Home » পপুলার ডেস্টিনেশন » বিশ্বের জনপ্রিয় ৮ শহরে ভ্রমণ

বিশ্বের জনপ্রিয় ৮ শহরে ভ্রমণ

পৃথিবীর বুকে রয়েছে অপরূপ সাজে সাজানো নানা রঙের নানা সৌন্দর্যের হরেকরকম দেশ। আর এই দেশেগুলোতে গড়ে উঠেছে প্রাকৃতিক ও নিজেস্ব সংস্কৃতির আদলে অসংখ্য স্থাপনা। যার কিছু কিছু স্থাপনা হূদয় কাড়ে সকলের, বিশেষ করে পর্যটকদের। ভ্রমণপিপাসু মানুষ বারবার ছুটে যায় সেই প্রিয় শহরগুলোতে। মেটায় হূদয়ে লালন করা অদম্য ইচ্ছা। দিনে দিনে পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে শহরগুলো, হয়ে ওঠে তাদের স্বপ্নের শহর। পুরো পৃথিবীজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে তার রূপের মহিমা। এমনি কিছু শহর নিয়ে আমাদের আজকের আয়োজন। লিখেছেন এ এম রুবেল

Travel2

কক্সবাজার

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি বাংলাদেশ। এই ছোট দেশটিতে রয়েছে অসংখ্য প্রাকৃতিক স্থাপনা যা খুব সহজেই আকৃষ্ট করে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ভ্রমণপিপাসু মানুষকে। যার অন্যতম একটি স্থাপনা হলো বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার। সারা পৃথিবীব্যাপী সুপরিচিত বিশ্বের সপ্তম প্রাকৃতিক সোন্দর্যের অন্তর্ভূক্ত এই কক্সবাজারকে কে না চেনে! কক্সবাজার নামটি এসেছে ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির ক্যাপ্টেন হিরাম কক্স-এর নামানুসারে। পূর্বে এই কক্সবাজার পালংকি নামে পরিচিত ছিল। নৈসর্গিক সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত এই শহরে প্রতিবছর দেশ-বিদেশের লাখ লাখ পর্যটক আসেন। কক্সবাজার শহর থেকে নৈকট্যের কারণে ‘লাবণী বিচ’কে কক্সবাজারের প্রধান সমুদ্রসৈকত বলে বিবেচনা করা হয়। এছাড়া আকর্ষণীয় ভঙুর পাহাড় আর ঝরনা বেষ্টিত হিমছড়ি কক্সবাজার থেকে মাত্র ১৮ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। তবে পর্যটকদের কাছে সমুদ্রসৈকতের আকর্ষণ শীর্ষে। সৈকতটি কক্সবাজার শহর থেকে বদরমোকাম পর্যন্ত একটানা ৬৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। পর্যটনশিল্পকে কেন্দ্র করে বেসরকারি উদ্যোগে এখানে গড়ে উঠেছে অনেক প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ পর্যটন কেন্দ্র নির্মিত মোটেল ছাড়াও সৈকতের নিকটেই রয়েছে পাঁচতারা হোটেলসহ অনেক আবাসিক স্থাপনা। সমুদ্রসৈকত ছাড়াও এ এই শহরে রয়েছে বৌদ্ধমন্দির, ইনানি বিচ, হিমছড়ি, সাফারি পার্কসহ নানা প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম নিদর্শন, যা পর্যটকের চোখ জুড়িয়ে দেয় তার নৈসর্গিক রূপের মহিমায়।

