Home » ডিটিসি ভ্রমণ বার্তা » চেন্নাই থেকে নৌ-ক্রুজ যাবে সেন্টমার্টিন ইয়াঙ্গুন

চেন্নাই থেকে নৌ-ক্রুজ যাবে সেন্টমার্টিন ইয়াঙ্গুন

রুহুল আমিন রাসেল
দেশের পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনা হয়ে দেখা দিয়েছে নৌ-ক্রুজ। অর্থনীতির অন্যতম সম্ভাবনাময় খাত এই নৌ-পর্যটন চালু করতে যাচ্ছে সরকার। সব ধরনের প্রস্তুতি শেষে ঢাকা-দিল্লি চুক্তিও হয়েছে। নদীমাতৃক বাংলাদেশের অপরূপ-প্রাকৃতিক সৌন্দর্য কাজে লাগিয়ে দেশি-বিদেশি পর্যটক আকর্ষণের লক্ষ্য নিয়ে নৌ-ক্রুজ চালু করবে সরকার। এটা চালু হলে চলবে ভারতের চেন্নাই, কলকাতা থেকে বাংলাদেশের সুন্দরবন, কুয়াকাটা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সেন্টমার্টিন হয়ে মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন পর্যন্ত।

Cruz

এ প্রসঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এমপি বলেন, বাংলাদেশের নদী পথগুলোকে কাজে লাগিয়ে নৌ-ক্রুজ চালু করতে চাই। এ লক্ষ্যে ভারতের সঙ্গে দিল্লিতে চুক্তি সই করেছে নৌ-মন্ত্রণালয়। এটা একটা ভালো উদ্যোগ হবে আমাদের পর্যটন খাতে। সব মিলিয়ে নৌ-পর্যটন দেশের অর্থনীতিতে বিশাল ভূমিকা রাখবে বলেও মত দেন প্রবীণ এই রাজনীতিক।

সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে দেশের ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সারা বিশ্বের পর্যটকরা বিনোদন চান। নৌ-ক্রুজ দিয়ে সেই চাহিদা মিটবে। ফলে আমাদের দেশি-বিদেশি পর্যটক বাড়বে। পানিসম্পদ কাজে লাগিয়ে নৌ-পর্যটন বা নৌ-ক্রুজ চালু হওয়ার মধ্যদিয়ে দেশের পর্যটনশিল্প যেমন বিকশিত হবে, তেমনি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনাও জেগে উঠবে।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে পর্যটন বর্ষ পালন করবে সরকার। আর ২০১৮-১৯ সালে পর্যটন উৎসব করা হবে। পর্যটন খাতের বিকাশে সরকার যখন এমন উদ্যোগ নিয়েছে, তখন বিশ্ব পর্যটন সংস্থার তথ্য হলো- বাংলাদেশের জিডিপির প্রায় ২ শতাংশ আসে পর্যটন থেকে। পর্যটনকে এক ধরনের বিনোদন হিসেবে দেখেন পর্যটকরা।

জানা গেছে, বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে বার বার মুগ্ধ হয়েছেন ভ্রমণকারীরা। স্বাভাবিকভাবে সৌন্দর্যের লীলাভূমি বাংলাদেশে পর্যটন শিল্প উন্নয়নের সম্ভাবনা অপরিসীম। নতুন এই কৌশলে সম্ভাবনার সবটুকুকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে পর্যটনে মডেল হতে পারে। কেননা- বিশ্বে পর্যটন শিল্প আজ বৃহত্তম শিল্প হিসেবে স্বীকৃত। আর পর্যটন শিল্পের বিকাশ হলে কর্মসংস্থান বাড়বে। কমবে বেকারত্ব। এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা, প্রতিবন্ধকতা ও তা নিরসনে উদ্যোগ নিয়েছে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।

India-ad

নৌ-পর্যটনের সম্ভাবনা এবং প্রতিবন্ধকতা, পর্যটন শিল্পের প্রসারে অন-অ্যারাইভাল ভিসা সহজীকরণ এবং মাল্টিপল ভিসা চালু, পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর কাছ থেকে মতামত নিয়েছে পর্যটন মন্ত্রণালয়।

নৌ-ক্রুজ চালু প্রসঙ্গে পর্যটন মন্ত্রণালয় বলেছে, ভারতের চেন্নাইতে অবস্থিত একটি ট্যুর অপারেটর আমেরিকাভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক ক্রুজ পরিচালনা করে। বিলাসবহুল এই ক্রুজটি আমেরিকাসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের পর্যটকদের নিয়ে নৌ-ভ্রমণ করে থাকে। এই ক্রুজটি চেন্নাই থেকে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশের জলসীমা অতিক্রম করে আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ ঘুরে মিয়ানমারে প্রবেশ করে। সেখান থেকে থাইল্যান্ড মালয়েশিয়া হয়ে সিঙ্গাপুরে গিয়ে ক্রুজটি শেষ হয়। এই ট্যুর অপারেটরটি ক্রুজ রুটে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি চেয়ে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের অনুরোধ করে। দেশের ট্যুর অপারেটরদের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, নৌ-ক্রুজ জাহাজটি বিদেশি পর্যটক নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করবে।

আর মাত্র ১০ থেকে ১২ দিনে ভারতের চেন্নাই থেকে ছেড়ে কলকাতা হয়ে সুন্দরবন, কুয়াকাটা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সেন্টমার্টিনে ভ্রমণ কার্যক্রম শেষে মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনে চলে যাবে। এতে বিদেশি পর্যটকদের বাংলাদেশে ভ্রমণের সম্ভাবনা রয়েছে। আর এমন বিলাসবহুল জাহাজে বিদেশি পর্যটকদের বাংলাদেশ ভ্রমণের আয়োজন করলে বিশ্বে বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পের প্রচার বাড়বে।

এ ধরনের নৌ পর্যটন চালুর জন্য ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসসহ অন্যান্য সহায়তা প্রয়োজন। এই সহায়তা পাওয়া গেলে দেশের সমুদ্র সম্পদের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের সম্ভাবনা আরও বাড়বে।

বিদেশি পর্যটক আকর্ষণ প্রসঙ্গে পর্যটন মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, আফগানিস্তান, ইরাক, আলজেরিয়া ও পাকিস্তানসহ কতিপয় দেশ ছাড়া বিশ্বের ৬৩টি দেশের নাগরিকরা বাংলাদেশে নির্ধারিত ভিসা ফি দিয়ে অন-অ্যারাইভাল ভিসা গ্রহণের সুযোগ পান। কিন্তু বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশি দূতাবাসগুলোর কোনো কোনো কর্মকর্তার মধ্যে অন-অ্যারাইভাল ভিসা সম্পর্কে ধারণাগত অস্পষ্টতা আছে। এই সুবিধা থাকা সত্ত্বেও আস্থার অভাবে কোনো কোনো দেশের পর্যটকরা অগ্রিম ভিসা নিতে আগ্রহী হচ্ছেন। সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন