Home » অ্যাডভেনচার ট্রাভেল » ভ্রমণ তালিকা থেকে যেন বাদ না যায় সাজেক
পাহাড়ের উপরে মেঘের এমন ছড়াছড়ি শুধু সাজেকেই দেখা যায়।

ভ্রমণ তালিকা থেকে যেন বাদ না যায় সাজেক

:: মুহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান ::
মেঘের চাদরে মোড়ানো পাহাড়। সবুজ বৃক্ষরাজি ঢেকে আছে ধবধবে সাদা কুয়াশায়। বিশাল বিশাল গাছপালা। অজগর সাপের মতো আঁকাবাঁকা আর উঁচু-নিচু রাস্তা। ভোরসকালে সূর্যোদয়ের দৃশ্য কোনটা নেই সাজেকে?

খাগড়াছড়ি শহর থেকে দীঘিনালা, তারপর বাঘাইহাট হয়ে সাজেক। পুরো রাস্তাটাই অপূর্ব। আশপাশের দৃশ্য বড় মনোরম। বেশির ভাগ সময় রাস্তাটাকে রোলার কোস্টারই মনে হয়।

সবুজে মোড়ানো প্রকৃতির মাঝে আঁকাবাঁকা সর্পিল পথ বেয়ে দুঃসাহসিক এই ভ্রমণ যেখানে ফুরাবে, সেটাই সাজেকের মূল কেন্দ্র। নাম রুইলুই পাড়া। ছবির মতো পথঘাঁট। পথের দুপাশে লাল-সবুজ রঙের বাড়ি। কাছে-দূরের সব পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে মেঘ জমে আছে।

আকাশ থেকে সাজেক ভ্যালি।

সেখান থেকে আরেকটু দূরে কংলাক পাড়া। টেনেটুনে ২০টি ঘর। হেঁটে যেতে লাগে আধঘণ্টা। সেখানে থেকে সাজেক ভ্যালির বড় অংশটা দেখা যায়।
সাজেকের আনন্দ বারান্দা বা খোলা জায়গায় বসে বা শুয়ে মেঘের আনাগোনা দেখা। হঠাৎ হঠাৎ এক টুকরো মেঘ অথবা বৃষ্টি এসে ভিজিয়ে দিয়ে যায়। বদলে যায় দৃশ্যপট। হঠাৎ হঠাৎ সব এমনই ফকফকা যে সীমান্তের ওপারে মিজোরামের লুসাই পাহাড়, পাহাড়ের ঘরবাড়ি, ঝরনা, মন্দির পর্যন্ত দেখা যায়। কিছুক্ষণ বাদেই হয়তো মেঘ এসে ঢেকে দেয় চারদিক।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন সাজেক
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বে ভারতের মিজোরাম ও ত্রিপুরা রাজ্যের সীমান্তে সাজেকের অবস্থিত। সাজেক স্থানীয় ও ঐতিহ্যবাহী নাম। রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার একটি ইউনিয়ন। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন এটি। অনেক উপজেলার চেয়েও এর আয়তনে বড়। এটির অবস্থান খাগড়িছড়ি জেলা থেকে উত্তর-পুর্ব দিকে। মুল সাজেক বলতে যে স্থানকে বুঝায় সেটি হলো ‘রুইলুই’ এবং ‘কংলাক’ নামের দুটি বসতি। স্থানীয় ভাষায় ‘পাড়া’। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা ১৮০০ ফুট। সাজেকে মূলত লুসাই, পাংখোয়া এবং ত্রিপুরা উপজাতি বসবাস করে। সাজেক থেকে ভারতের মিজোরাম সীমান্তের দূরত্ব ১০ কিলোমিটার।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিচালিত সাজেক রিসোর্ট।

পাংখোয়ারা চলে গেছে গহীনে
কংলাকে মূলত লুসাইদের বসবাস। ইদানিং কিছু ত্রিপুরা পরিবার সেখানে বসবাস করছে। চার বছর আগে কংলাকে গেলে অনেক পাংখোয়া আদিবাসী দেখা যেত। এখন তারা পাহাড়ে আরো গহীনে চলে গেছে। স্থানীয় লুসাইদের ভাষ্য, পাংখোয়ারা বেশি জনসমাগম পছন্দ করে না। কংলাক পাড়ায় বেশি পর্যটক আসা যাওয়া শুরু হওয়ার কারণে ওরা আরো গহীনে চলে গেছে।

