Home » পপুলার ডেস্টিনেশন » ইতালি ভ্রমণ : কেন যাবেন, কীভাবে যাবেন

ইতালি ভ্রমণ : কেন যাবেন, কীভাবে যাবেন

DTC-Travel-ad

প্রাচীন সভ্যতা আর আধুনিকতার পাশাপাশি মনোরম সমুদ্রসৈকত, আলপাইন লেক, আল্পস পর্বতমালার সমন্বয়ে গঠিত ইতালি পর্যটকদের জন্য এক অনন্য আকর্ষণীয় গন্তব্য। ইতালি দেশ হিসেবে খুব একটা বড় না হলেও শৈল্পিক নিদর্শন ও প্রাকৃতিক দৃশ্যের জন্য সারা বিশ্বেই সমাদৃত। ইতালির প্রতিটি স্থানেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে প্রাচীন সভ্যতার অসংখ্য নিদর্শন। জানাচ্ছেন- আবদুল কাদের

Italy

কেন যাবেন : ইতালি প্রাচীন সভ্যতার এক অনন্য নগরী। পশ্চিম ইউরোপের একীভূত প্রজাতান্ত্রিক স্বাধীন রাষ্ট্র। রাজধানী রোম পিলিওলিথিক যুগের প্রাচীন শহর। ইতালি ইউরোপের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও শিল্প-সংস্কৃতির এক অনন্য তীর্থভূমি। প্রাচীনকালে এখানে ছোট্ট জনপদ গড়ে উঠেছিল, যাকে সুসভ্য গ্রিকরা ইতালিয়া বলে ডাকত। ইতালি প্রাচীন গ্রিক ও রোমান সংস্কৃতির সংমিশ্রণে রোমান সভ্যতার নগরী। আত্দীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব বা পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে কিছু সময়ের জন্য হারিয়ে যেতে পারেন প্রাচীন এই নগরীতে। ভ্রমণপিপাসুদের জন্য ইতালি পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের দর্শনীয় স্থানের মধ্যে অন্যতম।

কীভাবে যাবেন : সব জাতীয় ভ্রমণের জন্য প্রথম শর্ত হলো বৈধ ভিসা। ইউরোপের এই দেশে ভ্রমণের ভিসা পাওয়া গেলে আপনি আরও বেশ কয়েকটি দেশ অনায়াসেই ঘুরে আসতে পারবেন। এর জন্য প্রথমেই আপনাকে আমাদের দেশে অবস্থানরত ইতালিয়ান অ্যাম্বাসি থেকে ট্যুরিস্ট ভিসা সংগ্রহ করতে হবে, এরপর সরাসরি বিমানে করে আপনি লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির দেশ ভ্রমণ করতে পারবেন।

ভিসা প্রসেসিং : যে কোনো পাসপোর্টধারী ভিসার আবেদন করতে পারবেন। এ জন্য সেনজেন ভিসার আবেদন করতে হবে। ভিসা প্রসেসিং-এর জন্য সময়ও খুব বেশি লাগে না। যে কোনো ভ্রমণ ভিসার ক্ষেত্রেই বৈধ ভিসা প্রয়োজন। আমাদের দেশে অনেক প্রতিষ্ঠান আছে, যারা ইতালির ভ্রমণ ভিসা প্রসেসিং করে থাকে। এ ছাড়া অনলাইনে নিজেই ভিসার আবেদন করতে পারবেন। ভিসার জন্য নিচের ঠিকানায় যোগাযোগ করতে পারেন। ইতালি ভিসা ও লিগ্যালাইজেশন সেন্টার, রাসেল পার্ক (১ম তলা), বাড়ি- ১০১, রোড- ১৩/এ, ব্লক-সি, বনানী, ঢাকা-১২১৩, বাংলাদেশ। ফোন : (+৮৮) ০৯৬০৬৭৭৭৬৬৬, ই-মেইল : info.itbdvfshelpline.com, ওয়েব: http://www.vfsglobal-it-bd.com । অ্যাম্বাসি অব ইতালি; প্লট ২/৩, রোড ৭৪/৭৯, গুলশান-২, ঢাকা। ফোন : +৮৮-২-৮৮২২৭৮১-৩, ওয়েব : www.ambdhaka.esteri.it.

