Home » কালচারাল ট্যুরিজম » গ্রামে গ্রামে নবান্নের ডাক

গ্রামে গ্রামে নবান্নের ডাক

আব্দুর রহমান টুলু
গ্রামে গ্রামে কিষান-কিষানি এখন প্রচণ্ড ব্যস্ত। নতুন ধানের সঙ্গে মিশে আছে তাদের স্বপ্ন। আবহমান বাংলার এ এক চিরায়ত লোকজ উৎসব। সেই লোকজ উৎসবের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে বগুড়ার আমন চাষিরা। মাঠে মাঠে আমন ধানের রঙ এখন সোনালি হয়ে উঠেছে। সোনালি রঙ দেখে কাটা-মাড়ায় নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে বগুড়া অঞ্চলের চাষিরা।

Nabanno

কৃষি বিভাগ বলছে এবার বগুড়া অঞ্চলের চাষিরা বাম্পার ফলন পাবে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর বগুড়ার আঞ্চলিক কার্যালয় জানিয়েছে, বগুড়া অঞ্চলে চলতি মওসুমে ৩ লাখ ৬২ হাজার ৮১৩ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে বগুড়া জেলায় ১ লাখ ৮৭ হাজার ৫০০ হেক্টর, জয়পুরহাটে ৭০ হাজার ৭২৩ হেক্টর, পাবনায় ৫১ হাজার ৩৫০ হেক্টর ও সিরাজগঞ্জে ৬৩ হাজার ৪৭২ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।

চাষিরা সময়মতো চাষ করে এখন ফলন ঘরে তুলতে শুরু করেছে। চলতি বছর চাষিরা ভালো ফলন পেতে যাচ্ছে। অনুকূল আবহাওয়া ও সময়মতো সার, বীজ ও পরিচর্যার কারণে ফলন ভালো হয়েছে। জৈব সার বেশি ব্যবহার করার ফলে জেলায় চাষিরা এবার বাম্পার ফলন ও দাম পেতে যাচ্ছে। ভালো ফলনের সঙ্গে ভালো দাম পাবে বলে চাষিরা আশাবাদী। আগামজাতের রোপণ করা আমন ধান আগামভাবেই কাটা শুরু হয়েছে। বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার নিচু এলাকায় ধান কাটছেন কৃষকরা। উপজেলার বিভিন্ন মাঠে আমন মৌসুমের ব্রি ধান-৬২ ও বিনা-৭ কৃষকরা চাষ করে। বর্তমানে কৃষকরা এ ধান কেটে ঘরে তুলতে শুরু করেছে।

ধান বিক্রয় করে কৃষকরা ওই জমিতে আলু ও সরিষা চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমন ধানের ফলন ভালো হয়েছে। আমন ধানের মধ্যে ব্রি ধান-৬২ বিঘা প্রতি ১২ মণ থেকে ১৪ মণ হারে ও বিনা-৭ বিঘা প্রতি ১৫ মণ থেকে ১৬ মণ হারে ফলন হয়েছে। বাজারে ব্রি ধান-৬২ বিক্রয় হচ্ছে প্রতিমণ ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা ও বিনা-৭ ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা। হাটে- বাজারে নতুন ধান তেমনভাবে বেচাকেনা শুরু না হলেও কিছু কিছু ধান হাটে উঠতে শুরু করেছে।

বগুড়া সদরের শাখারিয়ার আমন চাষি আকরাম মিয়া জানান, আমন ধান কাটার পর আত্মীয়স্বজনকে নিমন্ত্রণ করে খাওয়ানো হয়। কোথাও কোথাও আবার বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। নতুন ধানে প্রথম রান্না বা খাবার পরিবেশনকে নবান্ন বলা হয়ে থাকে। নবান্ন নিয়ে কোথাও কোথাও বিশেষ কিছু উৎসবও হয়ে থাকে। এখন মেয়ে ও মেয়ে জামাইকে দাওয়াত দেওয়ার পাশাপাশি আত্মীয় স্বজনকে দাওয়াত দিয়ে পায়েশ, ক্ষির, পিঠা, মিঠা তৈরি করে খাওয়ানো হয়।

নবান্নের বেশ কয়েকদিন বাকি থাকলেও এবার নবান্নের আমেজ নিয়ে ধান কাটা শুরু হয়েছে। ধান কাটার মাড়াই শেষে নবান্ন পালন করা হবে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর বগুড়া অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) জাহিদ হোসেন জানান, বগুড়া অঞ্চলে চলতি মওসুমে ৩ লাখ ৬২ হাজার ৮১৩ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষ করা হয়েছে। বরাবরের মতো এবারও বগুড়া অঞ্চলের চাষিরা বাম্পার ফলন পাবে। সৌজন্যে : বাংলাদেশ প্রতিদিন