স্পেনস সিয়েস

স্পেনের সিয়েস দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে গঠিত আইসল্যান্ড সিয়েস বিশ্বের সেরা পর্যটন কেন্দ্রের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে অনেক আগেই। স্থানীয় ভাষায় এ দ্বীপপুঞ্জকে ‘লাস আইসল্যান্ড সিয়েস’ বলা হয়। এই দ্বীপপুঞ্জ বা ছোট্ট শহরে বিনোদন, আমোদ-প্রমোদ ও অবকাশের অনেককিছুই রয়েছে। আনন্দ উল্লাসে কখন যে সময় পার হয়ে যায় তা টেরই পাওয়া যায় না। সারাবছরই এখানে পর্যটকের আগমন ঘটে, তবে গ্রীষ্মকালে সবচেয়ে বেশি ভিড় পরিলক্ষিত হয়। এ দ্বীপপুঞ্জের তিনটি দ্বীপ হলো মন্টেগিউদো, দো ফারো ও সান মার্টিনো। মন্টেগিউদোকে শার্প মাউন্ট কিংবা উত্তর দ্বীপ এবং দো ফারোকে লাইটহাউস দ্বীপ ও দক্ষিণ দ্বীপ নামেও অভিহিত করা হয়। মন্টেগিউদো সৈকতকে ‘মোস্ট বিউটিফুল বিচ অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ নাম দেওয়া হয়েছিল। প্রায় ২০০ বছর আগে এসব দ্বীপে মানুষ বসবাস করলেও জলদস্যুর আক্রমণে দ্বীপগুলো মানব শূন্য হয়ে যায়। ১৯৮০ সালে এ দ্বীপপুঞ্জ বসতিবিহীন ন্যাশনাল পার্ক নামে সংরক্ষিত প্রকৃতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ১৯৯২ সাল থেকে এই সৈকতে মাছ এবং ১৯৮৮ সাল থেকে পাখি শিকার নিষিদ্ধ করা হয়। প্রাকৃতির লীলায় বেড়ে ওঠা ওক, ডুমুর, পাইন, ইউক্যালিপটাস, কাঁটাওয়ালা চিরহরিত্ গুল্ম, খাড়া ডালওয়ালা গুল্মসহ বিভিন্ন লতাপাতায় ঢাকা ঝোপঝাড় এই সৈকতের অন্যতম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। যার টানে ছুটে আসে পৃথিবীর নানা দেশের অগণিত পর্যটক।

পাতায়া

পৃথিবীতে রাতের আঁধারে জেগে ওঠা যে কয়টি শহর রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হলো পাতায়া। ব্যাংকক থেকে মাত্র ২০০ কিলোমিটার দূরে সমুদ্রতীরে অবস্থিত ছিমছাম এই ছোট শহর দৃষ্টি কাড়তে ভুল করে না পর্যটকদের। এখানে পর্যটকদের ভিড়ে রাতের গভীরতা পাল্লা দেয় আলোর ঝলকানির সাথে। সেই সাথে চলে সুরের মূর্ছনা। কি নেই এখানে! নাইট ক্লাব, রেস্তোরাঁ, সমুদ্রের তীর সবকিছু মিলে যেন অন্য এক জগত্। ব্যাংকক থেকে বাসে মাত্র দু-তিন ঘণ্টায় দেড়শ’ কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্লাইওভারের ওপর দিয়ে পৌঁছানো যায় এই সমুদ্রতীরের ছিমছাম শহরে। এই বিনোদনের স্বর্গরাজ্যে আমাদের কক্সবাজারের মতো বিশাল ঢেউ না থাকলেও বড়ই মোহনীয়। সমুদ্রের ভেতরের বিশাল বিশাল নৌযানগুলো দেখলে মনে হয় একেকটি যেন ছোট্ট শহর।

এই ছিমছাম শহর থেকে সমুদ্রের ভেতরে দৃষ্টি মেললেই চোখে পড়ে দৃষ্টিনন্দনভাবে সাজানো অসংখ্য কোরাল দ্বীপ। ইচ্ছে করলেই পাতায়া থেকে সেইসব দ্বীপ সহজেই ঘুরে ফেরা যায় সন্ধ্যা হওয়ার আগেই। বেশ কয়েকটি বাংলা-ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্টসহ পাতায়ায় রয়েছে অনেক হোটেল, রিসোর্ট এবং রেস্টহাউস। এখানে আবাসিক হোটেলগুলোতে ভাড়া এবং খাবার খরচ খুবই কম। এছাড়াও ব্যাংকক থেকে মাত্র ৪০ কিলোমিটার দূরে বিশাল এলাকা নিয়ে বাঘ, সিংহ, জিরাফ, গণ্ডার, ময়ূর, হরিণ, ভাল্লুকসহ হরেক জীবজন্তু আর পাখপাখালির সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে একটি থিমপার্ক । ০০৭ খ্যাত জেমস বন্ড সিরিজের চলচ্চিত্রের জীবন্ত প্রদর্শনী দেখা যায় এই সাফারি ওয়ার্ল্ডে। বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারের ভস্মীভূত হওয়ার দৃশ্য, আগুনে পুড়ে মানুষের কঙ্কাল হয়ে যাওয়া, সাগরের ভেতর দিয়ে দ্রুতগতিতে স্পিডবোটে হিরোইনের চলে আসা এমন অনেক আকর্ষণীয় দৃশ্যে সাজানো হয়েছে সাফারি ওয়ার্ল্ড। যে কারণে পাতায়াকে বিনোদনের স্বর্গরাজ্য হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

