Home » বাছাইকৃত » দু’হাত বাড়িয়ে অপেক্ষায় মায়াবী সিকিম (দ্বিতীয় পর্ব)

দু’হাত বাড়িয়ে অপেক্ষায় মায়াবী সিকিম (দ্বিতীয় পর্ব)

সিকিম নামটা এসেছে লিম্বু ভাষার ‘সু-হিম’ শব্দটি থেকে, এমনটা শোনা যায়। ‘সু-হিম’ শব্দের অর্থ হলো সুখের ঘর। বাস্তবিকই অনাবিল শান্তি আর সুখের ঘর হলো ছোট্ট রাজ্যটি। তবে আয়াতনে ছোট হলেও বৈচিত্রের দিক দিয়ে কিন্তু অসাধারণ দাবি রাখে এই জায়গা।

বিশ্বের তৃতীয় উচ্চতম শৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘাসহ অন্যান্য নামকরা তুষারশৃঙ্গের চোখধাঁধানো শোভা, তিস্তা-রঙ্গিতের মতো উচ্ছল নদীর সুন্দর গতিপথ, রুমটেক-রালং-পেমিয়াংশি প্রমুখ ঐতিহ্যশালী গুম্ফার সম্ভমজাগানো পরিবেশ, গুরুদোংমার-কুপুপ-ছাঙ্গু প্রভৃতি নজরকাড়া হ্রদের অপূর্ব দৃশ্য, কিংবা কাঞ্চনজঙ্ঘা-মেনবাস-ফ্যামব্রং প্রমুখ উদ্দাম ঝরনার রূপ যেন সিকিমের রূপলাবণ্যের মুকুটে যোগ করেছে একের পর এক সুন্দর পালক।

এছাড়া উল্লেখযোগ্য যা, তা হলো এখানকার মানুষ। লেপচা, ভুটিয়া, লিম্বু, রাই, তামাং প্রভৃতি উপজাতির মানুষ অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে মিলেমিশে বাস করছে যুগ-যুগ ধরে। ৫১৫ প্রজাতির অর্কিড ও ক্যাকটাস পাওয়া যায় গোটা রাজ্য জুড়ে।

সে কারণেই সিকিমের আরেক নাম ‘ল্যান্ড অব অর্কিড’। ফুল, ফল, পাখির স্বর্গরাজ্য এই সিকিমের দরজা, তাই পর্যটকদের কাছে সারা বছরই উন্মুক্ত থাকে, শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা-বসন্ত নির্বিশেষে। সূত্র: ভ্রমণ, আনন্দবাজার পত্রিকা

দু’হাত বাড়িয়ে অপেক্ষায় মায়াবী সিকিম (প্রথম পর্ব)
সিকিমের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
=======
সিক্কিম বা সিকিম ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি রাজ্য এবং উল্লেখযোগ্য পর্যটন কেন্দ্র। সিকিমের রাজধানী শহর গ্যাংটক। আয়তনে ভারতের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম প্রদেশ । এর উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তিব্বত, পূর্বে ভুটান, পশ্চিমে নেপাল এবং দক্ষিণে ভারতের অপর একটি রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ। সিকিম বাংলাদেশের নিকটবর্তী ভারতের শিলিগুড়ি করিডোরের কাছাকাছি অবস্থিত। সিকিম ভারতীয় রাজ্যগুলোর মধ্যে সর্বাপেক্ষা কম জনবহুল এবং আয়তনে দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম। পূর্ব হিমালয় অঞ্চলের একটি অংশ সিকিম, আল্পাইন এবং উপক্রান্তীয় জলবায়ুসহ এর জীব বৈচিত্র্যের জন্য উল্লেখযোগ্য এবং সেইসাথে সিকিমে অবস্থিত কাঞ্চনজঙ্ঘা ভারতের সর্বোচ্চ পর্বত শিখর এবং পৃথিবীতে তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বত শিখর। সিকিমের রাজধানী ও বৃহত্তম শহর গ্যাংটক। রাজ্যের প্রায় ৩৫% এলাকা কাঞ্চনজঙ্ঘা জাতীয় উদ্যান দ্বারা আচ্ছাদিত।

সিকিম রাজ্যটি ১৭ শতকের নামগিয়াল রাজবংশের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। রাজ্যটি চোগিয়াল নামে পরিচিত একজন বৌদ্ধ পুরোহিত রাজা দ্বারা শাসিত ছিল। ১৮৯০ সালে এটি ব্রিটিশ ভারতের অধীনে একটি জমকাল রাজ্য হয়ে ওঠে। ১৯৪৭ সালের পরে সিকিম ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের অঙ্গরাজ্য হিসাবে ছিল। হিমালয় অঞ্চলের রাজ্যগুলির মধ্যে সিকিমে সাক্ষরতার হার এবং মাথাপিছু আয় সবচেয়ে বেশি। ১৯৭৩ সালে চোগিয়ালের প্রাসাদের সামনে রাজতন্ত্র বিরোধী দাঙ্গা শুরু হয়। ১৯৭৫ সালে জনগণ সিকিমীয় রাজতন্ত্রকে দমন করে। ১৯৭৫ সালে গণভোটের পরে সিকিম ভারতবর্ষের ২২ তম রাজ্য হিসেবে যুক্ত হয়।

আধুনিক সিকিম একটি বহুজাতিক এবং বহুভাষী ভারতীয় রাজ্য। সিকিমের ১১টি সরকারি ভাষা রয়েছে: নেপালি, সিকিমিজ, লেপচা, তামাং, লিম্বু, নেওয়ারি, রায়, গুরুং, মগার, সুনওয়ার এবং ইংরেজী। ইংরেজি ভাষা স্কুলে পড়ানো হয় এবং সরকারি নথিতে ব্যবহৃত হয়। হিন্দুধর্ম এবং বজ্রায়ণ বৌদ্ধ ধর্ম হলো সিকিমের প্রধান ধর্ম। সিকিমের অর্থনীতি মূলত কৃষি ও পর্যটনের উপর নির্ভরশীল এবং ২০১৪ সালের হিসাবে ভারতীয় রাজ্যগুলির মধ্যে এই রাজ্যটির তৃতীয়-ক্ষুদ্রতম জিডিপি ছিল, যদিও এটি বর্তমানে দ্রুত বর্ধমান অবস্থার মধ্যে রয়েছে।

সিকিম ভারতের বৃহত্তম এলাচ উৎপাদক রাজ্য এবং গুয়াতেমালার পর এটি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলাচ উৎপাদক। ২০০৩ সাল থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে সিকিম, তার কৃষিকে সম্পূর্ণভাবে জৈব পদ্ধতিতে রূপান্তরিত করে প্রথম ভারতীয় রাজ্য হিসাবে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছে। এটি ভারতের সবচেয়ে পরিবেশগতভাবে সচেতন রাজ্য, যার ফলে প্লাস্টিকের জলের বোতল এবং স্টাইরোফোম ইত্যাদি পণ্য এখানে নিষিদ্ধ। সূত্র: উইকিপিডিয়া