চব্বিশ ঘণ্টায় সাজেকের তিন রূপ
সাজেক এমন একটি জায়গা যেখানে ভাগ্য ভালো হলে ২৪ ঘণ্টায় আপনি প্রকৃতির তিনটা রূপই দেখতে পারবেন। কখনো খুবই গরম একটু পরেই হটাৎ বৃষ্টি এবং তার কিছু পরেই হয়তো চারদিকে ঢেকে যাবে কুয়াশার চাদরে। রাতে এই দুর্গম পাহাড়ের চুড়ায় যখন সোলারের কল্যাণে বাতি জ্বলে উঠে তখন সৃষ্টি হয় অসাধারণ এক পরিস্থিতির। অনেক বাচ্চা রোড লাইটের নিচে বই নিয়ে বসে পড়ে। অথবা ওইটুকু আলোর ভিতরেই মেতে উঠে খেলায়।

পুরো সাজেককে একনজরে দেখতে হলে যেতে হবে রুলুই পাড়ায়।

যাওয়া-আসার পথেই হাজাছড়া ঝরনা
সাজেক যাওয়ার পথে দিঘীনালা থেকে আট কিলোমিটার দূরে দিঘীনালা-সাজেক রোডের পাশেই হাজাছড়া ঝরনা। মূল সড়ক থেকে ১০-১৫ মিনিট হাটলেই দেখা মেলে অপূর্ব এই ঝরনাটির।

তৈদুছড়া নামে আরো একটি অসাধারণ ঝরনা রয়েছে দিঘীনালায়। তবে এটি দেখতে হলে আলাদা করে একদিন সময় রাখতে হবে। দিঘীনালার জামতলি থেকে হেঁটে এই ঝরনায় যেতে আসতে সময় লাগবে প্রায় ৬-৭ ঘণ্টা। দিঘীনালা বাস স্টেশন থেকে ইজিবাইকে জামতলি যেতে পারবেন। এই ঝরনায় যাওয়ার সময় অবশ্যই সাথে পর্যাপ্ত শুকনো খাবার নিতে হবে। কারণ জামতলির পরে আর কোনো দোকান নেই। সাথে রাখতে হবে স্থানীয় কোনো গাইড। না হলে পথ হারানো যথেষ্ট ভয় আছে।

পুরো সাজেককে একনজরে দেখতে হলে যেতে হবে রুলুই পাড়ায়। রুইলুইয়ের চূড়ায় যাওয়ার পথ।

অ্যাডভেঞ্চার প্রিয়রা অবশ্যই দেখবেন কংলাক ঝরনা
কংলাক ঝরনা দেখতে নামতে হবে পাহাড়ের ঢালে। পেরুতে হবে ঝিরির পানিতে ঢাকা পাথুরে পথ। উপরের পরিবেশের সাথে নিচের পরিবেশের কোনো মিল নেই। রোমাঞ্চপ্রিয়দের ঘোরার জন্য এটি হতে পারে আদর্শ জায়গা। সাজেকে বেড়াতে এসে ‘ট্রেকিং টিম’গুলো একবার ঘুরে আসে কংলাক ঝরনায়। তবে অল্প কদিন হলো এখানে আসা যাওয়া করছেন ভ্রমণ প্রিয়রা।

এখানের পুরোটা পথ এখনও বন্য! সরু পথটা ক্রমাগত জঙ্গলে ঢাকা। কোনো রকমে পা ফেলে ফেলে পথ শেষ করতে হয়। পুরোটা পথ ঘন জঙ্গল আর প্রাচীন বৃক্ষে ঢাকা। বড় বড় লতা দেখে যে কারও মনে পড়ে যাবে টারজানের গল্প।

সাজেক রিসোর্টের সামনে লেখক।

পাহাড় বেয়ে পুরোটাই নামার পথ। উপর থেকে যতটা মসৃণ মনে হয়, ততই বন্ধুর মনে হবে এই পথে হাঁটতে এসে। বুনো পরিবেশে ট্রেকিং করে নিচে আসার পরই মিলবে শীতল পানির ঝিরি পথ।

