Home » বাছাইকৃত » খুদে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের সঙ্গে

খুদে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের সঙ্গে

মিশুক চৌধুরী
শুধু প্রতিযোগিতা নয়, ভবিষ্যতের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা ঘুরে বেরিয়েছেন বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানলোকাল বাসের ঝক্কি-ঝামেলা সহ্য করে আশুলিয়ায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে পৌঁছালাম ১৬ নভেম্বর সকাল পৌনে ১০টায়। গেট পেরিয়ে একটু এগোতেই বিশ্ববিদ্যালয়টির বাস থেকে ইশারা দেন এক স্বেচ্ছাসেবক। বাসে উঠতেই দেখা মেলে ১১তম এশিয়া-প্যাসিফিক অ্যাস্ট্রোনমি অলিম্পিয়াডের ২০ প্রতিযোগীর। কেউ স্কুলে, কেউ আবার কলেজে পড়েন। জ্যোতির্বিজ্ঞানে আগ্রহী এসব শিক্ষার্থীর সঙ্গে আছেন চার দেশের চার দলনেতা ও আয়োজকদের একজন। দেরি হলো না, গাড়ি চলতে শুরু করল। শ্রদ্ধা জানাতে সবাই যাচ্ছেন সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে। প্রথমবারের মতো আসা প্রতিযোগীদের মধ্যে বাংলাদেশ বিটা দলের সদস্য মামুনুর রশীদ বলেন, ‘এক কথায় আমি অভিভূত!’ শ্রীলঙ্কার প্রতিযোগী পামুদি মাহিনসা বলেন, ‘একেক দিক থেকে এই স্থাপত্য দেখতে একেক রকম। যা বিস্ময়কর।’

Astronomy

শুধু প্রতিযোগিতা নয়, ভবিষ্যতের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা ঘুরে বেরিয়েছেন বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান

১৪ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে এই প্রতিযোগিতা। শেষ হবে আজ ২১ নভেম্বর। পুরস্কার ঘোষণা ও বিতরণ করা হবে আজ। এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন, জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর, রুশ বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিকেন্দ্র এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

অলিম্পিয়াডের উদ্বোধনী আয়োজনে খুদে প্রতিযোগীরাদ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতা সম্পর্কে আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড কমিটির চেয়ারম্যান মিখাইল গ্যাব্রিলভ বলেন, ‘ভালোভাবেই সম্পন্ন হচ্ছে প্রতিযোগিতার কার্যক্রম।’ তবে হেসে এও যোগ করেন, ‘এখানকার আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া ছাড়া বাকি সবই ঠিক আছে।’

অলিম্পিয়াড আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান মশহুরুল আমিন বলেন, ‘এখন আমাদের দৃষ্টি ভবিষ্যতের দিকে। কীভাবে জ্যোতির্বিজ্ঞানের কার্যক্রমকে এ দেশে আরও সম্প্রসারিত ও জনপ্রিয় করা যায়, আমরা সে চেষ্টা করে যাচ্ছি।’ প্রতিযোগিতায় লিখিত ও ব্যবহারিক পরীক্ষার পাশাপাশি ছিল জ্যোতির্বিজ্ঞান-বিষয়ক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক আয়োজন ইত্যাদি। ১৯ নভেম্বর প্রতিযোগীদের ক্লাস নিয়েছেন মিখাইল গ্যাব্রিলভ।

Astronomy2

অলিম্পিয়াডের উদ্বোধনী আয়োজনে খুদে প্রতিযোগীরা

১৬ নভেম্বর স্মৃতিসৌধ দেখার পর ওই দিনই যাওয়া হলো গাজীপুরের কালিয়াকৈরে। সরু এক রাস্তা ধরে পৌঁছে যাই জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানী মেঘনাদ সাহার বাড়িতে। আমাদের দেখে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন বিজ্ঞানীর নাতনি নিবেদিতা সাহা। ঘর থেকে বের করে দেখালেন মেঘনাদ সাহাকে নিয়ে ভারত থেকে প্রকাশিত বই। বিজ্ঞানী যে চেয়ারে বসতেন, সেটিও দেখা হলো। তবে সবার দৃষ্টি এ বিজ্ঞানীর শতবর্ষী টিনের দোতলা বাড়ির দিকে। শ্রীলঙ্কা দলের দলনেতা অধ্যাপক চন্দনা জয়াভাত্রি মেঘনাদ সাহার চেয়ারটিতে বসলেন। প্রশান্তির এক হাসি তাঁর মুখে। ছবিও তুললেন। ফেরার আগে অনেকেই মেঘনাদ সাহার পারিবারিক ডায়েরিতে লিখলেন, সই করলেন। কাজাখস্তানের প্রতিযোগীরা নিজেদের ভাষায় লিখে দিলেন তাঁদের অনুভূতি। কাজাখস্তানের প্রতিযোগী আর্থুর বলেন, দিনটি অনেক মজার কেটেছে। ভালো লাগছে এ রকম একজন বিজ্ঞানীর বাড়ি ঘুরতে এসে। ১৯৪০ সালে মেঘনাদ সাহা প্রতিষ্ঠিত শেওড়াতলী ভুবনেশ্বরী বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ও পরিদর্শন করেন প্রতিযোগীরা।

বিকেল চারটা নাগাদ ড্যাফোডিলে ফিরে এসে প্রতিযোগীরা প্রস্তুত হচ্ছিলেন ‘আকাশ দেখা’ নামক প্রতিযোগিতার জন্য। কিন্তু সবাইকে সেদিন হতাশ করে দেয় মেঘ। খুদে জ্যোতির্বিদরা আকাশে তারা, দ্রাঘিমারেখা, অক্ষাংশ চিহ্নিত করার বদলে বসলেন পরীক্ষার চেয়ার–টেবিলে। তাতে সবচেয়ে বেশি কষ্টটা পেল বোধ হয় বাংলাদেশের প্রতিযোগীরা।

বিটা দলের ফাইরুজ ইশরাক বলেন, ‘আমরা তিন দিন ধরে আকাশ পর্যবেক্ষণ করছিলাম। প্রস্তুতিও ভালো ছিল, কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের।’ আলফা দলের মো. মাহমুদুন্নবীর গল্পটা ভিন্ন। মাহমুদুন্নবী জ্যোতির্বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে অংশ নিয়েছেন। সেটা হয়েছিল রুমানিয়ায়। সেখানেও ‘আকাশ দেখা’ পর্বে অংশ নিতে পারেননি বাজে আবহাওয়ার কারণে। সেবার অনারেবল মেনশন পুরস্কার পাওয়া এ প্রতিযোগীর মন তাই খারাপ হওয়া স্বাভাবিকই বটে।

আকাশ দেখা না হলেও কাজাখস্তান দলের নেতা নুরজাদা বেইসের গত সোমবারে রাতে জানান, বাংলাদেশ ভালোই লাগছে তাঁর। আজ আবার যেতে হবে তাঁদের কাছে। গত কদিনে পরিচিত হয়ে ওঠা মুখগুলোর মধ্যে কারা বিজয়ী হচ্ছেন তা জানতে। সৌজন্যে : প্রথম আলো

Astronomy3

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথিদের সঙ্গে বিভিন্ন দেশ থেকে অ্যাস্ট্রোনমি অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণকারী প্রতিযোগীরা