Home » পপুলার ডেস্টিনেশন » সিলেট শহরের কিছু দর্শনীয় স্থান

সিলেট শহরের কিছু দর্শনীয় স্থান

হযরত শাহজালাল আর শাহপরাণের স্মৃতিধন্য সুরমা তীরের শহর সিলেট৷ ছোট্ট এই শহরে আছে দর্শনীয় অনেক জায়গা৷ শহর সিলেটের কিছু ভ্রমণস্থান দেখুন ছবিঘরে৷

লাক্কাতুরা চা-বাগান

সিলেট শহর থেকে বিমানবন্দর যেতে পথেই লাক্কাতুরা চা-বাগান৷ ন্যাশনাল টি কোম্পানির মালিকানাধীন এই চা-বাগান খুবই সুন্দর৷

মালনিছড়া চা-বাগান

বিমানবন্দর সড়কেই আরেক চা-বাগান মালনিছড়া৷ এটিই বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরানো চা-বাগান৷ ১৮৫৪ সালে ইংরেজ হার্ডসনের হাত ধরে যাত্রা শুরু এ বাগানের৷ টিলা ঘেরা এ চা-বাগানের ভেতরটা ছবির মতো সাজানো৷ প্রচুর বানর আছে এ বাগানে৷

হযরত শাহজালালের মাজার

সিলেট শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত৷ সুলতান শামসুদ্দীন ফিরোজ শাহের শাসনকালে ১৩০৩ সালে হযরত শাহজালালের হাতে এ অঞ্চল বিজিত হয়৷ সে সময়ে তুরষ্কের কুনিয়া শহর থেকে তিনি ইসলাম ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে ৩১৩ জন শিষ্যসহ এদেশে আসেন৷ ১৩৪০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি মৃত্যুবরণ করলে তাঁকে এখানেই সমাহিত করা হয়৷ মাজার কমপ্লেক্সের ভেতরে শত শত জালালী-কবুতর, পুকুর ভর্তি গজার মাছ ছাড়াও হযরত শাহজালালের ব্যবহৃত তলোয়ার রক্ষিত আছে৷

মাজার মসজিদ

হযরত শাহজালালের মাজার প্রাঙ্গণে প্রাচীন মসজিদ৷ বিভিন্ন সময়ে সংস্কারের ফলে মসজিদটি বর্তমানে আধুনিক রূপ নিলেও এটি সর্বপ্রথম নির্মাণ হয়েছিল ১৪০০ খ্রিষ্টাব্দে৷

হযরত শাহপরাণের মাজার

হযরত শাহপরাণ ছিলেন হযরত শাহজালালের ভাগ্নে৷ তিনিও ছিলেন একজন সাধক পুরুষ৷ শহরের পূর্ব দিকটায় দক্ষিণগাছের খাদিমপাড়ায় এই মাজার অবস্থিত৷ বিশাল বটগাছের ছায়াতলে এ মাজার৷ প্রতিদিন হাজার হাজার ভক্তের পদচারণায় মুখরিত থাকে পুরো মাজার এলাকা৷

সুরমা নদী

সিলেট শহরের দক্ষিণ পাশ দিয়ে বয়ে গেছে বাংলাদেশের অন্যতম নদী সুরমা৷ শহরের চাঁদনী ঘাট থেকে সুরমা নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়৷ তবে দিন দিন নদীটি দূষিত হয়ে পড়ায় এর সৌন্দর্যে ভাটা পড়ছে৷

আলী আমজদের ঘড়িঘর

ক্বিন ব্রিজের উত্তর পাড়ে সুরমা নদীর তীরের চাঁদনীঘাটে প্রাচীন ঘড়িঘর৷ এটি নির্মাণ করেছিলেন সিলেটের কুলাউড়ার পৃত্থিমপাশার জমিদার আলী আমজদ খান৷ দিল্লির চাঁদনীচকে শাহজাদী জাহানারা কর্তৃক নির্মিত ঘড়িঘর দেখে মুগ্ধ হয়ে তিনি এটি তৈরি করেছিলেন বলে কথিত আছে৷

ক্বিন ব্রিজ

সুরমা সেতু নামেও এটি বেশ পরিচিত৷ লোহার তৈরি এ সেতুটি ১৯৩৬ সালে নির্মাণ করা হয়৷ তৎকালীন ইংরেজ গভর্নর মাইকেল ক্বিনের নামে এর নামকরণ৷ ১১৫০ ফুট লম্বা এবং ১৮ ফুট প্রস্থ এ সেতুটি দেখতে ধনুকের মতো বাঁকানো৷ ১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনী ব্রিজটির একাংশ উড়িয়ে দেয়৷ পরে ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ রেলওয়ের অর্থায়নে বিধ্বস্ত অংশটি পুনঃনির্মাণ করা হয়৷

শুকতারা প্রকৃতি নিবাস

সিলেটের খাদিমনগরের উদ্দীনের টিলায় সবুজে ঘেরা প্রায় ৭ একর জায়গা জুড়ে সবুজ এক স্বর্গ শুকতারা প্রকৃতি নিবাস৷ সিলেট ভ্রমণে থাকার জন্য এ জায়গাটি উৎকৃষ্ট৷সৌজন্যে : ডয়েচেভেলে