Home » ফিচার » ইয়োসেমিটির অগ্নিপ্রপাত

ইয়োসেমিটির অগ্নিপ্রপাত

নাবীল অনুসূর্য
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের দর্শনীয় এক জায়গা ‘ইয়োসেমিটি ন্যাশনাল পার্ক’। আর এই পার্কের অন্যতম আকর্ষণ একটি জলপ্রপাত। যদিও জলপ্রপাতটি বছরের বেশির ভাগ সময়েই শুকনো থাকে। জলপ্রপাতটির উচ্চতাও আহামরি কিছু না। এক হাজার ৫৭৫ ফুট ওপর থেকে পানি নিচে নেমে আসে! পানির ধারাও সরু। প্রপাতটি নেমে এসেছে ইয়োসেমিটি উপত্যকার সবচেয়ে বিখ্যাত পাহাড় ‘এল কাপিতান’-এর গা বেয়ে। গ্রানাইটের এই পাহাড়টি হাইকিং এবং বেজ জাম্পিংয়ের জন্য বেশ বিখ্যাত।

Eusemit

তবে জলপ্রপাতটির খ্যাতির কারণ সেসব নয়।

এটিকে দেখলে মনে হবে, জলপ্রপাত বেয়ে ঝরতে থাকা জল যেন জ্বলছে! কিংবা জলপ্রপাত বেয়ে নেমে আসছে উত্তপ্ত লাভা! তাই জলপ্রপাতটির নামও হয়েছে ‘হর্সটেইল ফায়ারফ্লাই অব ইয়োসেমিটি’। বাংলায় যার অর্থ দাঁড়ায় ‘ইয়োসেমিটির অগ্নিপ্রপাত’।

এটা যে সারা বছরই দেখা যায় তা কিন্তু নয়। এই সৌন্দর্যের সাক্ষাৎ মেলে বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে। আর এটার জন্য বেশ কয়েকটি বিষয়ও ঘটতে হয় একসঙ্গে।

প্রথমত, ধারায় পানি থাকতে হয়।

দ্বিতীয়ত, একটা নির্দিষ্ট কোণ থেকে ঠিক পানির ধারার ওপর সূর্যরশ্মি পড়তে হবে। আর আকাশ থাকতে হবে একদম পরিষ্কার। জলপ্রপাতের পানির ওপর সূর্যের রশ্মি পড়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বাধা থাকা চলবে না। অর্থাৎ মেঘ, তুষারপাত ও বৃষ্টি হলে সূর্যের রশ্মি পড়ার ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। এককথায় বলতে গেলে সূর্যাস্তের সময় আকাশ একদম পরিষ্কার থাকা চাই।

এই জলপ্রপাতে পানি থাকে কেবল শীতকালে। তাও আবার বেশি শীত পড়লে, অনেক সময় তাও থাকে না। আর ওই নির্দিষ্ট কোণে সূর্যরশ্মি পড়ে বছরের দুই সময়ে শীতকাল আর শরতের প্রথমদিকে। কিন্তু মাঝেমধ্যে শরতে জলপ্রপাতে পানিও থাকে না। অর্থাৎ পানির এই অসাধারণ রূপের দেখা মেলে কেবল ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়েই। তাও খুব বেশি সময়ের জন্য না। গোধূলির আগে আগে, দিনের শেষ রোদে বড়জোর মিনিট দশেকের জন্য এই সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।

ইয়োসেমিটি ভ্যালি ইউরোপিয়ানরা আবিষ্কার করেছিল ১৮৫১ সালে। এরপর ১২২ বছর লেগেছিল জলপ্রপাতটির বৈশিষ্ট্যটা সবার নজরে আসতে। ১৯৭৩ সালে গ্যাইলেন রোয়েল প্রথম ইয়োসেমিটির অগ্নিপ্রপাতের ছবি তোলেন। এখন অবশ্য ইন্টারনেটের কল্যাণে অগ্নিপ্রপাতটি একরকম ‘ভুবন বিখ্যাত’ই হয়ে গেছে। সৌজন্যে : কালের কণ্ঠ