Home » কালচারাল ট্যুরিজম » বদলে যাওয়া উত্সবের আদল

বদলে যাওয়া উত্সবের আদল

folk-fest

মোস্তাফিজ মিঠু
শহরের রাস্তার পাশে পিঠার দোকান। সেই দোকান ঘিরে মানুষের জট। এই দৃশ্য এরইমধ্যে দেখা যাচ্ছে শহরের বিভিন্ন রাস্তার পাশে বা গলি মোড়ে মোড়ে। মানে শীতের আগমনী বার্তা। গ্রামের শীতকালীন চিত্র থেকে শহরের চিত্র অনেকটা অন্যরকম। কয়েক বছর আগের কথাই বলি। শীত শুরু হতেই শোনা যেত বিভিন্ন কনসার্টের খবর। ইনডোর বা আউটডোর সবখানে কনসার্টের একটা হিড়িক পড়তো। শহর মেতে উঠতো উত্সবে। দিনব্যাপী চলতো এসব কনসার্ট। যা সন্ধ্যার পরপর ইতি টানতো। সেই চিত্রটার পরিবর্তন ঘটেছে গত ৩ বছরে। শহুরে উত্সবমুখর মানুষের অভিজ্ঞতাতেও এসেছে পরিবর্তন। সন্ধ্যা নামার সময় এখন নতুন আঙ্গিকে আয়োজিত হচ্ছে কনসার্টগুলো।

আমাদের দেশের এই রাতভর উত্সবের শুরুটা নতুন হলেও বিশ্বে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এই চর্চার শুরুর গল্পটা অনেকদিনের। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় ‘ওয়ার্ল্ড মিউজিক ফেস্টিভ্যাল সিকাগো’র কথা। প্রতিবছরের মতো এ বছরের সেপ্টেম্বরেই এই উত্সবের ১৮তম আসর অনুষ্ঠিত হয়ে গেল আমেরিকার সিকাগোতে। এছাড়াও নরওয়ের ওসলোতেও উত্সব ধারাবাহিকতায় ‘ওসলো ওয়ার্ল্ড মিউজিক ফেস্টিভ্যাল’ অনুষ্ঠিত হয়ে গেল চলতি মাসেই।

পুরো বিশ্বজুড়েই শীতকালীন এসব সাংস্কৃতিক উত্সব বেশ জনপ্রিয়। যা আমাদের দেশের কয়েকবছরের অভিজ্ঞতা থেকেই বোঝা যায়। ‘বেঙ্গল ক্লাসিক্যাল ফেস্ট’ ও ‘ফোক ফেস্ট’-এর মতো সাহিত্য নির্ভর ‘লিট ফেস্ট’ও এখন শহরের নাগরিকদের কাছে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এই শীত উত্সব আয়োজনগুলো শুরুর আগেই রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা করছেন আয়োজকরা। সেই রেজিস্ট্রেশন করার হিড়িকও পড়ে যায় ঘোষণার পর থেকেই।

বেঙ্গল ক্লাসিক্যাল ফেস্ট
নতুন আঙ্গিকের উত্সবগুলোর মধ্যে ‘বেঙ্গল ক্লাসিক্যাল ফেস্ট’ সাড়া ফেলেছে শুরু থেকেই। বলা যায়, এই আয়োজনটির মধ্য দিয়ে পাল্টে গেছে শীত উত্সবের চিত্র। নতুন প্রজন্মের কাছে উচ্চাঙ্গসঙ্গীতের এক ভিন্ন উদাহরণ সৃষ্টি করেছে এই আয়োজনটি। যেখানে দেশ-বিদেশের অনেক গুণী সঙ্গীতজ্ঞ ও নৃত্য দলগুলোর অংশগ্রহণ থাকে। এই উত্সবটির মধ্য দিয়ে দিয়ে শহরের সংস্কৃতিপ্রেমীদের মাঝে নতুন এক চর্চা শুরু হয়েছে। ক্লাসিক্যাল মিউজিক বা ক্লাসিক্যাল নৃত্যের ভক্তও তৈরি হচ্ছে এই আয়োজনটির মধ্য দিয়েই। সেই ধারাবাহিকতা থাকছে এবারও।

ফোক ফেস্ট
শীতের রাতে চাদর মুড়ি দিয়ে লোকসঙ্গীত শুনছেন। চিত্রটি চোখের সামনে ভেসে উঠতেই হয়তো গ্রামের কোনো লোক গানের আসরে বসে আছেন। কিন্তু এই চিত্রের পরিবর্তনও হয়ে গেছে। গতবছর থেকে ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত হচ্ছে ‘ফোক ফেস্ট’। এখানেও আন্তর্জাতিক অনেক ফোকশিল্পীদের অংশগ্রহণে মুখরিত থাকে। ৩ দিনব্যাপী চলা এই উত্সবের প্রতিদিনই পরিপূর্ণ থাকে গ্যালারি। সারাদিনের ব্যস্ততার পর নগরী মেতে ওঠে এক অন্য সুরে, অন্য আমেজে। মঞ্চে একের পর এক শিল্পীর কণ্ঠের যাদুর মাদকতা ছড়িয়ে পড়ে।

ঢাকা লিট ফেস্ট
এই ফেস্টের ধরন খানিকটা ভিন্ন। বিভিন্ন দেশের সাহিত্যিকদের নিয়ে আয়োজন করা হয় এই উত্সবটি। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে এ বছরও অনুষ্ঠিত হবে ‘ঢাকা লিট ফেস্ট’। বিভিন্ন দেশের অতিথিদের নিয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি প্রতিদিনই মুখরিত থাকে তাদের এই অতিথিদের সমাগমে। এবারের উত্সবের মধ্যে খণ্ডখণ্ড নানা আয়োজন থাকছে। এই উত্সবে বাংলার আদি সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে মঞ্চস্থ হবে মনসা মঙ্গলের বিশেষ অংশ বেহুলার লাচারি। এই অংশটি মঞ্চায়নের জন্য টাঙ্গাইল থেকে আসছে যাত্রাদল। সৌজন্যে: ইত্তেফাক