Italy2

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র : পূর্ণ ভিসার মূল শর্ত হলো সঠিকভাবে ভিসা আবেদনপত্র পূরণ। ঢাকার ইতালি অ্যাম্বাসির অনলাইনেও আবেদনপত্র ডাউনলোড করে আবেদন করতে পারবেন। ভিসার জন্য মূল পাসপোর্টের পরিষ্কার ফটোকপি, ভোটার আইডি, সদ্য তোলা সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের ৪ কপি রঙিন পাসপোর্ট সাইজের ছবি, ট্রেড লাইসেন্স, বাড়ির কারেন্ট বিলের মূলকপি ও ফটোকপি। ছয় মাসের ব্যাংক এস্টেটমেন্ট, সদ্য দম্পতির জন্য ম্যারেজ সার্টিফিকেট। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধন ও বাবা-মা উভয়ের স্বাক্ষরসহ পাসপোর্টের ফটোকপি থাকতে হবে। যদি আগে সেনজেন ভিসা থাকে, তবে অবশ্যই তার ফটোকপিও জমা দিতে হবে। ভিসার মেয়াদ থেকে পাসপোর্টের মেয়াদ অন্তত ১৮০ দিন বেশি থাকতে হবে। পাসপোর্টে অন্তত দুটি পেজ ফাঁকা থাকতে হবে। ভিসার জন্য খরচ পড়বে মাত্র ৭৪৬০ টাকা। ৬ থেকে ১২ বছরের বাচ্চাদের জন্য ভিসার খরচ ৫২১০ টাকা। সর্বোপরি আবেদনপত্র সঠিক ও যথাযথভাবে পূরণ করতে হবে, তবেই আপনি ভিসা পেতে পারেন।

থাকা-খাওয়া : ইতালিতে প্রতি বছর লাখো দর্শনার্থীর ভিড় লেগেই থাকে। সাংস্কৃতিক প্রাচুর্যের দেশ ইতালিতে পর্যটকদের জন্য বিলাসবহুল হোটেল ও ভালো মানের খাবার রেস্টুরেন্টের কোনো ঘাটতি নেই। ইতালির বড় ও পর্যটন শহরগুলো বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের শহরগুলোতে পর্যটকদের জন্য খরচ একটু বেশি। নজরকাড়া এসব বিলাসবহুল হোটেলে রয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্যুইট, বার, রেস্তোরাঁ, জিমনেশিয়াম, গেস্ট রুম ইত্যাদি।

কেনাকাটা : ঘুরতে যাবেন আর কেনাকাটা করবেন না, তা কী হয়? এখানকার প্রতিটি শহরে অনেক বড় বড় শপিং সেন্টার রয়েছে। আগত দর্শনার্থীরা এখানকার ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ নিত্যনতুন পণ্যসামগ্রী ক্রয় করে থাকেন। এ ছাড়া শিল্পবৈচিত্র্যের ইতালিতে অনেক পর্যটকই আসেন তাদের পছন্দের বাঁধাই করা পেইন্টিং নিতে। এখানে শপিং করার জন্য একটু বেশি খরচ করতে হয়।

