকাজ।

ভারতের উত্তর প্রদেশের এক অবসরপ্রাপ্ত পোস্টমাস্টার তাঁর সারা জীবনের উপার্জন থেকে বিন্দু বিন্দু করে সঞ্চিত অর্থ দিয়ে নির্মাণ করছেন নতুন তাজমহল। কারণটা সেই সপ্তদশ শতক থেকে প্রবাহিত হয়ে বর্তমান পর্যন্ত চলে এসেছে- প্রেম। উত্তর প্রদেশের বুলন্দ শহরের বাসিন্দা ৮০ বছরের বৃদ্ধ ফয়জুল হাসান কাদরি তাঁর স্ত্রী তাজমুলি বেগমকে ভীষণ ভালোবাসেন। নিঃসন্তান এই জোড়মাণিকের একজন তাজমুলি বেগম ২০১১ সালে মারা যান। কিন্তু তাঁর প্রতি ফয়জুলের ভালোবাসা এখনো অটুট। মৃত্যুপথযাত্রী স্ত্রীর কাছে করা প্রতিজ্ঞা রক্ষা করছেন সর্বস্ব দিয়ে।

ঐতিহাসিক তাজমহলের রেপ্লিকা গড়েছে চীন। আছে বাংলাদেশেও (ইনসেটে)।ছবি : ইন্ডিয়া ডটকম

ঐতিহাসিক তাজমহলের রেপ্লিকা গড়েছে চীন। আছে বাংলাদেশেও (ইনসেটে)। ছবি : ইন্ডিয়া ডটকম

ফয়জুল জানান, ৩৮ বছরের চাকরিজীবনে তিনি প্রতি মাসের শুরুতে স্ত্রীর কাছে তুলে দিতেন উপার্জনের সবটুকু। সেখান থেকে অনেকটাই সঞ্চয় করেছিলেন তাজমুলি। সেই সঞ্চয়ের সঙ্গে মৃত স্ত্রীর গয়না বিক্রির অর্থ মিলিয়ে ১১ লাখ রুপি ব্যয়ে এরই মধ্যে নির্মাণ করা হয়েছে তাজমহলের মূল দুটি ভবন। ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হয় এর নির্মাণকাজ। বুলন্দ শহরে যে ছোট্ট জমিটুকু আছে, সেটুকুও বিক্রি করে বাকি নির্মাণকাজ শেষ করবেন ফয়জুল।

প্রাদেশিক সরকার এ কাজে তাঁকে সহায়তা দিতে চাইলে ফয়জুল তা প্রত্যাখ্যান করেন। যে তাজমহল নিয়ে এত কথকতা সেটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৬৩২ সালে। শেষ হয় ১৬৪৮-এ। মমতাজ বেগমের প্রতি প্রেমের নিদর্শন হিসেবে আগ্রায় নির্মিত এ স্থাপত্যকর্মটি আজ ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের অন্তর্ভুক্ত। শাহজাহানের সন্তান আওরঙ্গজেবের হাতেই শুরু হয় কালজয়ী তাজমহলের অনুকরণ। আওরঙ্গজেব তাঁর মা দিলরাস বানু বেগমের স্মরণে ১৬৫১-১৬৬১ সময়কালে মহারাষ্ট্রে নির্মাণ করেন বিবি কা মকরবা।

আমাদের বাংলাদেশেও আছে ছোট্ট এক তাজমহল। রাজধানী ঢাকা থেকে ১০ মাইল পূর্বদিকে সোনারগাঁ এর অবস্থান। বাংলাদেশি চলচ্চিত্র নির্মাতা আহসানুল্লাহ মনি এর নির্মাতা। ১৯৮০ সালে মূল তাজমহল দেখার পরই তাঁর মাথায় এ ভাবনা আসে। আকারে ছোট হলেও হুবহু আরেকটি তাজমহল নির্মাণ করেন মনি। তাজমহলের অনুকরণ ছড়িয়ে পড়ে ভারতীয় উপমহাদেশের গণ্ডির বাইরেও। নিজেদের মতো করে একটি তাজমহল বানিয়েছে চীন। শেনজেন নামের এক থিম পার্কে সেটি অবস্থিত। এর নাম অবশ্য ভিন্ন। চীনারা এর নাম রেখেছে ‘বিশ্বমুখী জানালা’ তথা ‘উইন্ডো টু দ্য ওয়ার্ল্ড’। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইতে নির্মাণ করা হচ্ছে ‘তাজ অ্যারাবিয়া’ নামের আরেক তাজমহল। মূলত এটি একটি হোটেল। ২০১৭ সালে এটি উদ্বোধন করা হবে।

তাজমহলসদৃশ স্থাপত্য নির্মাণে পিছিয়ে নেই একসময় ভারত শাসন করা ব্রিটিশরাও। সেই ১৭৮৭ সালে ওয়েলসের যুবরাজ জর্জের জন্য সাগরপাড়ে নির্মাণ করা হয় ‘ব্রাইটন প্যাভিলিয়ন’ নামে পরিচিত সেই স্থাপত্যটি। আমেরিকাই বা বাদ থাকবে কেন! ১৯৭০ এর দশকের মাঝামাঝি কোনো একসময় ভারত ভ্রমণে আসেন আমেরিকার এক আঙুর খেতের মালিক বিল হারলান। তখনই পোকা ঢুকে যায় তাঁর মাথায়। দেশে ফিরে তিনি নির্মাণ করেন ‘সসালিটো হাউজবোট’ নামের নিজস্ব তাজমহল। এত কিছুর পরও আজো শিরোমণি হয়ে আছে শাহজাহানের তাজমহল। সূত্র : ইন্ডিয়াডটকম। সৌজন্যে : কালের কণ্ঠ