বালি

খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দে আবিস্কৃত হওয়া ইন্দোনেশিয়ার ৩৩তম প্রদেশ বালি বিশ্বের অন্যতম পর্যটন শহর হিসেবে আমাদের কাছে বহুল পরিচিত। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতিবছর লাখ লাখ মানুষ অবকাশ যাপনের জন্য এই শহরে আসে। বালির অপরূপ সৌন্দর্যে বিমোহিত হয়ে মানুষ প্রাণের টানে বারবার এখানে ফিরে আসে এখানে। পর্যটকদের হূদয়ের রাণী এই শহরে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা থাকায় পর্যটকদের ভিড় সবসময় লেগেই থাকে। এ শহরের প্রধান আকর্ষণ হলো বালি দ্বীপ এবং এর সৌন্দর্য। পূর্ব ও পশ্চিম পাহাড় দ্বারা বেষ্টিত এ দ্বীপ মূলত একটি হিন্দুপ্রধান প্রদেশ। মুসলিম, খ্রিস্টান ও অন্যান্য ধর্মের মানুষ থাকলেও এই শহরে হিন্দুদের সংখ্যা প্রায় ৯০ ভাগ। যার ফলে বালি মূলত ইন্ডিয়ান ও চাইনিজ কালচারে গড়ে উঠেছে।

বালিতে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, পাঁচতারকা হোটেল, মোটেল, ক্যাসিনো, বারসহ অনেককিছু থাকায় যেকোনো ধরনের পর্যটক এ দ্বীপ সফর করতে পারে খুব সহজেই। জেমবারানা, টাবানা, বেডুং, জিয়ানইয়ান, কুলাংকুন, বানলি, কারানগাছেম, বুলেলেং ও ডেনপাসার এই আটটি ভাগে বালিকে ভাগ করা হলেও একমাত্র শহর ডেনপাসার। বালির প্রধান পর্যটন কেন্দ্র হলো কুতা সমুদ্রসৈকত।

প্যারিস

প্যারিসের নামটা শুনলেই মনের পর্দায় ভেসে ওঠে শহরের মাঝখানে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা আইফেল টাওয়ারের কথা। যা স্থান করে নিয়েছে বিশ্বের সপ্তম আশ্চর্যের মাঝে। শিল্প ও সাহিত্যের শহর প্যারিসের পর্যটন ব্যবসা প্রধানত এই টাওয়ারকে কেন্দ্র করেই ঘুরপাক খাচ্ছে। এই শহরে দেখার মতো প্রাচীন সভ্যতা থেকে শুরু করে আধুনিক সভ্যতার অনেক স্থাপনা রয়েছে। বিশেষ করে মধুচন্দ্রিমা উদযাপনের জন্য নবদম্পতিদের কাছে পছন্দের তালিকায় এ শহরের অবস্থান শীর্ষে থাকলেও সবকিছুকে ছাপিয়ে গেছে আইফেল টাওয়ার। বিশ্বের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র আইফেল টাওয়ারটি স্থাপনা নির্মাণের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ঘটনা। ১৮৮৭ সালে ফ্রান্স সরকার যখন ফরাসি বিপ্লবের শতবার্ষিকী পালনের তোড়জোড় করছিল তখন সে ঘটনাটিকে স্মরণীয় এক নিদর্শনে ধরে রাখার জন্যই এই প্রতীক মিনারটি তৈরির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় এবং ১৮৮৯ সালের ৩১ মার্চ মাত্র দুই বছর, দুই মাস, দুই দিনে টাওয়ারটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছিল। এই সাত হাজার টন ওজনের স্থাপনাটিতে অর্ধবৃত্তাকার চারটি তোরণ, ওঠানামার জন্য কয়েকটি লিফট এবং ১৭৯২টি সিঁড়ি আছে। সারাবছর অগণিত পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত থাকে এই পর্যটন কেন্দ্রটি।

