Home » বিচ ভ্যাকেশন » চিত্রার চরে আরেক সুন্দরবন

চিত্রার চরে আরেক সুন্দরবন

আহসানুল করিম
বাগেরহাটের লোকালয়ে চিত্রার চরে আরেক সুন্দরবন গড়ে ওঠায় স্থানীয়দের মাঝে আনন্দের জোয়ার বইছে। প্রাকৃতিকভাবে কয়েকশ’ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা এই বনকে দেখতে আসছেন অনেক পর্যটক। এ খবর গণমাধ্যমে প্রকাশের পর বনবিভাগ এ বনকে রক্ষার উদ্যোগও গ্রহণ করেছে।

Chitra

জানা গেছে, সুন্দরবনের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার উত্তরে বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের সীমান্ত ঘেঁষে বয়ে যাওয়া খরস্রোতা চিত্রা নদীর বিস্তীর্ণ চর ও আশপাশে নদীর দুই পাড়ে ১৫-২০টি গ্রামজুড়ে গড়ে উঠেছে এই বন। উপজেলার রায়গ্রাম, শুরিগাতী, খিলিগাতী, করাতদিয়া, ডুমুরিয়া, আড়ুলিয়া, খড়িয়াসহ গ্রায় ১৫-২০টি গ্রাম মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে এখন বনাঞ্চলে পরিণত হয়েছে।

এখানকার অধিকাংশ বাড়ির আঙিনাসহ আশপাশে আবাদি-অনাবাদি জমিতেও এখন গোলপাতা, কেওড়া, ওড়া, সুন্দরীসহ নানা প্রজাতির গাছ প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে উঠছে। এ ছাড়া নদীর দুই কূলজুড়ে চিত্রা নদীর বিস্তৃর্ণ চর এলাকায় বৃদ্ধি পাচ্ছে গাছের সংখ্যা। বাঘ-হরিণের দেখা না মিললেও এ সুন্দরবনে নানা বন্যপ্রাণীর দেখা মিলেছে। এ ছাড়া এখানে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে ঘন অরণ্য। মেছো বাঘ, বাঘডাসা, খাটাশ, বিষধর সাপ, তক্ষক, বনবিড়াল, শিয়াল, গুঁইসাপসহ বিপন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণীর বিচরণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে এলাকাটি। মৌমাছিরা মধু আহরণ করে গাছপালায় মৌচাক তৈরি করছে। মাছরাঙা, ঘুঘু, শালিক, টিয়া, পানকৌড়ি, বক, দোয়েল, ঘড়িয়াল, টুনটুনিসহ প্রায় অর্ধশত প্রজাতির পাখির সন্ধান মিলেছে এখানে। এসব পাখির কল-কাকলিতে বন এখন মুখরিত।

এ ছাড়া সুন্দরী, গোলপাতা, কেওড়া, গেওয়া, ওড়াসহ নানা প্রজাতির গাছ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। অসংখ্য প্রকার সুন্দরবনের উদ্ভিদ জন্ম নেয় এখানে। এতে গ্রামবাসীর মধ্যে যেমন আশার আলো দেখা দিয়েছে, তেমনি পরিবেশের জন্য এ বন এখন আশীর্বাদস্বরূপ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

লোকালয়ের এই বনকে পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় করতে নানা পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. হারুন-আর রশিদ মজুমদার।

তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে পরিবেশকে রক্ষার জন্য বনাঞ্চল রক্ষা করা খুবই জরুরি। আমরা গড়ে ওঠা এই বনটিকে টিকিয়ে রাখার জন্য সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাব। শিগগিরই এখানকার গাছপালা রক্ষার ব্যাপারে টহল বসানো হবে এবং উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলে এখানে হরিণ-বানরসহ বিভিন্ন প্রাণী অবমুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বনবিভাগের ক্যাম্প স্থাপন করার বিষয়টিও ভেবে দেখা হচ্ছে। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি অবহিতকরণের মাধ্যমে বাইরে থেকে আগত ভ্রমণার্থীদের জন্য নিরাপত্তা ও উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির জন্য একটি বড় ধরনের প্রকল্প পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. রাশেদ শেখ বলেন, আমাদের এলাকার ঐতিহ্য চিত্রা পাড়ের সুন্দরবন। এই সুন্দরবনকে রক্ষণাবেক্ষণের পাশাপাশি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা হলে এলাকার অধিকাংশ মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। অল্প সময়ের মধ্যে মিনি সুন্দরবন ঘুরে দেখতে পারবে পর্যটকরা। সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন