Home » ফিচার » পুঠিয়ার মন্দির আর রাজবাড়ি

পুঠিয়ার মন্দির আর রাজবাড়ি

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে রাজশাহী জেলার পুঠিয়ায় রয়েছে একটি ঐতিহাসিক রাজবাড়ি আর বেশ কয়েকটি নজরকাড়া মন্দির৷ পুঠিয়াকে মন্দিরের শহরও বলা হয়৷

শিব মন্দির
পুঠিয়া রাজবাড়ির প্রবেশমুখের পুকুর পাড়ে বিশাল আকারের এ মন্দিরের নাম শিব মন্দির৷ পুঠিয়ার রানি ভুবনমোহিনী দেবী ১৮২৩ সালে এটি প্রতিষ্ঠা করেন৷ চারদিকে ৬৫ ফুট দীর্ঘ এই শিব মন্দির একটি উঁচু ভিতের উপরে নির্মিত৷ চার কোণায় চারটি আর কেন্দ্রে একটি রত্ন আছে৷ মন্দিরের দোতলায় একটি মাত্র কক্ষ আর চারপাশে দুই স্তরে বারান্দা৷ মূল কক্ষের ভিতরে আছে কষ্টি পাথরের বিশাল এক শিবলিঙ্গ৷

বিশাল শিব মন্দির

এশিয়ার অন্যতম বড় শিব মন্দির হিসেবে খ্যাত পুঠিয়ার এই শিব মন্দির৷ এই স্থাপনার দেয়াল জুড়ে পৌরাণিক কাহিনি সম্বলিত নানান চিত্র খচিত আছে৷ এর পাশেই আছে গোল গম্বুজাকৃতির আরেকটি ছোট মন্দির৷

দোলমঞ্চ


শিব মন্দির থেকে সামান্য দক্ষিণে চারতলা বিশিষ্ট দোল মন্দির৷ দোলমঞ্চের আকারে মন্দিরটি ধাপে ধাপে উপরে উঠে গেছে৷ একদম উপরে আছে গম্বুজাকৃতির চূড়া৷ প্রত্যেক তলার চারপাশে টানা বারান্দা৷ ধরা হয় আনুমানিক নির্মাণকাল ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ দশকে, নির্মাণ করেছিলেন পুঠিয়ার আরেক রানি হেমন্তকুমারী দেবী৷

পুঠিয়া রাজবাড়ি


দোলমঞ্চের সামনের মাঠের দক্ষিণ প্রান্তে মুখোমুখী দাঁড়িয়ে থাকা বিশাল এই প্রাসাদই পুঠিয়া রাজবাড়ি৷ রানি হেমন্তকুমারী দেবী তাঁর শাশুড়ী মহারানি শরৎসুন্দরী দেবীর সম্মানার্থে ১৮৯৫ সালে নির্মাণ করেন এ রাজবাড়ি৷ লস্করপুর ডিগ্রি কলেজের একাডেমিক ভবন হিসেবে দীর্ঘ দিন ব্যবহৃত হওয়ায় এই প্রাসাদ অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে৷

গোবিন্দ মন্দির


পুঠিয়া রাজবাড়ির প্রাচীরের ভেতরে পোড়ামাটির অলংকরণে সমৃদ্ধ একটি মন্দির৷ বর্গাকারে নির্মিত এ মন্দিরের প্রত্যেক পাশের দৈর্ঘ্য ১৪ দশমিক ৬ মিটার৷ কেন্দ্রীয় কক্ষ ছাড়াও মন্দিরের চারপাশে বার্গাকার চারটি কক্ষ আছে৷ ২৫০ বছর পুরানো বলে প্রচলিত থাকলেও এর গায়ে চিত্রফলক দেখে ধারণা করা হয়, স্থাপনাটি ঊনবিংশ শতাব্দীতে নির্মিত৷

বড় আহ্নিক মন্দির


পুঠিয়া রাজবাড়ির পশ্চিম পাশে দিঘি৷ এর পশ্চিম তীরেই রয়েছে পূর্বমুখী বড় আহ্নিক মন্দির৷ কারুকার্য করা মন্দিরের নির্মাণ শৈলী বেশ আকর্ষণীয়৷

গোপাল মন্দির


বড় আহ্নিক মন্দিরের পাশে দক্ষিণমুখী অবস্থানে আছে গোপাল মন্দির৷ ১৬ দশমিক ৩০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১০ দশমিক ৪৭ মিটার প্রস্থের এ মন্দিরের উচ্চতা প্রায় ৮ মিটার৷

চার আনি জমিদার বাড়ি


পুঠিয়া রাজবাড়ির শ্যাম সরোবরের দক্ষিণ পাশের চার আনি জমিদার বাড়ি আর চার আনি কাছারি বাড়ি৷ তবে অযত্ন আর অবহেলায় ধ্বংসের শেষ প্রান্তে মূল্যবান এই বাড়ি দু’টি৷

রানি পুকুর


পুঠিয়া রাজবাড়ির পূর্ব পাশে এক একরের বিশাল পুকুরটির নাম রানি পুকুর৷ রাজবাড়ির সম্ভ্রান্ত মহিলাদের গোসলের জন্য রানি পুকুরের দেয়াল ঘেরা সান বাঁধানো ঘাট ভগ্নাবস্থায় এখনো টিকে আছে৷ পুঠিয়া রাজবাড়ির আশে পাশে এরকম আরো ছয়টি রাজদিঘি আছে৷ সৌজন্যে : ডয়েচেভেলে