কাঠমান্ডু

আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতের গা ঘেঁষা ছোট একটি দেশ নেপাল। ছোট হলেও অপরূপ সোন্দর্যের ছোঁয়া দেশটির প্রতিটি কোণেই যে লেগে আছে তা নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। এখানেও গড়ে ওঠেছে তাদের নিজেস্ব সংস্কৃতির আদলে নানা স্থাপনা। যার অন্যতম হলো নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু। স্থাপনাটি মূলত তিনটি শহর কাঠমান্ডু, ভক্তপুর ও পাটন বা ললিতপুর নিয়ে গড়ে উঠেছে। আর এই ললিতপুর হলো নেপালের প্রাচীন রাজবংশের আবাসস্থল। ১২০০ শতকের রাজপ্রাসাদ ও অভিজাতদের প্রাসাদসহ পুরো এলাকাটি পর্যটকদের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে। এখানে কোনো আধুনিক স্থাপনা নির্মাণ নিষিদ্ধ। কাঠমান্ডুতে বুদ্ধনাথ বা বোধনাথ মন্দিরসহ অসংখ্য মন্দির রয়েছে, যা খুব সহজেই পর্যটকদের দৃষ্টি কাড়ে। নেপালের সংস্কৃতির অন্যতম পবিত্র জায়গা এই কাঠমান্ডুর মন্দিরগুলো। ধবধবে সাদা মূল মন্দিরটি ঘিরে অসংখ্য উপাসনালয় এবং দোকান রয়েছে। চারদিকে একসঙ্গে দল বেঁধে উড়ে বেড়ায় অসংখ্য পায়রা। এছাড়াও পর্যটকদের আকৃষ্ট করার জন্য রয়েছে বালাজি ওয়াটার গার্ডেন, রয়েছে সাউথ এশিয়ার অন্যতম বিখ্যাত বৌদ্ধমন্দির শম্ভুনাথ স্তূপাতে। এই বৌদ্ধমন্দিরটি মাংকি টেম্পল নামেও পর্যটকদের কাছে পরিচিত। অন্যদিকে নগরকোটের রিসোর্টে দাঁড়িয়ে সূর্যাস্ত বা সূর্যোদয় দেখার মজাই যেন অন্যরকম। এই অপরূপ সোন্দর্যের টানে প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক ভিড় করেন নেপালের এই দৃষ্টিনন্দন শহর কাঠমান্ডুতে।