অন্যসব ঝিরির মতো এটাও পাথরে ঠাঁসা। দুটি পাহাড়ের মাঝখানে বয়ে যাওয়া ঝিরির পথে ধরে কিছুদূর হাঁটার পর আরও সামনে ছোট-বড় পাথর ডিঙিয়ে দেখা যাবে পানির স্রোত বয়ে যাচ্ছে উপর থেকে অনবরত। নিঃশব্দের পাহাড়জুড়ে ঝিরির এমন পথ চলা সত্যিকারের বন্য স্বাদ এনে দেয় প্রকৃতিতে।

সাজেকে বিদ্যুৎ নেই। তাই সৌর বিদ্যুৎ দিয়ে সড়কে আলোর ব্যবস্থা। হোটেল রিসোর্টগুলোতে আলোর ব্যবস্থা সৌরবিদ্যুতের সাহায্যে।

উঁচু পাহাড়ে খাঁজ বেয়ে উপর থেকে দুভাগে পড়ছে ঝরনা। তীব্র শব্দ ঘিরে রাখবে এই অচেনা পরিবেশ। সুনসান নীরব পাহাড়ের মধ্যে একমাত্র শব্দ যেন এই পানির ধারা। অনবরত উপর থেকে বয়ে আসা এই পানির ¯্রােত বন্দি করে নেয় সবার নজর।

এই ঝরনায় যেতে হলে খুব সকালে সাজেক থেকে রওয়ানা দিতে হবে।

তিনটি হ্যালিপ্যাডের সৌন্দর্য তিন রকম
সাজেকে তিনটি হ্যালিপ্যাড আছে। তিনটির সৌন্দর্য তিন রকম। সূর্যোদয়ের অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে অবশ্যই হ্যালিপ্যাডে যাবেন। এছাড়া রুইলুই পাড়া হতে হেঁটে যাওয়া যায় কংলাক পাড়ায়। সেখানেও সূর্যোদয় উপভোগ করা যায়।

সাজেকের অধিকাংশ রিসোর্ট কাঠ-টিন-বাঁশের তৈরি।

সাজেকের কমলা বাংলাদেশের সেরা কমলা
সাজেকের কমলা বাংলাদেশের সেরা কমলা। সাজেক ইউনিয়নের ছয়নালছড়া, শিয়ালদাইলুই ও ব্যাটলিং মৌজার প্রতিটি পাহাড়ে চাষ হয় কমলার।
রুইলুইপাড়া থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে ছয়নালছড়া গ্রামে যাওয়ার পথটা সহজ নয়। সড়কের পাশে পাহাড় বেয়ে নামলেই দাড়িপাড়া গ্রাম। এরপর দেড় হাজার ফুট উঁচু আরো একটি পাহাড় বেয়ে নিচে নামলেই ছয়নালছড়া গ্রাম। পাহাড়ি পথ দিয়ে গ্রামটিতে হেঁটে যেতে সময় লাগতে পারে দেড় ঘণ্টা। সেখানে পাহাড়ের পাদদেশে ঢালু জায়গায় প্রতিটি টিলায় কমলার বাগান। এক একটি টিলায় দুইশ’ থেকে তিনশ’ কমলার গাছ রয়েছে। বাগানগুলো ব্যক্তি মালিকানাধীন। একইভাবে পাশের শিয়ালদাইলুই ও ব্যাটলিং মৌজায়ও রয়েছে কমলার প্রচুর বাগান। সবচেয়ে বেশি কমলা চাষ হয় ব্যাটলিং, তুইছুই, ছয়নালছড়া, লংকর ও মাচালং এলাকায়।

সাজেকের তাঁত শিল্প
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী রুইলুই পারার অধিবাসীদের জন্য একটা ছোট তাঁত শিল্প গড়ে দিয়েছে। সুন্দর সুন্দর গামছা, লুঙ্গী পাওয়া এখানে।
এছাড়া পর্যটন এলাকায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি জুনিয়র হাই স্কুল, একটি পাঠাগার, একটি গির্জা, একটি শিবমন্দির, একটি ক্লাব রয়েছে। নির্মাণ করা হয়েছে একটি পানির হাউস। এ হাউস থেকেই রুইলুইবাসী পানি সংগ্রহ করে থাকে।

সাজেকের একমাত্র মসজিদটির অবস্থান রুইলুই পাড়ার শেষ প্রান্তে বিজিবি ক্যাম্পের সামনে অবস্থিত।

