Home » ফিচার » প্রাচীন জলাধার এখন অভিনব বাড়ি

প্রাচীন জলাধার এখন অভিনব বাড়ি

এ রিয়াজ
মাটির নিচে প্রাচীন জলাধার। তার উপরেই বাড়ি। দুই অংশ মিলিয়ে অসাধারণ এক বাসস্থান গড়ে তুলেছেন এক জার্মান-স্প্যানিশ দম্পতি। প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও স্থানীয় চরিত্র বজায় রেখে এমন এক উদ্যোগ পর্যটকদের কাছে বেশ আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

Odaআটলান্টিক মহাসাগরের উপর স্পেনের লান্সারোটে দ্বীপপুঞ্জের নাম করলেই চোখের সামনে আগ্নেয়গিরির পাহাড় ও সাদা বাড়ির দৃশ্য ভেসে ওঠে। উপকূল থেকে দূরে লোস ভাইয়েস নামের ছোট্ট গ্রামে ইয়াইয়ো ও ওডা ফন্টেস ডে লেয়ন-এর বাড়ি।

প্রায় ৩০ বছর আগে এ দ্বীপেই জার্মানির ওডা ও স্পেনের ইয়াইয়োর আলাপ হয়েছিল। আজ তারা দারুণ সব বাড়ি ভাড়া দেন। তার বৈশিষ্ট্য হল, বাড়ির সিংহভাগই মাটির নিচে অবস্থিত। ইয়াইয়ো ফন্টেস ডে লেয়ন বলেন, ‘একে বলা হয় আলখিবে- প্রাচীন জলাধার। আমরা সেটিকে বাসস্থানে রূপান্তরিত করেছি।’

কয়েক’শ বছর ধরে আগ্নেয়গিরির লাভার পাথরের নিচে গোটা গ্রামের জন্য বৃষ্টির পানি সঞ্চয় করা হতো। এখন সেটা বাসস্থান হয়ে উঠেছে। এ দম্পতি কাকতালীয়ভাবে নিজেদের বাড়ির পাশেই এ আধারটি আবিষ্কার করেন। ইয়াইয়ো ফন্টেস ডে লেয়ন বলেন, ‘আমরা জানতাম না আধারটা কত বড়। একটি গর্ত দিয়ে ভেতরে ঢুকে দেখি জায়গাটা পানিতে ভরা। স্ত্রীকে বললাম, সুন্দর জায়গা- এখানে একটা বাড়ি তৈরি করলে কেমন হয়? ব্যস, যেমন কথা তেমন কাজ।’

এখন থাকার জায়গা দুই ভাগে বিভক্ত- নিচে বসার জায়গা, উপরে শোবার জায়গা। পরে জানালা লাগানো হয়েছে। বাকিটা যতটা সম্ভব স্বাভাবিক রাখা হয়েছে। ইয়াইয়ো ফন্টেস ডে লেয়ন বলেন, ‘আমরা মিস্ত্রিদের বলেছিলাম, না না- দেয়াল যেমন আছে সে রকম থাক, কিছুই করার দরকার নেই। শুধু সিল করে দিয়েছিলাম, অন্য কিছু করিনি। ফলে জায়গাটা এখন ভালো শিল্পীর আঁকা ছবির মতো দেখাচ্ছে।’

এখানে যে শিল্পকীর্তি দেখা যাচ্ছে, সেগুলোও দ্বীপের নিজস্ব সৃষ্টি। ইয়াইয়ো জন্ম থেকেই সেখানে বসবাস করছেন। সেই আবেগই তিনি তুলে ধরতে চান। যেমন খাবিয়ের ইবানেস নামের স্থানীয় শিল্পীর তৈরি ড্র্যাগন ভাস্কর্য।

জমির উপরের অংশে বাথরুম ও রান্নাঘর রয়েছে। বাড়ির এ সম্প্রসারিত অংশ নির্মাণের সময় এ দম্পতি নিচের অংশের শৈলী বদলাতে চাননি। অর্থাৎ প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে গ্রাম্য এক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। আলো-বাতাসের অভাব নেই। ওডা ফন্টেস ডে লেয়ন বলেন, ‘যেহেতু জলাধারের ভেতরে খুবই অন্ধকার, তাই আমরা দুই অংশের মধ্যে পার্থক্য ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছিলাম। নিচের মতোই অন্ধকার না রেখে চারদিকে কাচের জানালা দিয়ে ঘরগুলো আলোকিত করে তুলেছি।’

বাইরে ছোট্ট বাগানে আরও আলো-বাতাস পাওয়া যায়। মাঝে এক তালগাছ। বেশ কয়েক দশক ধরে এ জমির উপর রয়েছে এটি। ইয়াইয়ো ফন্টেস ডে লেয়ন তার স্থপতি বন্ধু সেসার মানরিকের সঙ্গে ষাটের দশকে এ গাছ দেখেই জায়গাটি আবিষ্কার করেন।
ইয়াইয়ো ফন্টেস ডে লেয়ন বলেন, ‘সে সময়ে যে সব বাড়ির ছবি তুলেছিলাম, এটিও তার মধ্যে ছিল। এখানে লোস ভাইয়েস গ্রামের বাড়ির ছবি দেখতে পাচ্ছেন। একটি ছবিতে তালগাছে বাঁধা একটি উটও দেখা যায়। পাশেই জলাধার। এখনও সেই শিকলটি রয়ে গেছে।’

বর্তমানে ইয়াইয়ো ও ওডা ফন্টেস ডে লেয়ন লোস ভাইয়েস গ্রামের এ জলাধারটি ভাড়া দেন। এভাবে দেশ-বিদেশের মানুষ লান্সারোটে দ্বীপের এই বিশেষ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য উপভোগ করতে পারেন। সৌজন্যে : যুগান্তর

DTC-Travel-ad