Home » ডিটিসি ভ্রমণ বার্তা » কেমন হবে সিঙ্গাপুরের ‘অরণ্য নগরী’?

কেমন হবে সিঙ্গাপুরের ‘অরণ্য নগরী’?

নামেই শহর। আদতে জঙ্গল। আবার নাগরিক সব সুবিধাও থাকবে। থাকছে না কোনও যান্ত্রিক গাড়ি,শব্দদূষণ বা কারখানার ধোঁয়া। যেদিকে তাকাবেন, সবুজ ঘন জঙ্গল। এমন এক স্বপ্নপুরী বানাচ্ছে সিঙ্গাপুর। যেখানে মেইন রোডটাও কিনা থাকছে মাটির তলায়!

সিঙ্গাপুরের পশ্চিমের যে এলাকায় এই নগর গড়ে উঠছে এক সময়ে সেখানে সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। পাশেই বিস্তৃত তেনগা অরণ্য। আর এই জায়গাটিকেই একটি আদর্শ শহর গড়ে তুলতে বেছে নিয়ে দেশটির সরকার। প্রথম স্মার্ট ও দীর্ঘস্থায়ী শহর হতে চলছে দ্য তেনগা প্রজেক্ট নামের এই আলোচিত প্রকল্পটি। ৭ হাজার হেক্টর জমির উপর তৈরি করা হবে ৪২ হাজার ঘর-বাড়ি। অক্সিজেনের ভরপুর শহরের প্রকল্পটির নাম দেওয়া হয়েছে ফরেস্ট সিটি অর্থ্যাৎ ‘অরণ্য নগরী’।

এই শহর নিয়ে জনমনে দেখা দিয়েছে জল্পনা-কল্পনা। কেমন হতে চলছে স্বপ্নের নগরী। প্রকৃতির কোল ঘেঁষা শহরটিতে গাড়ি একেবারে থাকবে না তা নয়,যান চলাচল করবে মাটির নিচ দিয়েই। আর সবুজের মধ্যে সাইকেলে চড়ে অথবা হেঁটে বেড়ানোর সুযোগ থাকছে বাসিন্দাদের জন্য।

‘অরণ্য নগরী’তে থাকবে ৫টি বাসযোগ্য জেলা। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে নাম হবে গার্ডেন,পার্ক, ব্রিকল্যান্ড,ফরেস্ট হিল এবং প্ল্যান্টেশন। এই ৫টি এলাকার পরিকল্পনা করা হয়েছে নাগরিকদের সুস্থ জীবনযাপনের কথা মাথায় রেখে। নগরীর মাঝ বরাবর থাকছে ১০০ মিটার প্রশস্ত বন। থাকছে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের ব্যবস্থাও।

সিঙ্গাপুরের আবাসন এবং উন্নয়ন বিষয়ে তত্ত্বাবধানকারী বোর্ড জানিয়েছে, প্রযুক্তির সাহায্যে শহরটির প্রতিটি বাড়ি এমনভাবে তৈরি করা হবে, যেন প্রাকৃতিক হাওয়া নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়। গোটা শহরে একটিই কেন্দ্রীয় তাপ নিয়ন্ত্রণকারী ব্যবস্থা থাকবে। যা শহরের প্রতিটি বাড়ির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করবে। দূষণ প্রতিরোধে থাকছে স্বয়ংক্রিয় বর্জ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা। প্রতিটি বাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহ হয়ে তা বিশেষ প্রক্রিয়ায় পাঠিয়ে দেওয়া হবে মাটির নীচে। এতে পরিবেশের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই।

তবে এত পরিকল্পনার মাঝে তেনগার অরণ্য নগরী সবুজায়নের লক্ষ্যে বন ধ্বংসের অভিযোগ উঠেছে সরকারের বিরুদ্ধে। বিশাল বনভূমিতে গড়ে উঠছে এই অরণ্য নগরী। তাই কাটা হচ্ছে প্রচুর গাছ। এ নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন সিঙ্গাপুরের বন সংরক্ষণ আন্দোলনকারীরা। তাদের অভিযোগ, তেনগায় যে সবুজ শহর গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা সাধারণ মানুষের জন্য একটি নিষিদ্ধ শহরে পরিণত হতে চলেছে। অনেকে বলছেন, অরণ্য ধ্বংস করে আধুনিক সুযোগ-সুবিধার যে ব্যবস্থা এখানে থাকবে, তা হবে অনেক ব্যয় বহুল। যে খরচ সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরেই থাকবে। সৌজন্যে: বাংলা ট্রিবিউন।