Home » কালচারাল ট্যুরিজম » শেরপুরের ‘বাইশমুঠি’ উৎসব

শেরপুরের ‘বাইশমুঠি’ উৎসব

শেরপুরের সীমান্তবর্তী গারো পাহাড় এলাকায় এখন চলছে আগাম জাতের বাইশমুঠি ধান কাটার উৎসব। একসময় বাংলা পঞ্জিকার কার্তিকে পাহাড়ি গ্রামগুলোর ঘরে ঘরে আঠার মতো লেগে থাকত অভাব-অনটন। আর এখন ‘মরার’ কার্তিক আসার সাথে সাথে ঘরজুড়ে নতুন ধানের গন্ধ।

জেলার সীমান্তবর্তী নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলার পাহাড়ি গ্রামগুলোতে ধান কাটার উৎসবে মেতেছে কৃষক।

Rice

স্থানীয় কৃষকরা জানায়, একসময় পাহাড়ি গ্রামগুলোতে জুলাই মাসে আমন ধান কাটার পর বোরো মৌসুমের আগ পর্যন্ত কোনো ফসল ফলানো যেত না। অর্থাৎ জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত জমি অনাবাদি থেকে যেত। বর্তমানে এসব জমিতে আগাম জাতের বাইশমুঠি ধান চাষ করে কৃষক তিন মাসের মধ্যেই ফসল ঘরে তুলতে পারছে। আর এতে অভাব দূর হচ্ছে কৃষকদের।

কথিত আছে, বহু বছর আগে গারো পাহাড়ের ক্ষুদ্রনৃগোষ্টির এক কৃষক প্রথমে ভারত থেকে বাইশমুঠি ধান এনে নিজের জমিতে আবাদ শুরু করেন। প্রথম অবস্থায় আশপাশের কৃষকরা এ ধানের প্রতি উৎসাহ না দেখালেও আশ্বিন মাসের শেষ সপ্তাহেই ওই ধান কাটতে দেখে কৌতুহলী হয়ে ওঠেন স্থানীয় কৃষকরা। পরে তারা ওই গারো কৃষকের কাছ থেকে বাইশমুঠি ধানের বীজ সংগ্রহ করে আবাদে নেমে পড়েন। সে ধানই বর্তমানে পুরো জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে।

নালিতাবাড়ি উপজেলার বারোমারি গ্রামের কৃষক আবেদ আলী জানান, এ ধান রোপণ থেকে কাটা পর্যন্ত এক একর জমিতে খরচ হয় প্রায় ১৫ হাজার টাকা। আর একর প্রতি ফলন হয় প্রায় ৪০ মণ। ধান কাটার শুরুতে এর দাম মণ প্রতি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা থাকে। এতে প্রতি একরে কৃষকের প্রায় দ্বিগুণ লাভ থাকে।

স্থানীয় বাজারে মৌসুমহীন ধান ওঠায় ব্যবসায়ীদের কাছে ব্যাপক চাহিদা বাড়ছে এ ধানের।

জেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর জেলার সীমান্তবর্তী তিন উপজেলায় প্রায় চার হাজার হেক্টর জমিতে বাইশমুঠি ধানের চাষ হয়েছে। অথচ বিগত বছরগুলোতে এর আবাদ হয়েছিল দুই হাজার হেক্টর জমিতে। চলতি বছর জেলার শ্রীবরদী উপজেলায় ১১০ হেক্টর, ঝিনাইগাতী উপজেলায় ৭৩০ হেক্টর এবং নালিতাবাড়ি উপজেলায় তিন হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে এ ধানের আবাদ হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক ড. মোঃ আব্দুস ছালাম বলেন, ‘বাইশমুঠি ধান ভারতীয় জাতের। এ ধান আবাদের সুবিধা হলো কার্তিকের আগেই কাটা যায় এবং অনায়াসে একই জমিতে রবিসশ্য সরিষা, গম, বোরোসহ অন্যান্য ফসল ফলানো যায়। এ ধানে পোকামাকড়ের আক্রমণ কম হয়। খরা থেকে রক্ষা পায় ও সেচ খরচও কম।’

তিনি আরো বলেন, ‘মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই যেহেতু ধান কাটা শুরু হয়, তাই বাইশমুঠির দামও ভালো পাওয়া যায়। দিনে দিনে এ ধানের আবাদ বাড়ছে।’ আগামীতে আরো বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সূত্র : বাসস, সৌজন্যে : নয়া দিগন্ত