আগ্রা

কথায় আছে যে ভারতবর্ষ পুরো দেখবে সে পৃথিবীর অর্ধেক দেখবে। শুধু কথায় নয়, কাজেও রয়েছে অসম্ভব মিল। ভারতের পর্যটন শিল্পের কথা লিখে শেষ করা যাবে না। এখানে যুগে যুগে গড়ে ওঠেছে অসংখ্য দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা। বলা যায়, ভারতের পর্যটনশিল্প দাঁড়িয়ে আছে এই সকল প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম স্থাপনার ওপর। যার মধ্যে অন্যতম হলো সম্রাট শাজাহানের প্রাণপ্রিয় সহধর্মিণী মমতাজের প্রতি ভালোবাসার বাস্তব নিদর্শন আগ্রার তাজমহল। এই তাজমহলকে ঘিরে পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত থাকে পুরো আগ্রা শহর। এই শহরে তাজমহল ছাড়াও অনেক প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় সভ্যতার নিদর্শন থাকলেও সবার দৃষ্টি থাকে সম্রাট শাহজাহানের তৈরি এ স্থাপত্যের দিকে। ভ্রমণপিপাসুদের কাছে প্রথম পছন্দের এই তাজমহলকে ভারতীয় পর্যটন শিল্পের মেরুদণ্ড বলা হয়। বিশেষ করে এই তাজমহলটি নতুন বিবাহিতদের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান হিসেবে সুপরিচিত। দিল্লি থেকে সড়কপথের দূরত্ব খুব একটা বেশি না হওয়ায় বাইরের পর্যটকরা আগ্রায় ভিড় করেন বেশি। ১৬৩২ সালে বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী নকশার ওপর, বিশেষ করে পারস্য ও মোগল স্থাপত্য অনুসারে সৌধটির নির্মাণ কাজ শুরু হয় এবং ১৬৪৮ সালে এটি পূর্ণতা পায় । ১৯৮৩ সালে ইউনেস্কো তাজমহলকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে তালিকাভূক্ত করে। এছাড়াও তাজমহলের কাছাকাছি এলাকায় সম্রাট আকবরের বিলাসবহুল দুর্গসহ অসংখ্য মোগল স্থাপত্য রয়েছে।

সিঙ্গাপুর সিটি

বর্তমানে পর্যটন শিল্পকে কেন্দ্র করে বিশ্বে যে কয়েকটি দেশ মাথা উঁচু করে এগিয়ে চলছে তার মাঝে সিঙ্গাপুর সবার আগে স্থান পায়। এই দেশটিতে রয়েছে দেখার মতো অসংখ্য স্থাপনা, যা সহজেই পর্যটকদের দৃষ্টি কেড়ে নেয়। এখানকার অসাধারণ স্থাপনাগুলোর মধ্যে মারলাওন পার্ক, সান্তোসা আইল্যান্ড, নাইট সাফারি উল্লেখযোগ্য। নাইট সাফারির অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে বাঘ, হরিণ, ভাল্লুক, হাতি, উট, কুমিরসহ নানা প্রজাতির অসংখ্য পশু-পাখি। গভীর রাতে এই নাইট সাফারির জঙ্গলে পশু-পাখির মাঝ দিয়ে ট্রামে করে মনের আনন্দে ঘুরে বেড়ান পর্যটকরা। সাফারিতে পশু-পাখিরা উন্মুক্ত হয়ে ঘুরে বেড়ায়। ম্যারিনা বে-এর মারলাওন পার্কে অবস্থিত সিঙ্গাপুরীদের গর্বের আর বীরত্বের প্রতীক মারলিন মূর্তি বা সিংহ-মত্স্য। জনশ্রুতি আছে পূর্বে যখন সিঙ্গাপুর তেমাসেক বা সমুদ্রনগরী নামে পরিচিত ছিল তখন দ্বীপে প্রচণ্ড বেগে এক সামুদ্রিক ঝড় ওঠে। আর এই ঝড় থেকে বাঁচতে অধিবাসীরা নিজেদের প্রাণ যখন ঈশ্বরের নিকট সঁপে দেয় ঠিক তখনই সমুদ্র থেকে সিংহ-মত্স্য আকৃতির এক দানব এসে ঝড়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে তাদের বাঁচিয়ে দেয়। তারপর থেকে মারলিন নামের সিংহ-মত্স্য সিঙ্গাপুরীদের গর্ব আর বীরত্বের প্রতীক হয়ে ওঠে।

আর সমুদ্রের বুকে ছোট এক দ্বীপে গড়ে তোলা বিনোদন কেন্দ্র সান্তোসা আইল্যান্ড। যেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক ভিড় করে একটু বিনোদনের ছোঁয়া পেতে। পর্যটকদের কাছে এই সান্তোসা আইল্যান্ড এক অসম্ভব জনপ্রিয় একটি বিনোদন পর্যটন কেন্দ্র। কয়েক মিলিয়ন পর্যটক প্রতিবছর সিঙ্গাপুর ভ্রমণ করে তাদের প্রিয় শহরের বুকে খুঁজে নেন প্রাণের স্পন্ধন। সূত্র : ইত্তেফাক