সাজেক যেতে পুরো পথটাকে রোলার কোস্টারে যাত্রা বললে ভুল হবে না।

থাকতে হবে দুই দিন, যেতে হবে শীত ও বর্ষায়
সাজেকের সকালটা একরকম সুন্দর। বিকেলটা আবার অন্যরকম। রাতে চাঁদের আলোয় যদি সাজেকের সুনসান রাস্তায় হাঁটা না হয় তবে সাজেক ভ্রমণই বৃথা! সাজেকের সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে অন্তত দুইদিন থাকতে হবে। সাজেকে শুধুই ঘুরাঘুরির জন্য হলে শীতকাল যাওয়া সবচেয়ে ভালো। অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় হলে আর পাহাড়ের সত্যিকারের সৌন্দর্য দেখতে চাইলে যেতে হবে বর্ষাকালে। বর্ষার টুপটাপ বৃষ্টি, হাতের কাছে নেমে আসা মেঘ আর চারদিকের সবুজ মিলিয়ে সাজেক যেন পাহাড়ের রানী হয়ে উঠে। শীতের কুয়াশাঢাকা সাজেক আবার আলাদা রকম সুন্দর।

সাজেক রাঙ্গামাটিতে হলেও সহজ যাতায়াত খাড়গাছড়ি দিয়ে
সাজেকের অবস্থান রাঙ্গামাটি জেলায় হলেও খাগড়াছড়ি জেলা শহর দিয়ে যাতায়াত সহজ। ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ির দূরত্ব ৩১৬ কিলোমিটার। ছয়-সাত ঘণ্টায় পৌঁছে যাবেন খাগড়াছড়ি। রাতে রওয়ানা দিলে সকালে পৌঁছবেন আর সকালে রওয়ানা দিলে পৌঁছবেন বিকেলে।

ঢাকার কমলাপুর, ফকিরাপুল, আরামবাগ, সায়েদাবাদ, কল্যাণপুর, কলাবাগান থেকে খাগড়াছড়ির বাস পাওয়া যায়। শ্যামলী, শান্তি পরিবহন, ইকোনো, ঈগল, সৌদিয়া, সেন্ট মার্টিন, এস আলমসহ অনেকগুলো পরিবহনের সার্ভিস আছে খাগড়াছড়িতে। শান্তি পরিবহনে গেলে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা পর্যন্ত যাওয়া যাবে। অন্যান্য পরিবহন হলে খাগড়াছড়ি সদর পর্যন্ত। খাগড়াছড়ি থেকে পিকআপ, চান্দের গাড়ি বা সিএনজি রিজার্ভ করে যেতে হবে সাজেকে।

হাজাছড়া ঝর্নায় যেতে বাড়তি একদিনের সময় রাখতে হবে।

ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ি পর্যন্ত নন এসি অধিকাংশ গাড়ির ভাড়া ৫২০ টাকা। আর এসি গাড়ির ভাড়া ৯০০ টাকা। খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক পর্যন্ত দুই দিনের পিকআপ বা চান্দের গাড়ির ভাড়া ৭-৮ হাজার টাকা। তবে পর্যটন বেশি থাকলে এই ভাড়া ১২-১৩ হাজার পর্যন্ত হতে পারে। যাওয়া যাবে ১০-১২ জন। সিএনজির ভাড়া দরদাম করে নিতে হবে। এছারা মটর বাইক রয়েছে আপডাউন ৭০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়।

সেনাবাহিনী ও পুলিশ স্কট দিয়ে সাজক আসা-যাওয়া বাধ্যতামূলক
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামরিক প্রশাসন বাঘাইহাট থেকে সাজেকের রুইলুই পর্যন্ত সেনাবাহিনী ও পুলিশ স্কট দিয়ে আসা-যাওয়া বাধ্যতামূলক করেছে।

প্রতিদিন বেলা ১১টা ও সাড়ে ৩টায় বাঘাইহাট বাজার থেকে একসঙ্গে সেনাবাহিনীর প্রহরা নিয়ে সাজেকের উদ্দেশে রওনা দিতে হয়। সেনাবাহিনীর স্কট মাসালং সেনাক্যাম্প পর্যন্ত পৌঁছে দিলে সেখান থেকে পুলিশ সাজেক পৌঁছে দেয়। ঠিক ফেরত আসার সময়ও একই নিয়মে আসতে হবে।
এভাবে দুই থেকে তিনবার স্কট পরিবর্তন করতে পর্যটকদের দীর্ঘক্ষণ গাড়িতে বসে গরম রোদ সহ্য করতে হয়। এই গরম সহ্য করতে না পেরে কেউ কেউ বমি করতে পারে, কারো মাথাব্যথা হতে পারে, রক্তচাপ বাড়তে পারে। সুতরাং সাজেকে যাওয়ার আগে এ বিষয়গুলো মাথায় রেখে আগাম ব্যবস্থা নিয়ে গেলে ভালো।

