Home » বাছাইকৃত » সেরাদের দৌড়ে পুষ্পিতা

সেরাদের দৌড়ে পুষ্পিতা

Pushpita-DTC-Webpage

আলমগীর কবির
প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে স্ট্যাডিং রেওয়াজ চলবে আধাঘণ্টা, তারপর নাশতা করে অন্য কাজ। রাজধানীর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী নুজহাত সাবিহা পুষ্পিতার এই অভ্যাসটা ছোটবেলা থেকেই। বাবা আহমেদ কবিরুল ইসলাম ও মা নুসরাত জাহান বিনা গানপ্রিয় মানুষ, সে সূত্রেই মেয়েকে বুলবুল ললিত কলা অ্যাকাডেমি (বাফা) খিলগাঁও শাখায় ভর্তি করিয়ে দিয়েছিলেন দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ার সময়। টানা চার বছরে ওখান থেকে সম্পন্ন করেছে শিশু কোর্স। তারপর বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে সামসুল হুদা, বিশিষ্ট সঙ্গীত পরিচালক ও সুরকার লোকমান হাকিম-এর তত্ত্বাবধানে গানের তালিম নিয়েছে। সঙ্গীতে হাতেখড়ি বাফার শিক্ষক তাপস চক্রবর্তীর কাছে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগতভাবে তাঁর কাছেই তালিম নিচ্ছে। এ ছাড়া চলতি বছরই ভর্তি হয়েছে ছায়ানটের ‘শিশু কণ্ঠসঙ্গীত’ বিভাগে। সব মিলিয়ে পুষ্পিতার গানের প্রতি আগ্রহ আর মনোযোগ কতটুকু তা বোঝাই যাচ্ছে।

পুষ্পিতার অর্জনও কম নয়। জাতীয় পর্যায়ে অনেকগুলো প্রতিযোগিতায় সেরা ও প্রথম হয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় স্পিকারের হাত দিয়ে একাধিকবার পুরস্কার নিয়েছে সে।

কিন্তু দেশজুড়ে পুষ্পিতা নামটি আলোচনায় এসেছে একটি প্রতিযোগিতার কারণে। ‘বুস্টার এনার্জি বিস্কুট চ্যানেল আই ক্ষুদে গানরাজ ২০১৫’-এর সেরাদের দৌড়ে রয়েছে পুষ্পিতার নামটিও।

Pushpita-DTC-Webpage8

সারা দেশের ৬৫ হাজার প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে বিচারকদের নম্বর ও দর্শকদের ভোটে সে এখন টপ সেভেনের প্রথম। গায়কির যে ঢঙ তাতে পুষ্পিতার অবস্থান যে আরো উপড়ে উঠবে সেটা বলাই যায়। অনুষ্ঠানের নিয়মিত দুই বিচারক নজরুল সঙ্গীতশিল্পী ফেরদৌস আরা ও এস আই টুটুল তার কণ্ঠের নাম দিয়েছেন ‘হাস্কি ভয়েস’। যেকোনো ধরনের গানই নাকি তার কণ্ঠে অন্যরকম আমেজ পায়। প্রধান দুই বিচারকের কাছ থেকে পাওয়া এই উৎসাহ পুষ্পিতাকে স্বপ্ন দেখাচ্ছে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার। এ প্রসঙ্গে পুষ্পিতা বলে, আমি বরাবরই চেষ্টা করি নিজের সেরাটা দেয়ার। উস্তাদজিরা যেভাবে বলেন, আমি সেভাবেই গাওয়ার চেষ্টা করি। সবার দোয়া থাকলে আমি আমার লক্ষ্য পূরণে সচেষ্ট হবো ইনশা আল্লাহ।

Pushpita-DTC-Webpage5

Pushpita-DTC-Webpage4

এই প্রতিযোগিতার কারণেই প্রথমবার ক্যাম্পে থাকার অভিজ্ঞতা হয়েছে তার। এখন চলছে গ্যান্ড ফিনালের চূড়ান্ত প্রস্তুতি। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ছিল বাকিদের সাথে তার সম্পর্ক নিয়ে। সে বলে, সবার সাথেই আমি অনেক ফ্রি। প্রত্যেকেই অনেক ভালো গায়। অল্প দিনে আমাদের মধ্যে বন্ধুত্বও হয়ে গেছে।

তাই এবার যেই চ্যাম্পিয়ন হোক শ্রোতারা ভালো একজন শিল্পীর আগমনি বার্তা পাবেন, এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়। পুষ্পিতা বলে, এখানে চ্যাম্পিয়ন হতে পারা মানে গান শেখার প্রথম ধাপটা পার হওয়া। আশা করি এই ধাপ পার হওয়ার জন্য সবার দোয়া আমার সাথে থাকবে।

ক্ষুদে গানরাজে গাওয়া পুষ্পিতার কয়েকটি গান: