Home » পপুলার ডেস্টিনেশন » সবচেয়ে বড় পানির সেতু

সবচেয়ে বড় পানির সেতু

ফাহমিদা হক
দেখে মনে হবে যেন এক নদীর ওপর দিয়ে বয়ে চলেছে আরেকটা নদী। অবাক হবেন না, এমন বেশ কয়েকটি পানির সেতু কিন্তু বানানো হয়েছে অনেক আগেই। তবে এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে লম্বা পানির সেতুটি রয়েছে জার্মানিতে। মাগদুবক ওয়াটার ব্রিজ নামে পরিচিত এ সেতু দুটি জলাধারকে সংযোগ করা পৃথিবীর সবচেয়ে লম্বা কৃত্রিম জলের সেতু, যার ওপর দিয়ে কিনা বড় বড় জাহাজ দিব্যি চলতে পারে। এ ধরনের বাকি সংযোগ সেতুগুলোতে যেখানে একসঙ্গে হয়তো বা কয়েকটা ছোট ছোট নৌকা পার হতে পারে, সেখানে ৯১৮ মিটার লম্বা এ জলের সেতুতে চোখে পড়ে শত শত মালবাহী জাহাজের আনাগোনা।

Water-Bridge

নদী থেকে পানি বয়ে এনে শহরে সরবরাহের জন্য নালার প্রচলন সেই প্রাচীনকাল থেকে। তবে যান চলাচলের জন্য এ ধরনের জলের সেতুর ব্যবহার শুরু হয় সপ্তদশ শতকে। ১৮৯৬ সালে ফ্রান্সের লয়ের নদীর ওপর তৈরি করা ৬৬২ মিটার লম্বা জলের সেতুটি ছিল যান চলাচলকারী সবচেয়ে লম্বা নালা। তবে মাগদুবক ওয়াটার ব্রিজটি তৈরি হওয়ার পর সেটির কপালেই জোটে নৌযান চলাচল করা জলবহনকারী সবচেয়ে লম্বা সেতুর তকমা।

বার্লিনের কাছে মাগদুবককে তৈরি করা এ অসাধারণ নালা, কিংবা বলা চলে পানির বিশাল সেতুটি আধুনিক প্রকৌশলবিদ্যার এক অনন্য নিদর্শন। জার্মানির পূর্ব আর পশ্চিমের মধ্যে মালামাল পরিবহনের সুবিধার জন্যই এটি বানানো হয়। এলবে নদীর ওপর বসানো এ সেতু এলবা-হাফে খালের সঙ্গে মিটিল্যান্ড খালকে যোগ করেছে। আগে এ দুটি খালের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় ভারী মালবোঝাই কার্গো জাহাজগুলোকে ভীষণ বেগ পোহাতে হতো। কারণটা ছিল এলবে নদীর কিছু কিছু জায়গায় পানির নিচু স্তর, যার দরুন জাহাজগুলোকে ১২ কিলোমিটারের মতো পথ ঘুরে পার হতে হতো। এতে সময় নষ্ট হওয়ার সঙ্গে ঝক্কিও ছিল অনেক।

এ ঝামেলা থেকে রেহাই পেতে এলবে নদীর ওপর মাগদুবকে ওয়াটার ব্রিজ বানানোর পরিকল্পনা করা হয়। তৈরির কাজ গত শতকের তিরিশের দশকে শুরু হলেও মাঝে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় অনেক বছর ধরে কাজ বন্ধ ছিল। ১৯৯৭ সালে আবার নতুন করে জলের সেতুটির কাজ শুরু হয়। ছয় বছর ধরে চলে বিশাল এ সেতু তৈরির কাজ, আর তাতে খরচ পড়ে পুরো ৫০ কোটি ইউরো বা প্রায় ৪৩০০ কোটি টাকা। ২০০৩ সালে সবার জন্য উন্মুক্ত করার পর এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় যান চলাচলকারী সেতুর খেতাব পায়। এখন মাগদুবক ওয়াটার ব্রিজটি বার্লিনের অভ্যন্তরীণ পোর্টের সঙ্গে রাইন নদীর পাশে থাকা বন্দরগুলোর যোগসূত্র স্থাপন করেছে। সূত্র : কালের কণ্ঠ