Home » রিভিউ » হোটেল » বরিশালে বিশ্বমানের আবাসিক হোটেল

বরিশালে বিশ্বমানের আবাসিক হোটেল

Grand-Park

খালিদ সাইফুল্লাহ
বরিশাল বিভাগীয় সদরে দীর্ঘ প্রতিক্ষিত একটি বিশ্বমানের আবাসিক হোটেল সম্প্রতি চালু হয়েছে। দক্ষিণের প্রবেশদ্বার মহানগরীতে হোটেলটি ৩-তারকামানের সে আঙ্গিকে অতিথিদের জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। সম্প্রতি অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘হোটল গ্রান্ড পার্ক’ নামের এ আবাসিক হোটেলটি চালু করা হলেও আগামী কিছু দিনের মধ্যে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের লক্ষ্যে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ। এর ফলে বরিশালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভেনুসহ বিশ্বমানের যেকোনো ধরনের খেলাধুলার বড় অন্তরায়টিও এবার দূর হতে যাচ্ছে।

বরিশাল মহানগরীর পাশ দিয়ে বহমান কীর্তনখোলা নদীর তীরে বাঁধ রোডের ধারে হোটেল গ্রান্ড পার্কের স্থানটি নির্বাচন করার পেছনেও রয়েছে সে ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি। বরিশাল স্টেডিয়ামের কাছে বঙ্গবন্ধু উদ্যান বা বেল পার্কের দক্ষিণ পাশে এ হোটেলটির জানালা দিয়ে অদূরে কীর্তনখোলা নদীর কিছু অংশ আর পেছনের অংশে রাজা বাহাদুর সড়কের পাশের লেকটিও দৃশ্যমান। হোটেল লাগোয়া বিশাল মাপের বঙ্গবন্ধু উদ্যান বা বেল পার্কটি এ হোটেলের অতিথিদের জন্য বাড়তি পাওনা। প্রকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর বরিশাল মহানগরীতে এ হোটেলটি নির্মাণসহ এর সামনের লেনটিকেও প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হয়েছে। হোটেলের অভ্যর্থনা লাউঞ্জসহ বিভিন্ন সভা কক্ষ ও সম্মেলন কক্ষের দেয়ালেও স্থান পেয়েছে রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশসহ বরিশালের একাধিক কবির কবিতার নানা ছন্দ। হোটেলটির দেয়ালে দৃশ্যমান জীবনানন্দ দাশের ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতার লাইনগুলো আগত অতিথিদের বাংলার প্রকৃতির সাথে একাকার করে দেয়।

বেসরকারি এনসিসি ব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় মহানগরীর বাঁধ রোডে প্রায় ৫০শতক জমির ওপর সদ্য গড়ে ওঠা হোটেল গ্রান্ড পার্কে সুইমিং পুল ও জিমসহ ছোট ও মাঝারি মাপের কনফারেন্স রুম, ব্যাংকোয়েট হল ও একাধিক মিটিং রুম রয়েছে। হোটেলটিতে সর্বমোট ৮৬টি কক্ষে অতিথিদের আবাসন সুবিধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৪৭টি কক্ষ চালু করে অতিথিদের থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। ‘প্রিমিয়ার সিঙ্গেল, প্রিমিয়ার ডিলাক্স কাপেল, সুপিরিয়র টুইন ও পার্ক সুইট’ নামের এসব কক্ষের ভাড়া ভ্যাটসহ তিন হাজার ৯০০ টাকা থেকে শুরু করে ছয় হাজার টাকা পর্যন্ত। তবে এর মধ্যে অতিথিদের সৌজন্যে বুফে প্রাতরাসের ব্যবস্থাও রাখছে হোটেল কর্তৃপক্ষ। পুরো হোটেলে অতিথিদের জন্য রয়েছে বিনামূল্যে ওয়াইফাই ব্যবহারের সুবিধাও।

এ ছাড়া হোটেল গ্রান্ড পার্কে শতাধিক আসনবিশিষ্ট একটি খাবার রেস্টুরেন্টসহ কফি সপও নির্মাণ করা হয়েছে। খাবার রেস্টরেন্টের পশ্চিম অংশে খোলা স্থানে লেকের ধারে একটি কফি সপ তৈরি করা হয়েছে। যেখানে বসে যেকোনো অতিথি এক দিকে লেক, অপর দিকে বিশাল বঙ্গবন্ধু উদ্যানের খোলা হাওয়ায় বসে চা বা কফিসহ যেকোনো স্নাকস গ্রহণ করতে পারবেন। রেস্টুরেন্টটিতে অতিথিদের জন্য বাংলাদেশী, ভারতীয়, চাইনিজ ও ইউরোপীয় যেকোনো পরিবেশনের মতো শেফ ও খানসামা রয়েছেন। পুরো হেটেলটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করছে দেশের খ্যাতনামা সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ‘ডেল্টা হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট সার্ভিসেস লিমিটেড’।

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা অংশীদার আবদুল আজিজ গতকাল জানান, তারা হোটেল গ্রান্ড পার্কে বিশ্বমানের সেবা প্রদানের জন্য অঙ্গিকারবদ্ধ। এ লক্ষ্যে প্রতিটি কর্মীকে প্রশিক্ষণ প্রদানসহ সেভাবেই তাদের তৈরি করা হয়েছে বলে জানান তিনি। আগামী দিনে এ হোটেলটি সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলে আগত দেশী-বিদেশী পর্যটকদের বিশ্বমানের আবাসন সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এর উদ্যোক্তারা।

উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে বরিশাল স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিমানে গড়ে তোলা হয়। এখানে পরিপূর্ণ গ্যালারি ও প্যাভেলিয়ন ভবন নির্মাণসহ ফাড লাইট স্থাপন করা হলেও শুধু বিশ্বমানের হোটেলের অভাবে আজ পর্যন্ত বরিশালে কোনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ও ফুটবল ম্যাচের ভেনু নির্বাচন করেনি জাতীয় ক্রিকেট বোর্ডসহ বাফুফে। বরিশাল স্টেডিয়ামের পাশেই রয়েছে একটি উন্নত সুইমিং পুল। হোটেল গ্রান্ড পার্কের খুব কাছে ইসলামী ব্যাংকের একটি বড় মাপের হাসপাতালসহ পাশে দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের অবস্থান। সূত্র : নয়া দিগন্ত