Home » অ্যাডভেনচার ট্রাভেল » অচেনা সৌন্দর্যের জুরাছড়ী

অচেনা সৌন্দর্যের জুরাছড়ী

Jurachari

জাভেদ বিন এ হাকিম
ধংস নয় রক্ষা… কংক্রিট নয় প্রকৃতি…আসুন আমরা আমাদের নিজেদের স্বার্থেই প্রকৃতি রক্ষা করি। এই স্লোগানকে ধারণ করেই ট্রলারে চেপে ছুটে গিয়েছিলাম রাঙ্গামাটি জেলার গহিনের সৌন্দর্য জুরাছড়ি। সাধারণ পর্যটকেরা সাধারণত ওই দিকে তেমন একটা যান না। জুরাছড়ি রাঙ্গামাটি জেলার অত্যন্ত দুর্গম এক উপজেলা। অধিকাংশ ভ্রমণ পিপাসুর কাছে এর অপার নয়ন জুড়ানো সৌন্দর্য রয়েছে অজানা। এ ছাড়া থৈ থৈ পানিতে নৌভ্রমণের মজাই পাবেন আলাদা।

রাতের গাড়িতে চড়ে পৌঁছে যাই ভোর ৪.৩৫ মিনিটে। ফোন পেয়ে গাইড হারুন আর ট্রলার মালিক যেন বিছানা থেকে লাফিয়ে ওঠে। দলে আমরা ১৪ জন। রিজার্ভ বাজার থেকে নাশতা পর্ব শেষেই উঠি গিয়ে ট্রলারে। চলতি তিন দিন এই ট্রলারই হবে আমাদের বাড়ি। ঘরগোস্ত, মোরগ, বাজার সদাই সবই আগে থেকে রেডি। আল্লাহর নাম নিয়ে ট্রলার ছাড়ে কাপ্তাইয়ের নীলাভ পানিতে। দে-ছুটে চান্স পাওয়া নতুনদের উচ্ছ্বাস ছিল যেন একটু বেশিই বেশি। সবুজে মোড়ানো পাহাড় আর কাপ্তাই লেকের নীল পানি সঙ্গী করেই ট্রলার এগিয়ে যায় প্রাকৃতিক স¦র্গ পানে। যতই এগিয়ে যাই ততই সামনের পাহাড়গুলো যেন দূরে সরে যায়।

কখনো কখনো চার পাশের মায়াময় প্রকৃতির ঘোরে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ি, টনক ফিরে যখন চেংড়া পোলা ইউশা অতি উচ্ছ্বাসে চলতি ট্রলার থেকেই ঝাঁপিয়ে পড়ে পানিতে। জুরাছড়ি যাওয়ার পথে নৈসর্গিক দৃশ্যের মাঝে ছোট ছোট দ্বীপে মানুষের বসত দেখে উচ্ছ্বাসে সবাই ছাউনিতে গিয়ে বসি। দুপুর গড়িয়ে প্রায় বিকেল।

পড়ন্ত বিকেলে যেন আমরা নিজেরাই হারিয়ে যাই অসম্ভব সৌন্দর্যের মাঝে। মাঝিও ঠিক পথ চিনে উঠতে পারছিল না। অনেকেই চেঁচামেচি করলেও আমি থাকি নিশ্চুপ, ভাবি এই তো মোক্ষম সুযোগ! আহ কী মজা, ওর ভুলে না হয়ে আমরা ঘুরে দেখি আরো কিছুটা মায়াবিনী পানিপথ। বর্ষায় পাহাড়ের সৌন্দর্যই যেন অন্যরকম আর শরৎ এ প্রকৃতি নিজেকে মেলে ধরে ভিন্ন আমেজে।

জুরাছড়ি যাওয়ার পুরোটা পথ এমন সৌন্দর্যের অবগাহন যে, যত দূর চোখ যায় শুধু সবুজের মাখামাখি।কখনো কখনো মনে হয়েছিল নীল আসমানটা যেন নেমে আসছে দে ছুটের দামালদের সাথে দুস্তি পাতাতে। শেষ বিকেলে গিয়ে পৌঁছি বড়তলী ঘাটে। জাল পাতার কারণে ট্রলার আর সামনে এগোবে না অগত্যা নেমে পড়ি। আগে থেকেই ডি, এস-বির দু’জন অফিসার এসে হাজির।

তাদের সঙ্গে পরিচয় পর্ব শেষেই ভাড়া খাটা বাইকে ছুটি থানা ভবনে। পথের দুই পাশে পাহাড়ের সারি, মাঝে আঁকাবাঁকা পিচঢালা পথ কখনো মনে হবে বাইক এই বুঝি পথ ভুল করে হারিয়ে যাচ্ছে ঘন জঙ্গলের মাঝে।

সে এক অসাধারণ ভালো লাগা, লিখে বুঝাবে এমন কোনো লেখকের সাধ্য নেই। দুই চোখে দেখার সুযোগ না হলে শুধু অনুভবে কারো বুঝার সাধ্য নেই জুরাছড়ির নয়নাভিরাম সৌন্দর্য উপলব্ধি করার। থানা ভবনে সেকেন্ড অফিসার এসআই জিয়া সাহেবের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে আবিষ্কার করি ভিন্ন এক সৌন্দর্য, শুরু হয় রাত পোহানোর নতুন এক রোমাঞ্চকর কাহিনী। সেই সৌন্দর্যের বর্ণনা আর মসজিদে রাত যাপনের গল্প আজ না হয় তুলে রাখি আরেক দিনের জন্য।

যাতায়াত : ঢাকা কমালাপুর ও গাবতলী থেকে রাতে বিভিন্ন পরিবহনের বাস ছেড়ে যায় রাঙ্গামাটি।

ভাড়া নন-এসি ৬২০ টাকা। ট্রলার তিন দিনের জন্য নেবে ১০ থেকে ১১ হাজার টাকা। লঞ্চ যোগেও যেতে পারেন রিজার্ভ বাজার থেকে। সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত। ভাড়া জনপ্রাত ১৬০ থেকে ২০০ টাকা।

কোথায় থাকবেন : রাতে ট্রলারেই থাকতে হবে এমন প্রস্তুতি নিয়েই উঠতে হবে।

খাবেন কোথায় : বাজার সদাই করে নিতে হবে। রান্নার আয়োজন ট্রলারেই সারতে হবে।

ব্যয় : দল বড় হলে মাথাপিছু ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা হলেই হবে তবে খরচ নির্ভর করবে নিজেদের ওপর।

আর কী কী দেখবেন : বরকল বিজিবি ক্যাম্প থেকে অনুমতি নিয়ে ভূষণছড়া ও ছোট হরিণা যেতে পারেন এবং ফেরার দিন মিটিঙ্গাছড়ি, সুবলং ঝর্ণা, ঝুলন্ত ব্রিজ ও ডিসি হিল পার্কে ঘুরতে পারেন।

সাথে যা নিবেন : লাইফ জ্যাকেট সঙ্গে নিবেন। সম্ভব হলে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়ে যাবেন। দল বড় করার চেয়ে ছোট দলে দুর্গম পথে অধিক আনন্দ। সৌজন্যে : নয়া দিগন্ত