দুর্গম সাজেকের প্রধান সমস্য বিদ্যুৎ ও পানি
সাজেক অনেক দুর্গম জায়গা। এখানে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। যাও আছে তা মূলত সৌর বিদ্যুৎ নির্ভর। উঁচু জায়গা বলে পানীয় জলের সংকট আছে। তাই খাওয়ার পানি সাথে নেয়া উচিত।

প্রচুর হলুদ উৎপাদন হয় সাজেকের এখানে সেখানে।

অধিকাংশ অধিকাংশ হোটেল-রিসোর্ট টিন ও বাঁশের তৈরি
রিসোর্ট রুনময় ও সাজেক রিসোর্ট ছাড়া সাজেকের অধিকাংশ হোটেল ও রিসোর্ট টিন, কাঠ ও বাঁশ দিয়ে তৈরি। আগে থেকে বুকিং দিয়ে তবেই সাজেকে যতে হবে। না হলে মাটি হয়ে যেতে পারে সাজেক ভ্রমণের আনন্দ।
রিসোর্ট রুনময়: এটি রুইলুই পাড়ার শেষ প্রান্তে অবস্থিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিচালিত একটি রিসোর্ট। রুম আছে পাঁচটি। রিসোর্ট রুনময়ের সামনেই আছে চারটি টেন্ট, প্রতিটিতে থাকা যায় চারজন। খাবার সরবরাহ করা রুনময় থেকে।
সাজেক রিসোর্ট: রুইলুই পাড়ার একেবারে কেন্দ্রে অবস্থিত সেনাবাহিনী পরিচালিত এই রিসোর্ট। রুম আছে চারটি।
রিসোর্ট রুনময়, সাজেক রিসোর্ট এবং টেন্ট বুকিং-এর সব তথ্য তাদের (ৎড়পশ-ংধলবশ.পড়স) ওয়েবসাইটে পাবেন।
আলো রিসোর্ট: এনজিও সংস্থা আলো পরিচালিত রিসোর্ট এটি। ছিমছাম এবং গোছানো একটি রিসোর্ট। অবস্থান রুইলুই পাড়ায় সাজেক রিসোর্টের সামনেই।
ক্লাব হাউজ: সেমি পাকা ঘরটি মূলত ওখানকার মানুষদের জন্য ক্লাব হিসেবে করে দিয়েছিলো সেনাবাহিনী। তবে পর্যটক বেশি হলে অথবা এমনিতেই কেউ থাকতে চাইলে এখানে থাকা যায়। বিছানাপত্র কেয়ারটেকারই দিবে। খাবারের ব্যাবস্থা বললে কেয়ারটেকার করে দিবে। স্টুডেন্ট অথবা যাদের থাকবার জন্য মোটামুটি একটা ব্যবস্থা হলেই হয় তারা রুইলুই-ক্লাব হাউজে থাকতে পারেন। এর সামনে ফাকা কিছু জায়গা আছে।
আরো আছে নিরিবিলি রিসোর্ট, জলবুক রিসোর্ট, মর্নিং স্টার রিসোর্ট, ইনামুয়েল রিসোর্ট, হানিমুন কটেজ, য়ারুং রিসোর্ট, সেনি লুসাই রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট।

বিস্তারিত জানতে ছবিতে ক্লিক করুন।

ক্যাম্পিংয়ের জন্য আগেই অনুমতি নিতে হবে
সাজেকে ক্যাম্পিংয়ের জন্য রুইলুই পাড়ায় অনেকগুলো সুন্দর স্পট রয়েছে। তবে ক্যাম্পিং করার আগে নিরাপত্তা বাহিনী থেকে আগেই অনুমতি নিতে হবে।