Italy3

দর্শনীয় স্থানসমূহ : দক্ষিণ ইউরোপের দেশ ইতালি। পশ্চিমা সংস্কৃতি ও সভ্যতার সূতিকাগার বলে পরিচিত গ্রিস এবং ইতালি। নানা ভাস্কর্য আর শৈল্পিক নিদর্শন ছড়িয়ে আছে ইতালিজুড়ে। ইতালিতে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক প্রাকৃতিক পরিবেশ চারপাশে। এখানে দর্শনীয়স্থানগুলোর মধ্যে অনেক বৈচিত্র্য আছে। চারদিকে পাহাড়ি এলাকা, পাশেই বিশাল সমুদ্র। শিল্প-সংস্কৃতির ইতালিতে অসংখ্য দর্শনীয়স্থান রয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো গ্রেইপ ভাইন। ঢালু পাহাড়ি জমিনে আঙ্গুর খেতের জমাট বুনন। সবকিছুতেই যেন কিছুটা দারিদ্র্যের ছোঁয়া। হলদেটে পুরনো জরাজীর্ণ দালানকোঠা। উঠোনে খড়-বিচালির ছড়াছড়ি। মিলানের আশপাশের শহরগুলোতে বেশকিছু সুদৃশ্য, অভিজাত ভিলা চোখে পড়বে। ঝকঝকে নীল আকাশের নিচে নিরিবিলি ভিলাগুলোর সামনে শৌখিন চেয়ার পাতা, ছাউনিতে ঢুলুঢুলু অবকাশ যাপনের হাতছানি। এ ছাড়া মিলান শহরে যেতে পারেন। এখানে গেলে আপনি লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির ‘দ্য লাস্ট সাপার’ চিত্রকর্মটি দেখতে পাবেন। ইতালির ‘লেক কমো’ জায়গাটি আরও মনোমুঙ্কর। এখানে এক জায়গায় অনেক হ্রদ রয়েছে। এখানে আপনার প্রিয়জনকে নিয়ে গেলে কখন যে সময় কেটে যাবে টেরও পাবেন না। মধ্যযুগীয় সান গিমিগন্যানোতে রয়েছে বিখ্যাত পাথরের টাওয়ার। পাথরের হরেক রকম ভাস্কর্য পুরো এলাকাটিকে একটি পাথরের বিশাল প্রাসাদ মনে হবে। সঙ্গে পাবেন প্রকৃতির নির্মল সবুজের ছোঁয়া। ইতালিয়ান রিভায়েরা প্রাচীনতম শহরগুলোর মধ্যে অন্যতম। শহরটি ভূমধ্যসাগরের পাশে হওয়াতে জায়গাটি দেখতে অসাধারণ। সাগরের পাশে বড় বড় দালান, আর আধুনিকতার ছোঁয়ায় রিভায়েরা অপরূপ। এ ছাড়া বিশ্ববিখ্যাত পিসা টাওয়ারটি এখানে অবস্থিত। সাগর, পাহাড়, বড় বড় দালানের মিশেলে দারুণ পর্যটনস্থান। প্রায় দুই লাখ বছর আগের পিলিওলিথিক যুগ থেকে ইতালিজুড়ে আধুনিক সভ্য মানুষের বসবাস। রোমের কলসিয়াম প্রাচীন স্থাপত্য অনেক প্রাচীন। ইতালিতে প্রাথমিক পর্যায়ে এটি ফ্ল্যাবিয়ান নামে পরিচিত ছিল। এস্ফিথিয়েটার অর্থ রঙ্গস্থল। সাধারণত এই ধরনের রঙ্গস্থল হতো ডিম্বাকৃতি বা বৃত্তাকার অট্টালিকা, যার মধ্যে সিঁড়ির মতো ধাপে ধাপে বসার স্থান থাকত। রোমের কলসিয়ামটি উপবৃত্ত বা ডিম্বাকৃতি রঙ্গস্থল, যেটি নগরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। কোমো হলো ইতালির অন্যরমক দর্শনীয়স্থান। পাহাড়ে মোড়ানো জায়গার পাশ দিয়ে বয়ে গেছে নদী। পোসিআতয়ানো হলো ইতালির সবচেয়ে ছোট শহর। এ ছাড়া পোম্পি পাথরের পরিচ্ছন্ন দুর্গটি দেখতে অপরূপ। পিয়াইজা দেল ক্যামপোট অন্যতম প্রাচীন সব স্থাপনা আর শৈল্পিক শহর। সান্তামারিয়া দেলফিওর ছোট্ট শহরটিও রূপ- বৈচিত্র্যে অপরূপ। এ ছাড়া ভেনিসের হ্রদে নৌকাভ্রমণ পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ। ঝকঝকে নীল আকাশের নিচে নৌকা নিয়ে পুরো হ্রদ ঘুরে দেখার মজাই অন্যরকম। বিশ্বের অন্যতম পর্যটন দেশ ইতালি প্রাচীন শৈল্পিক কারুকার্যে সমৃদ্ধ। মানুষের দৈনন্দিন জীবনের হাজারো ব্যস্ততার মাঝে বছরে একবার হলেও ইতালি ভ্রমণ করা দরকার। সৌজন্যে : বাংলাদেশ প্রতিদিন

Italy4