Home » ভ্রমণ » বাংলাদেশ » কীর্তনখোলার তীরে মুক্তিযোদ্ধা পার্ক

কীর্তনখোলার তীরে মুক্তিযোদ্ধা পার্ক

আযাদ আলাউদ্দীন
যান্ত্রিক নগরজীবন থেকে কিছু সময়ের জন্য হলেও একটু স্বস্তি পেতে ভ্রমণ পিপাসু মানুষের কাছে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর তীরবর্তী স্নিগ্ধ ছায়াঘেরা মুক্তিযোদ্ধা পার্ক।

কীর্তনখোলার ঢেউ আর মুক্ত বাতাস আপনাকে ছুঁয়ে দেবে প্রশান্তির পরশে। ইচ্ছে করলে স্পিড বোট, পালতোলা নৌকা কিংবা ট্রলার ভাড়া করে কীর্তনখোলা নদী ভ্রমণ করতেও পারবেন। মুক্ত বাতাস, ফুলের বাগান এবং সবুজের সমারোহ মুগ্ধ করে এই পার্কে বেড়াতে আসা দর্শনার্থীদের। এমনিতেই প্রতিদিন বিকেল হতে না হতেই বরিশাল নগরবাসী ও ভ্রমণ পিপাসুদের ঢল নামে এ পার্কে। এ ঢল থাকে রাত অবধি।

Muktijodda_Park

বরিশালের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণীয় করে রাখতে নগরীর কীর্তনখোলা তীরে মেরিন ওয়ার্কশপ এলাকায় মনোরম পরিবেশে পার্কটি ২০১২ সালের ২১ মার্চ উদ্বোধন করা হয়।

সম্পূর্ণ পরিপাটি করে সাজানো গোছানো এ মুক্তিযোদ্ধা পার্কটি নির্মাণ করতে প্রাথমিকভাবে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩ কোটি টাকা।

বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম ফরিদ বলেন, স্বাধীনতার-পরবর্তী সময় থেকে আমাদের দাবি ছিল একটি মুক্তিযোদ্ধা পার্ক নির্মাণের জন্য। মুক্তিযোদ্ধাদের দীর্ঘ দিনের দাবি পূরণ হয়েছে। বরিশাল অঞ্চলের সাধারণ জনগণের কাছে মুক্তিযোদ্ধা পার্কটি বিনোদনের নতুন মাত্রা হিসেবে যোগ হয়েছে।

নগরীর কাউনিয়া এলাকার আলমগীর কবির সোহাগ বলেন, নগরীর কোলাহল থেকে একটু স্বস্তি পেতে খোলা আকাশের নিচে কীর্তনখোলা নদীর মুক্ত বাতাসে প্রাণের উচ্ছ্বাস নেয়ার জন্য সপরিবারে প্রায়ই এ পার্কে ছুটে আসি। তাই সিস্টেমসের পরিচালক তারিকুল ইসলাম বলেন, পার্কটির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে কীর্তনখোলা নদীর মুক্ত বাতাস। তাই বিকেলে অবসর পেলেই পার্কে ছুটে আসি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য।

Muktijodda_Park2

চার হাজার ২০০ বর্গমিটার আয়তনের পার্কটিতে বসার জন্য পাকা আসন (বেঞ্চ) রয়েছে ৬২টি। এসব বেঞ্চের ওপরে ছায়া দিচ্ছে বিপুল বাদাম গাছ। তাছাড়া ফুল গাছ তো রয়েছেই। সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত পার্ক উন্মুক্ত থাকে। বিনামূল্যে বিনোদনের এ পার্কটি পেয়ে নগরবাসী আনন্দিত ও উচ্ছ্বসিত।

সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিখিল চন্দ্র দাস জানান, নগরীতে বিনোদনের তেমন কোনো সুবিধা ছিল না। পার্কটি নির্মাণের মাধ্যমে বরিশালবাসীর বিনোদনের অভাব কিছুটা হলেও দূর হয়েছে।

সিটি মেয়র আহসান হাবীব কামাল বলেন, নগরবাসীর বাড়তি বিনোদনের কথা চিন্তা করেই মুক্তিযোদ্ধাদের নামে সিটি করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নে মুক্তিযোদ্ধা পার্কটি নির্মাণ করা হয়েছে। এখানে সর্বস্তরের মানুষ অবাধে ভ্রমণ করতে পারেন। তিনি জানান, পার্কটিকে পর্যায়ক্রমে আরো আধুনিক করে গড়ে তোলা হবে।