খাবার জন্য আগেই অর্ডার দিতে হবে
সাজেক রিসোর্ট, রিসোর্ট রুনময়, টেন্ট এবং আলো রিসোর্টে থাকলে খাবারের ব্যবস্থা রিসোর্ট থেকেই হবে। ক্লাব হাউজে থাকলে সেখানকার কেয়ারটেকারকে দিয়ে খাবারের ব্যাবস্থা করতে পারবেন। এছাড়া যারা ক্যাম্পিং করবেন বা বাইরে থাকবেন তারা মারুতি হোটেলসহ আরো দুএকটা আদিবাসী পরিচালিত হোটেলে খেতে পারবেন। কমপক্ষে দুই ঘণ্টা আগেই খাবারের অর্ডার দিতে হবে। খরচ হবে প্রতিবেলা ১৫০-২০০ টাকা। রিসোর্ট রুনময় এবং সেনাবাহিনী পরিচালিত ক্যান্টিনে অর্ডার করলেও তারা খাবার করে দেবে। তবে এখানে দাম তুলনামূলক একটু বেশি হবে।
এছাড়া আরো আছে নিরিবিলি রিসোর্ট, জলবুক রিসোর্ট, হানিমুন কটেজ, য়ারুং রিসোর্ট, সেনি লুসাই রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট ইত্যাদি।
মানুষ বেশি হলে আগেই খাবারের অর্ডার দিতে হবে। কম হলে ওইখানে গিয়েই দেয়া যাবে।

বিস্তারিত জানতে ছবিতে ক্লিক করুন।

সাজেকে যা করবেন না
সাজেকে যাওয়ার পথে বাচ্চাদের চকলেট বিলাবেন না। কারণ দুটি গাড়ি পাশাপাশি থাকলে আপনার গাড়ির থেকে ছিটানো চকলেট নিতে বাচ্চারা রাস্তার মাঝখানে চলে আসে। এতে দুর্ঘটনার ভয় থাকে। এমন হয়েছেও। আর আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখে পরলে অপমান হতে পারেন। এখন খেয়াল করলে দেখবেন প্রতিটা বাচ্চা হাত নারে, ঢিলও ছুড়ে। কারণ একটাই চকলেট। আমারা প্রতিনিয়ত তাদের অভ্যাস খারাপ করছি।
পাহাড়িদের পোশাক আমাদের মত নয়। তাই আপত্তিকর কিছু দেখলে অযথা তাকিয়ে থেকে হাসা-হাসি করবেন না।
সাজেকের অধিবাসীরা মুখের কথা খুবই বিশ্বাস করে। তাই তাদের বিশ্বাস রাখার চেষ্টা করবেন।
এখানে পানির যথেষ্ট সংকট রয়েছে। তাই ইচ্ছামত পানি খরচ করা যাবে না।

শেষকথা
সাজেকের রুইলুই পর্যটনকেন্দ্রটি মূলত একটি উপজাতি গ্রাম। গ্রামটিকেই পর্যটনকেন্দ্র ঘোষণা করে গ্রামের মাঝখানে সুউচ্চ সাজেক রিসোর্ট নির্মাণ করে পর্যটনে রূপ দেয়া হয়েছে। ত্রিপুরা ও লুসাই জনগোষ্ঠীরা এখানে ১৮০০ সাল থেকে বসবাস করে আসছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে এ পর্যটন এলাকায় দুটি গ্রাম (দক্ষিণ রুইলুই ও উত্তর রুইলুই) মিলে ৯০ ত্রিপুরা পরিবার ও ১৭ লুসাই পরিবারের বাস। পাংখোয়াদেরও কিছু পরিবার এখানে বাস করে। নামে রুইলুই পর্যটনকেন্দ্র হলেও এর বিস্তৃতি প্রায় দুই কিলোমিটার দূরের কংলকপাড়া পর্যন্ত। কংলক পাহাড়টি দর্শনার্থীদের আকর্ষণীয় একটি দর্শনীয় স্থান। পুরো এলাকাটি পরিচালনা করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

খাগড়াছড়ি থেকে দিঘীনালা হয়ে বাঘাইহাট, মাচালং পেরিয়ে মায়াবী সাজেক। মাইল হিসেবে দূরত্ব খুব বেশি না হলেও পুরোটা পথ জুড়ে সবুজ পাহাড় আর মেঘের কোল ঘেঁষে থাকায় প্রায় তিন ঘণ্টার রোমাঞ্চকর ভ্রমণের ক্লান্তি আর উত্তেজনার পরে সেই কাঙ্খিত ভ্যালি। ভ্রমণ তালিকা থেকে যেন বাদ না যায় সাজেক।