Home » কালচারাল ট্যুরিজম » প্রবারণা পূর্ণিমা উৎসব

প্রবারণা পূর্ণিমা উৎসব

ফাতেমা জান্নাত মুমু রাঙামাটি
বান্দরবানে মারমা সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব (ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে) প্রবারণা পূর্ণিমা উৎসব ঘিরে পাহাড়ি পল্লীগুলো সেজেছে নতুন সাজে। জেলায় এবারও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পিঠা তৈরি, ফানুস ওড়ানো, মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বালন, মঙ্গল রথযাত্রাসহ তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা শুরু হয়েছে।

গতকাল ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় স্থানীয় পুরাতন রাজবাড়ী মাঠে মারমা শিল্পী গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে উৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সন্ধ্যা নামতেই আকাশে ওড়ানো হয় শত শত ফানুস।

Fanus

আজ সন্ধ্যায় আসাংম্রাইদের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদনের উদ্দেশ্যে আয়োজিত মঙ্গল রথযাত্রা শুরু হবে। বিশাল আকৃতির ময়ূর তৈরি করে এর ওপর একটি বুদ্ধমূর্তি স্থাপন করে রথটি টেনে টেনে পুরো শহর ঘুরিয়ে সাঙ্গু নদীতে বিসর্জন দেওয়া হয়। এ সময় বৌদ্ধধর্মের নর-নারীরা মোমবাতি জ্বালিয়ে শ্রদ্ধা জানান বুদ্ধমূর্তিকে। রাতের এ রথযাত্রা দেখতে রাস্তার দুই পাশে উপচে পড়া ভিড় জমে। নামে পুণ্যার্থীর ঢল।

এ ছাড়া পুরাতন রাজবাড়ী মাঠে পিঠা তৈরির উৎসব ও ফানুস ওড়ানো হবে। চলবে মারমা তরুণ-তরুণীদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও।
তথ্যসূত্রে জানা গেছে, তিন মাস বর্ষাবাস (উপোস) থাকার পর পাহাড়ি মারমা সম্প্রদায়ের লোকজন ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় প্রবারণা পূর্ণিমা (ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে) উৎসব পালন করে আসছেন বহুকাল ধরে। প্রচলিত আছে, বৌদ্ধধর্মের প্রবক্তা গৌতম বুদ্ধ এই আশ্বিনী পূর্ণিমায় তার মাথার চুল আকাশে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। তাই আশ্বিনী পূর্ণিমার এই তিথিতে আকাশে ওড়ানো হয় শত শত ফানুস। পাহাড়ের মারমা সম্প্রদায় নিজস্ব সামর্থ্য অনুযায়ী ফানুস বানিয়ে আকাশে উড়িয়ে বৌদ্ধধর্মের প্রবক্তা গৌতম বুদ্ধকে স্মরণ করে।

রাখাইন সম্প্রদায়ের স্থানীয় পোলে প্রু জানান, প্রবারণা পূর্ণিমার বিশেষ আকর্ষণ আকাশে ফানুস ওড়ানো। আকাশে ওঠার আগেই যে ব্যক্তির ফানুস মাটিতে পড়ে যায় তাকে পাপী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। মারমা পল্লী আর বিহার থেকে রংবেরঙের শত শত ফানুস ওড়ানো হয়। অন্যদিকে উৎসব ঘিরে বান্দরবানে মারমা পল্লীগুলোতে ধুম পড়েছে পিঠা তৈরির। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর তরুণ-তরুণী সারিবদ্ধভাবে বসে হরেক রকমের পিঠা তৈরি করে পাড়া-প্রতিবেশীদের বাড়িতে বাড়িতে বিতরণ করে এ উৎসবে। সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন