Home » ডিটিসি ভ্রমণ বার্তা » ওয়াকওয়ে পাল্টে দিয়েছে শীতলক্ষ্যা

ওয়াকওয়ে পাল্টে দিয়েছে শীতলক্ষ্যা

শেখ সফিউদ্দিন জিন্নাহ্ ও এম এ শাহীন
শীতলক্ষ্যা নদী দখল এবং অবৈধ বালু ও পাথর ব্যবসা ঠেকাতে নির্মাণ করা হয়েছে সৌন্দর্যমণ্ডিত ওয়াকওয়ে। আর এই ওয়াকওয়ে এখন পরিণত হয়েছে বিনোদন কেন্দ্রে। পাল্টে দিয়েছে নদীর তীরবর্তী এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা।

Walkwayনারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সাইলো এলাকা থেকে ঢাকার ডেমরা ঘাট পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নির্মাণ করা হয়েছে এই ওয়াকওয়ে। এটি প্রতিদিন মুখরিত থাকে হাজারো মানুষের পদভারে। ছুটির দিন ও বিশেষ উৎসবে লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে শীতলক্ষ্যার তীরে গড়ে ওঠা এই ওয়াকওয়ে। উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা যায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা লোকজনের মধ্যে।

চার দশমিক চার কিলোমিটার দীর্ঘ এই ওয়াকওয়ে ১৫ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। এটি উদ্বোধন করেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান। এর নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১২ সালের জুন মাসে। শেষ হয় ২০১৪ সালের জুনে। প্রায় ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ওয়াকওয়ের সঙ্গে নদীর তীররক্ষা বাঁধও নির্মাণ করা হয়।

ওয়াকওয়েটি মূলত ঢাকার ডেমরা থানার করিম জুট মিলস এলাকা থেকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সাইলো (সিদ্ধিরগঞ্জ বাজার) এলাকা পর্যন্ত নির্মিত হয়েছে।

ওয়াকওয়েটি বদলে দিয়েছে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরবর্তী এলাকার লোকজনের জীবনযাত্রা। পরিণত হয়েছে বিনোদন কেন্দ্রে। পরিবার-পরিজন নিয়ে ওয়াকওয়েতে হাঁটাহাঁটি ও ঘোরাফেরা করতে পারায় মহা খুশি তীরবর্তী এলাকার লোকজন। শুধু তা-ই নয়, দূর-দূরান্ত থেকে বিনোদনপিয়াসী লোকজনও ছুটে আসছে ওয়াকওয়ে দেখতে। বিশেষ করে বিকাল হলেই এটি পরিণত হচ্ছে লোকারণ্যে। শিশু, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, নারী-পুরুষের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠছে এই ওয়াকওয়ে। বিশেষ উৎসবের দিনে তীল ধারণের ঠাঁইও যেন থাকছে না এখানে।

ওয়াকওয়ের পাশে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা রাখা হয়নি। এটিতে শুধু হাঁটাচলা করা যায়। পাশে অবশ্য বসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নির্মাণ করা হয়েছে বেশ কয়েকটি পাকা ঘাট।

ওয়াকওয়ে ঘিরে জমে উঠতে শুরু করেছে ব্যবসা-বাণিজ্য। ইতিমধ্যে এতে প্রতিদিনই বসছে ফুসকা, চটপটি, চকোলেট, আইসক্রিম, বাদামসহ হরেক পসরা।

ওয়াকওয়ের রেলিংয়ে দেওয়া হয়েছে লাল ও হলুদ রং।

কাঁচপুর এলাকার বাসিন্দা হাজি আবুল খায়ের বলেন, ‘প্রতিদিন ভোরে শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে হাঁটতে যাই। এ ছাড়া বহু ডায়াবেটিস রোগী ভোর হলেই ছুটে যান নদীর তীরে। বিকাল হলেই বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষের ঢল নামে এখানে। বিশেষ করে ছুটির দিন শুক্রবার লোকজনের আনাগোনা বেড়ে যায়। এ ছাড়া বিশেষ উৎসবের দিন ওয়াকওয়েতে তীল ধারণের ঠাঁই থাকে না।’

একই এলাকার মো. রাসেল জানান, ওয়াকওয়েটি নির্মাণ করায় তীরবর্তী এলাকার লোকজনের জীবনযাত্রা বদলে গেছে। এখন বালু ও পাথরের ব্যবসা করা হচ্ছে ওয়াকওয়ের বাইরে। এতে কিছুটা হলেও ভরাট থেকে রক্ষা পেয়েছে নদী।

এদিকে শীতলক্ষ্যা নদী তীরে সরকারিভাবে ফল-ফলাদির চারা রোপণ করায় ধীরে ধীরে নদীর তীরে অবারিত সবুজের সমারোহ ছড়িয়ে পড়ছে। বনজ ও ফলদ গাছের চারা কানায় কানায় পূর্ণ হচ্ছে কাঁচপুর সেতু এলাকার পশ্চিম তীর। সেখানে শোভা বর্ধন ও আকর্ষণীয় করে তুলতে চলছে নানা উদ্যোগ। ইতিমধ্যে নদীর তীরে আট হাজার চারা রোপণ করা হয়েছে। চলছে চারা পরিচর্যার কাজ। নির্মল বাতাস উপভোগ করতে নদীর তীরে দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন ছুটে আসছে অসংখ্য মানুষ। প্রাতভ্রমণ ও বৈকালিক ভ্রমণে মুখরিত থাকছে নদীর তীর এলাকা।

নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান ও বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান এম মোজাম্মেল হক কাঁচপুর ব্রিজ এলাকায় গাছের চারা রোপণের উদ্বোধন করেন।

বিআইডব্লিউটিএর নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম-পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন বলেন, শিমরাইল ও আটি মৌজার কাঁচপুর সেতু ও কাঁচপুর ল্যান্ডিং স্টেশনের আশপাশে ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন ফলদ ও বনজ গাছের সাড়ে আট হাজার চারা রোপণ করা হয়েছে। গাছগুলো রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সার্বক্ষণিক লোকজন নিয়োজিত রয়েছে। সৌজন্যে : বাংলাদেশ প্রতিদিন