Home » হেলথ অ্যান্ড সেফটি » ডাবের পানি নিয়ে সত্য–মিথ্যা

ডাবের পানি নিয়ে সত্য–মিথ্যা

ডাবের পানি এশীয় দেশগুলোতে বেশ জনপ্রিয়। গরমে পিপাসা মেটাতে ও শক্তিদায়ক হিসেবে ডাবের পানি চমৎকার। তবে এটি নিয়ে নানা মিথও চালু রয়েছে। আসুন জেনে নিই এগুলো কতটা সত্য।

ডাবের পানিতে অনেক শক্তি?
ডাবের পানি দ্রুত পানিশূন্যতা দূর করে বলে পান করার পর বেশ ঝরঝরে লাগে এটা ঠিক, কিন্তু এতে ক্যালরি বা শক্তি যে খুব বেশি রয়েছে, তা নয়। ১০০ মিলিলিটার ডাবের পানিতে চিনি বা শর্করা আছে ২ দশমিক ৭ মিলিগ্রামের মতো, যা দোকানের বিভিন্ন জুস, ড্রিংকস বা কোমলপানীয়র চেয়ে অনেক কম। বাজারচলতি পানীয়র তুলনায় এতে ক্যালরির পরিমাণও কম। একে লো ক্যালরি ড্রিংকস বলা যায়। তাই ডাবের পানিতে অনেক শক্তি মিলবে, এটা ঠিক নয়। তবে এর শর্করার প্রায় পুরোটাই সহজ শর্করা, মানে দ্রুত রক্তে মিশে যেতে সক্ষম।

ডাবে অনেক পটাশিয়াম
এটা ঠিক যে ডাবের পানিতে পটাশিয়াম আছে। কিডনি রোগীদের ডাবের পানি কম খেতে বলা হয়। কিন্তু এর চেয়ে বেশি পটাশিয়াম আছে এমন খাবার কিন্তু তাঁরা দিব্যি খেয়ে ফেলেন। ১০০ মিলিলিটার ডাবের পানিতে পটাশিয়ামের পরিমাণ ১৮৫ মিলিগ্রাম। ওদিকে একটা কলায় ৪২২ মিলিগ্রাম, একটা আলুতে ৭১৫ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম রয়েছে। পটাশিয়াম কমলা ও টমেটোতেও কম নেই। তাই পটাশিয়ামের বিধিনিষেধ থাকলে ওগুলোর কথাও মাথায় রাখুন।

উচ্চরক্তচাপের রোগীর মানা
ডাবের পানিতে লবণ ও খনিজ আছে, অনেকটা স্যালাইনের মতো। তাই পান করলে রক্তচাপ বাড়বে, এমন ধারণাও আছে। এটা ঠিক নয়। কেননা ডাবের পানির লবণ মূলত পটাশিয়াম, সোডিয়াম নয়। আর পটাশিয়াম রক্তনালি প্রসারিত করে, বরং রক্তচাপ কমাতেই সাহায্য করে। সোডিয়াম উল্টোটা করে। তাই উচ্চরক্তচাপের রোগীর ডাবের পানি পান করতে মানা নেই।

ডাবের পানি পান করলে ওজন কমে
বাজারচলতি জুস ও ড্রিংকসের তুলনায় ডাবের পানির ক্যালরি কম, এটা সত্য, তাই বলে এটা একেবারে পানির মতো ক্যালরিমুক্ত, চিনিমুক্ত পানীয় নয়। তাই ওজন কমাবে, এমন ধারণার কোনো ভিত্তি নেই।
আখতারুন নাহার, পুষ্টিবিদ
সৌজন্যে: প্রথম আলো