Home » কালচারাল ট্যুরিজম » ফাগুনের রঙে বর্ণিল অমর একুশে গ্রন্থমেলা

ফাগুনের রঙে বর্ণিল অমর একুশে গ্রন্থমেলা

ফাগুনের রঙে বর্ণিল হয়ে উঠেছে অমর একুশে গ্রন্থমেলা। আজ পহেলা বসন্তে বইয়ের মহামিলনের এ গ্রন্থমেলায় পাঠক-দর্শনার্থীর বাহারি সাজ রঙের আবির ছড়িয়ে এনেছে প্রাণের দোলা।

গ্রন্থমেলার যেদিকে চোখ গেছে, সেদিকেই দেখা গেছে শুধু রঙ আর রঙ। যেন পুরো চত্বর জুড়ে বসেছে রঙেরই মেলা। নারীদের পরণে হলুদ, কমলা, বাসন্তিসহ নানা রঙের শাড়ি, খোপায় গাঁদা-গোলাপসহ নানা রঙের ফুল ও ফুলের রিং এবং কাঁচের চুড়ির ঝনঝনানিতে মুখর হয়ে ওঠে মেলা প্রাঙ্গণ। ছেলেরাও আজ মেলায় এসেছে হলুদসহ নানা রঙের পাঞ্জাবী পড়ে।

বসন্তের এ দিনে পাঠকদের বাড়তি আনন্দ ও নতুন বইয়ে অটোগ্রাফ দিতে একাধিক কথাসাহিত্যিকও এসেছেন মেলায়। ইমদাদুল হক মিলন, মুহম্মদ জাফর ইকবাল, মোহিত কামাল, কবি নূরুল হুদা প্রমুখ কবি-কথাসাহিত্যিকে মেলা চত্বরে পাঠকদের অটোগ্রাফ দিতে ব্যস্ত দেখা গেছে।

পরণে হলুদ শাড়ি আর মাথায় ফুলের টায়রা পরে বইমেলা ঘুরে বেড়াতে এসেছেন ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী তাহমিনা আক্তারকে। তিনি রাজধানীর গোপিবাগে থাকেন বলে বাসসকে জানান। আরো বলেন, কোনো প্ল্যানিং ছাড়াই তিনি হঠাৎ ঘর থেকে বের হয়ে এসেছেন। নগরীতে যানজট থাকা সত্ত্বেও সকাল থেকে অনেক জায়গায় ঘুরেছেন। এখন বই মেলায় এসেছেন। অনেকেই তার মতো বসন্তের সাজে সেজে এসেছে দেখে তার বেশ ভাল লাগছে বলেও তিনি জানান।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুনা বলেন, আজ ফালগুনের প্রথম দিন। তাই বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। বইমেলায় এসেছেন পছন্দের বই কিনতে। আজকে বাঙালীর অন্যরকম একটা দিন উল্লেখ করে তিনি বলেন, চারুকলায় বসন্ত উৎসবে বন্ধু-বান্ধব নিয়ে তিনি বেশ মজা করেছেন এবং জমিয়ে আড্ডা দিয়ে দিনটি কেটেছে বলেও তিনি জানান।

আজ মেলার ১৩তম দিনে নতুন বই এসেছে ৭১টি এবং ১৪টি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। আজ সবচেয়ে বেশি এসেছে কবিতার বই ২৭টি, গল্প ১১টি, উপন্যাস ৬টি উল্লেখযোগ্য।

আজ গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে মদনমোহন তর্কালঙ্কারের জন্মদ্বিশতবার্ষিকী শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রাবন্ধিক-গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক শফিঊল আলম। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ড. সফিউদ্দিন আহমদ এবং ড. রতন সিদ্দিকী।

সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, উনিশ শতকের প্রথম দিকে বাংলায় যে নবজাগরণের সূচনা হয় তাঁদের অন্যতম মদনমোহন তর্কালঙ্কার। তিনি ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী, সৃষ্টিশীল ও মননশীল। শিশুশিক্ষা থেকে নারীশিক্ষা ও উচ্চশিক্ষা সর্বক্ষেত্রেই রেখেছেন উল্লেখযোগ্য অবদান। সবমিলিয়ে তিনি একজন রেনেসাঁ-মানব।

সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক পর্বে সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী সুবীর নন্দী, জীনাত রেহানা, দীনাত জাহান মুন্নী, অনন্যা আচার্য্য এবং সঞ্জয় কুমার দাস। সৌজন্যে: বাসস